BCS Bangla Lecture – 7

প্রধান বাংলা সাহিত্যিক (রবীন্দ্রনাথ পরবর্তী থেকে বর্তমান), নমুনা প্রশ্ন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)

বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, সুরস্রষ্টা, গায়ক, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা, সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ। মূলত কবি হিসেবেই তার প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। তিনি বাংলা ছোটগল্পের জনক। ১৮৬১ সালে ৭ মে (২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ) তিনি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪১ সালে ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর; মাতা সারদা দেবী; স্ত্রী মৃণালিনী দেবী। পারিবারিকভাবে তিনি ব্রাহ্মণ ধর্মাবলম্বী ছিলেন। ছদ্মনাম ‘ভানুসিংহ’। ১৩ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’ কলকাতার ‘অমৃতবাজার’ পত্রিকায় প্রকশিত হয়।

১৮৯১ সালে তিনি ‘সাধনা’ নামে একটি মাসিকপত্র প্রকাশ করেন। ১৮৯৮ সালে জমিদারি দেখাশোনা করার জন্য প্রথম তিনি বাংলাদেশে (কুষ্টিয়ার শিলাইদহ) আসেন। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ নামক ইংরেজিতে অনূদিত কবিতা সংকলনের জন্য এশীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ ‘Song Offerings’ নামে প্রকাশিত হয়। ইংরেজ কবি W B Yeats গীতাঞ্জলি কাব্যের ভূমিকা লেখেন। ১৯১৫ সালে তিনি ব্রিটিশদের দেওয়া ‘নাইট’ উপাধি লাভ করেন। ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করেন। ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে।

তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্য ‘বনফুল’ এবং প্রথম রচিত কাব্য ‘কবি-কাহিনী’। প্রথম রচিত উপন্যাস ‘করুণা’ এবং প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘বউ ঠাকুরাণীর হাট’। তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘ভিখারিনী’। তাঁর ‘দেনাপাওনা’ গল্পটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প এবং সর্বশেষ ছোটগল্প ‘মুসলমানীর গল্প’। প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ ‘বিবিধ প্রসঙ্গ’। প্রথম প্রকাশিত নাটক ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’। প্রথম প্রকাশিত গীতিনাট্য ‘বাল্মীকি প্রতিভা’। ‘ছড়া’ ও ‘শেষ লেখা’ নামক দুটি কাব্য তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: বনফুল, কবি-কাহিনী, শেষ লেখা, বলাকা, কড়ি ও কোমল, মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, কল্পনা, ক্ষণিকা, গীতাঞ্জলি, চৈতালী, পূরবী, মহুয়া, পুনশ্চ, আরোগ্য, জন্মদিনে, খেয়া, নৈবেদ্য, গীতালি, শ্যামলী
  • উপন্যাস: শেষের কবিতা (কাব্যধর্মী), গোরা (রাজনৈতিক), বৌ ঠাকুরাণীর হাট ও রাজর্ষি (ঐতিহাসিক), ঘরে বাইরে, দুইবোন, যোগাযোগ, চোখের বালি, চতুরঙ্গ, মালঞ্চ, চার অধ্যায়, নৌকাডুবি, করুণা
  • নাটক: চিত্রাঙ্গদা ও বিসর্জন (কাব্যনাট্য), চণ্ডালিকা, শ্যামা ও মালিনী (চিত্রনাট্য), বাল্মিকী প্রতিভা (গীতিনাট্য), নটীর পূজা (নৃত্যনাট্য), প্রায়শ্চিত্ত (ঐতিহাসিক), রক্তকরবী, বসন্ত, রাজা, ডাকঘর, কালের যাত্রা, প্রকৃতির প্রতিশোধ, ফাল্গুনী, তাসের দেশ
  • প্রহসন: চিরকুমার সভা (সামাজিক), বৈকুণ্ঠের খাতা, শেষ রক্ষা
  • গল্পগ্রন্থ: গল্পগুচ্ছ, গল্পসল্প
  • প্রেমের গল্প: একরাত্রি, সমাপ্তি, নষ্টনীড়, দৃষ্টিদান, ল্যাবরেটরি
  • সামাজিক গল্প: দেনাপাওনা, কাবুলিওয়ালা, ছুটি, হৈমন্তী, পোস্টমাস্টার, পণরক্ষা, অপরিচিতা
  • অতিপ্রাকৃত গল্প: ক্ষুধিত পাষাণ, জীবিত ও মৃত

প্রবন্ধগ্রন্থ:

  • সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ: প্রাচীন সাহিত্য, লোকসাহিত্য, আধুনিক সাহিত্য, সাহিত্যের স্বরূপ
  • ভাষাতত্ত্বমূলক প্রবন্ধ: শব্দতত্ত্ব, বাংলা ভাষা পরিচয়
  • রাজনৈতিক প্রবন্ধ: কালান্তর, সভ্যতার সংকট
  • অন্যান্য প্রবন্ধ: বিচিত্র প্রবন্ধ, পঞ্চভূত, মানুষের ধর্ম, আত্মশক্তি
  • আত্মজীবনীমূলক প্রবন্ধ: জীবনস্মৃতি, আত্মপরিচয়
  • পত্রসাহিত্য: ছিন্নপত্র, ভানুসিংহের পত্রাবলি
  • ভ্রমণকাহিনী: য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র, জাপান যাত্রী, রাশিয়ার চিঠি
  • বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ: বিশ্বপরিচয়
  • গানের সংকলন: গীতবিতান

প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)

প্রাবন্ধিক, কবি ও চলিত বাংলা গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ১৮৬৮ সালে ৭ আগস্ট যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৬ সালে ২ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস পাবনায়। সাহিত্যক্ষেত্রে তিনি মননশীল প্রবন্ধ লেখক হিসেবে খ্যাত। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড়ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন। তিনি ‘বীরবল’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

তিনি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত ‘সবুজপত্র’ মাসিক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। সবুজপত্রকে কেন্দ্র করে ‘চলিতরীতি’ বাংলা গদ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। চলিতরীতিতে লেখা বাংলা সাহিত্যে প্রথম ও তাঁর রচিত প্রথম গদ্য ‘বীরবলের হালখাতা’ (১৯১৬) সবুজপত্র ও ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তিনি বাংলা কাব্যসাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তক। তিনি নিজস্ব ধারায় সনেট রচনা করেছেন। তাঁর অধিকাংশ ছোটগল্প ‘নীললোহিত’ ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়েছে।

সাহিত্যকর্ম

  • প্রবন্ধগ্রন্থ: তেল নুন লাকড়ি (১৯০৬), বীরবলের হালখাতা, আমাদের শিক্ষা, রায়তের কথা
  • কাব্য: সনেট পঞ্চাশৎ (১৯১৩), পদচারণ
  • গল্পগ্রন্থ: চার ইয়ারী কথা (১৯১৬), আহুতি, নীললোহিত

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬-১৯৩৮)

ঔপন্যাসিক ও অপরাজেয় কথাশিল্পী। তিনি ১৮৭৬ সালে ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩৮ সালে ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।১৯০৩ সালে তার প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘মন্দির’ এর জন্য তিনি ‘কুন্তলীন পুরস্কার’ পান। ১৯০৭ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘বড়দিদি’ ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তাঁর সাহিত্যখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি তার বড়বোন অনিলা দেবীর ছদ্মনামে ‘নারীর মূল্য’ (১৯২৩) গ্রন্থটি রচনা করেন। তাঁর ‘পথের দাবী’ (১৯২৬) উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়। ১৯৩৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জন করেন। তার রচিত শ্রেষ্ঠ ও আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘শ্রীকান্ত’ (৪ খন্ড)। এ উপন্যাসের চরিত্র ‘ইন্দ্রনাথ’ বাংলা সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ কিশোর চরিত্র।

সাহিত্যকর্ম

  • প্রবন্ধগ্রন্থ: তরুণের বিদ্রোহ, স্বদেশ ও সাহিত্য, নারীর মূল্য
  • গল্পগ্রন্থ: মেজদিদি, রামের সুমতি, পরিণীতা, বৈকুণ্ঠের উইল, বিন্দুর ছেলে, নিষ্কৃতি, অরক্ষণীয়া
  • বিখ্যাত ছোটগল্প: মহেশ (সার্থক ছোটগল্প), মন্দির, বিলাসী, মামলার ফল, অভাগীর স্বর্গ
  • উপন্যাস: শেষের পরিচয় ও শুভদা (মরণোত্তর প্রকাশিত), গৃহদাহ (১৯২০; এ গ্রন্থে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে), দেবদাস (১৯১৭), বড়দিদি, শ্রীকান্ত, পথের দাবী, পল্লীসমাজ, দত্তা, শেষপ্রশ্ন, চরিত্রহীন, দেনা-পাওনা, বিরাজ বৌ, পন্ডিতমশাই, বামুনের মেয়ে, চন্দ্রনাথ, বিপ্রদাস
  • নাটক: ষোড়শী, রমা, বিজয়া

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২)

সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক ও বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি ১৮৮০ সালে ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর থানার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালে ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস পালন করা হয়। প্রথমে তিনি ‘মিসেস আর এস হোসেন’ নামে সাহিত্যচর্চা করতেন। ১৯০২ সালে কলকাতার ভাগলপুরে থাকা অবস্থায় ‘পিপাসা’ নামক একটি গল্প লেখার মাধ্যমে তার সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।

তাঁর লেখাগুলো নবনূর, সওগাত ও মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হত। ১৯০৯ সালে তিনি কলকাতার ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৬ সালে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি কলকাতায় ‘আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম’ (মুসলিম মহিলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন।

সাহিত্যকর্ম

  • প্রবন্ধগ্রন্থ: মতিচুর (প্রথম খন্ড ১৯০৪; দ্বিতীয় খন্ড ১৯২২), অবরোধবাসিনী (১৯৩১; শ্রেষ্ঠ রচনা)
  • উপন্যাস: পদ্মরাগ (১৯২৪), Sultana’s Dream (১৯০৮, প্রথমে ইংরেজিতে লিখে নিজেই ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে অনুবাদ করেন)

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫-১৯৬৯)

বহুভাষাবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। তিনি ১৮৮৫ সালে ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বশিরহাট মহাকুমার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬৯ সালে ১৩ জুলাই ঢাকায় পরলোক গমন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল চত্বরে তাকে সমাহিত করা হয়। শহীদুল্লাহ হলের পূর্ব নাম ছিল ‘ঢাকা হল’। তিনি মূলত ভাষাবিজ্ঞানী। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে তিনি প্রথম সংস্কৃত ভাষা আয়ত্ত্ব করেন এবং তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রথম এম.এ. পাশ করেন।

১৯২১ সালে ২ জুন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে যোগ দেন। ১৯৬০ সালে বাংলা একাডেমিতে যোগ দেন। তিনি বাংলা একাডেমি ‘বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ সম্পাদনা করেন। ১৯৬০ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলা পঞ্জিকা সংস্কার করেন। ১৯৭৭ সালে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মরণোত্তর সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধি দেওয়া হয়।

১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করেন। তার সম্পাদিত পত্রিকা: আঙ্গুর (১৯২০, বাংলা ভাষার প্রথম শিশুপত্রিকা), বঙ্গভূমি (মাসিক সাহিত্য পত্রিকা), তকবির (পাক্ষিক পত্রিকা)। তিনি প্রথম চর্যাপদের ধর্মমত নিয়ে আলোচনা করেন এবং চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত এটা প্রথম প্রমাণ করেন।

সাহিত্যকর্ম

  • গবেষণা ও প্রবন্ধগ্রন্থ: বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৫৯), বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খন্ড), ভাষা ও সাহিত্য, Eassy on Islam (১৯৪৫), Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১; আবদুল হাই সহযোগে)
  • অনুবাদ: দিওয়ান-ই-হাফিজ, রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম, শিকওয়াহ ও জওয়াবে শিকওয়াহ
  • সম্পাদিত গ্রন্থ: বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান (১৯৬৫), পদ্মাবতী, বিদ্যাপতি শতক
  • জীবনীগ্রন্থ: ইকবাল, প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষনবী, অমরকাব্য
  • গল্পগ্রন্থ: রকমারি
  • ব্যাকরণ: বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৩৬)

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৮৯০-১৯৭৭)

ভাষাবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। তিনি ১৮৯০ সালে ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৭ সালে ২৯ মে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মূলত ভাষাবিজ্ঞানী। ১৯১৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি লেকচারার পদে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।

সর্বপ্রথম তিনি চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কে স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করেন এবং চর্যাপদের ভাষাকে বাংলায় প্রতিপন্ন করেন। ১৯২১ সালে বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ সম্বন্ধীয় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘The Origin and Development of Bengali Language (ODBL) প্রকাশিত হয়। এটি প্রকাশের পরপরই তার সাহিত্যখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন।

সাহিত্যকর্ম

  • গবেষণা ও গ্রবন্ধগ্রন্থ: বাংলা ভাষাতত্ত্বর ভূমিকা (১৯২৯), ভারত সংস্কৃতি, পশ্চিমের যাত্রী, রবীন্দ্র সঙ্গমে, The Origin and Development of Bengali Language (১৯২১)
  • ব্যাকরণ: ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৪৫)

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০)

কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৮৯৪ সালে ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৫০ সালে ১ সেপ্টেম্বর ব্যারাকপুরের ঘাটশীলা নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস চব্বিশ পরগণা জেলার ব্যারাকপুর গ্রামে। তিনি মূলত ঔপন্যাসিক। পেশায় ছিলেন স্কুলশিক্ষক। তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু প্রকৃতি ও দরিদ্র মানুষের জীবন। পথের পাঁচালী (১৯২৯) ও অপরাজিত (১৯৩১) উপন্যাস তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসটি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়। সত্যজিৎ রায় এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

সাহিত্যকর্ম

  • উপন্যাস: পথের পাঁচালী, অপরাজিত, দৃষ্টিপ্রদীপ, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, দেবযান, ইছামতী, চাঁদের পাহাড়, অভিযাত্রিক
  • গল্পগ্রন্থ: মেঘমাল্লার, মৌরীফুল, যাত্রাবদল, কিন্নরদল, ছায়াছবি
  • আত্মজীবনী: তৃণাঙ্কুর , স্মৃতির রেখা
  • ভ্রমণকাহিনী: বনে পাহাড়ে, হে অরণ্য কথা কও

গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪)

কবি ও লেখক। তিনি ১৮৯৭ সালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬৪ সালে ১৩ অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পেশা ছিল শিক্ষকতা। তিনি মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত কবি হিসেবে পরিচিত। তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে উর্দুকে সমর্থন করেন। তাঁর কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু ইসলামি চেতনা ও প্রেম। ১৯২৪ সালে তাঁর প্রথম কাব্য ‘রক্তরাগ’ প্রকাশিত হয়। তিনি ১৯৫২ সালে যশোর সাহিত্য সংঘ কর্তৃক ‘কাব্যসুধাকর’ এবং ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: রক্তরাগ, কাব্য-কাহিনী, সাহারা, হাসনাহেনা, বুলবুলিস্তান, বনিআদম
  • প্রবন্ধগ্রন্থ: ইসলাম ও কমিউনিজম, আমার চিন্তাধারা
  • উপন্যাস: রূপের নেশা, ভাঙাবুক
  • জীবনীগ্রন্থ: বিশ্বনবী (১৯৪২, তাঁর বিখ্যাত রচনা), মরুদুলাল

জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪)

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ধানসিঁড়ি নদীর তীরে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ সালে ২২ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ট্রামের নিচে পড়ে আহত হন এবং হাসপাতালে মারা যান। তাঁর আদি নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন সেকালের বিখ্যাত কবি।

কর্মজীবনে তিনি কলকাতা সিটি কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯২৭ সালে তার প্রথম কাব্য ‘ঝরা পালক’ প্রকাশিত হয়। ১৯৪৭ সালে তিনি ‘দৈনিক স্বরাজ’ পত্রিকার সাহিত্য বিভাগ সম্পাদনা করেন। তাঁর মৃত্যুর পরে বিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন। তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম। তাকে ‘ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি ও রূপসী বাংলার কবি’ বলা হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কবিতাকে বলেছেন চিত্ররূপময় কবিতা। বুদ্ধদেব বসু তাকে বলেছেন নির্জনতম কবি। তিনি এডগার এলান পো রচিত ‘টু হেলেন’ কবিতা অবলম্বনে ‘বনলতা সেন’ নামক বিখ্যাত কবিতাটি রচনা করেন। ক্লিনটন বি সিলি জীবনানন্দ দাশের উপর গবেষণা করেছেন।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্যগ্রন্থ: বনলতা সেন (১৯৪২), রূপসী বাংলা (১৯৫৭), ঝরাপালক, ধূসর পান্ডুলিপি, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, বেলা অবেলা কালবেলা
  • উপন্যাস: মাল্যবান (১৯৭৩), সুতীর্থ (১৯৭৪), কল্যাণী (১৯৯৯)
  • প্রবন্ধগ্রন্থ: কবিতার কথা

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬)

কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, সুরস্রষ্টা, অভিনেতা ও দার্শনিক। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি ও মুসলিম রেনেসাঁর কবি। ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (বাংলা ১৩০৬ সনের ১১ জৈষ্ঠ্য) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৬ সালের ২৯ আগষ্ট (বাংলা ১৩৮৩ সনের ১২ ভাদ্র) ঢাকার পি.জি. হাজপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদপ্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়। তার উপাধি ‘বিদ্রোহী কবি’।বাল্যনাম দুখু মিয়া ও তারাখ্যাপা। ছদ্মনাম ধূমকেতু ও ব্যাঙাচি। আধুনিক বাংলা গানের জগতে তিনি ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। তার পিতা কাজী ফকির আহমেদ; মাতা জাহেদা খাতুন। স্ত্রী আশালতা সেনগুপ্তা; ডাকনাম দুলি; বিবাহোত্তর নাম প্রমীলা।

বাল্যকালে লেটো গানের দলে যোগ দেওয়ার পর থেকে তার কবি ও শিল্পী জীবনের যাত্রা শুরু হয়। ১৯১৯ সালে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা ‘মুক্তি’ প্রকাশিত হয়। ১৯২২ সালে সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হলে তাঁর কাব্যখ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯২২ সালে ধূমকেতু পত্রিকায় ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা প্রকাশিত হওয়ার জন্য তিনি গ্রেফতার হন এবং আদালত তাঁকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে।

তাঁর সাহিত্যচর্চার সময় মাত্র ২৩ বছর (১৯১৯-১৯৪২)। ১৯৪২ সালে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ১৯৭২ সালে ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কলকাতা থেকে প্রথম তাঁকে স্বপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি-লিট ডিগ্রি দেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালে জাতীয় কবির মর্যাদা, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) এবং প্রথম কবিতা ‘মুক্তি’। প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধনহারা’। প্রথম নাটক ‘ঝিলিমিলি’। প্রথম গল্প ‘বাউন্ডুলের আত্মকথা’। প্রেমমূলক রচনা ‘শিউলীমালা’। প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ ‘যুগবাণী’। প্রথম প্রবন্ধ ‘তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা’। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুতে ‘রবিহারা’ কবিতাটি রচনা করেন এবং ‘সঞ্চিতা’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেন। ব্রিটিশ সরকার তার অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয়শিখা, যুগবাণী ও চন্দ্রবিন্দু এ গ্রন্থগুলোকে বাজেয়াপ্ত করে।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: ঝিঙেফুল ও সাত ভাই চম্পা (শিশুতোষ কাব্য), চিত্তনামা ও মরুভাস্কর (জীবনীকাব্য), অগ্নিবীণা, দোলনচাঁপা, সিন্ধুহিন্দোল, বিষের বাঁশি, ছায়ানট, ভাঙার গান, প্রলয়শিখা, পুবের হাওয়া, সর্বহারা, চক্রবাক, জিঞ্জির, সন্ধ্যা, সওগাত, সাম্যবাদী, ফণিমনসা।
  • উপন্যাস: কুহেলিকা, বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা
  • গল্পগ্রন্থ: ব্যাথার দান, রিক্তের বেদন, শিউলীমালা
  • নাটক: আলেয়া, ঝিলিমিলি, পুতুলের বিয়ে, মধুমালা
  • প্রবন্ধ: রাজবন্দীর জবানবন্দী, যুগবাণী, দুর্দিনের যাত্রী, রুদ্রমঙ্গল
  • অনূদিত গ্রন্থ: রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ, রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম, কাব্যে আমপারা
  • সঙ্গীতগ্রন্থ: বুলবুল, গুলবাগিচা, চন্দ্রবিন্দু, জুলফিকার, চোখের চাতক, গীতি শতদল, সুরলিপি
  • সম্পাদিত পত্রিকা: লাঙল, গণবাণী, নবযুগ, ধূমকেতু

জসিম উদ্দিন (১৯০৩-১৯৭৬)

কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি বাংলাদেশের ‘পল্লীকবি’ হিসেবে পরিচিত। ১৯০৩ সালে ১ জানুয়ারি তিনি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৬ সালে ১৩ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। তিনি ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের লেকচারার নিযুক্ত হন। কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় তার ‘কবর’ কবিতা মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়। ‘কবর’ কবিতাটি প্রথম ‘কল্লোল’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭)। একমাত্র উপন্যাসের ‘বোবা কাহিনী’ (১৯৬৪)। শ্রেষ্ঠ রচনা ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ (১৯২৯)। এটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়। ‘Field of the Embroidered Quilt’ নামে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। অনুবাদকের নাম ই.এম. মিলফোর্ড।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: নকশী কাঁথার মাঠ (কাহিনীকাব্য), সুচয়িনী (কাব্য সংকলন), রাখালী, সোজন বাদিয়ার ঘাট, বালুচর, ধানক্ষেত, মাটির কান্না, মা যে জননী কান্দে, কাফনের মিছিল, রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
  • স্মৃতিকথা: যাদের দেখেছি, ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
  • আত্মজীবনী: জীবন কথা
  • ভ্রমণকাহিনী: চলে মুসাফির, হলদে পরীর দেশে, যে দেশে মানুষ বড়
  • নাটক: পদ্মাপাড়, বেদের মেয়ে, মধুমালা, পল্লীবধূ
  • শিশুতোষ গ্রন্থ: হাসু, এক পয়সার বাঁশি, ডালিম কুমার
  • উপন্যাস: বোবা কাহিনী

সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪)

ঔপন্যাসিক, গল্পকার, অনুবাদক, রম্যরচয়িতা ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯০৪ সালে ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার করিমগঞ্জে পিতার কর্মস্থলে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৪ সালে ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান রম্যলেখক। রসালো গল্পরচনায় তিনি বেশ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তিনি ‘সত্যপীর’ ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করেন। কর্মজীবন শুরুতে তিনি আফগানিস্তানের কাবুল শহরের শিক্ষাদপ্তরে অধ্যাপনা করেন। ১৯২৬ সালে তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সেখানেই সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বহু দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন।

সাহিত্যকর্ম

  • রম্যরচনা: পঞ্চতন্ত্র, ময়ূরকণ্ঠী
  • উপন্যাস: অবিশ্বাস্য, শবনম
  • গল্পগ্রন্থ: চাচা কাহিনী (১৯৫২), টুনি মেম
  • বিখ্যাত গল্প: রাজা উজির, ধূপছায়া, পাদটীকা, রসগোল্লা
  • ভ্রমণকাহিনী: দেশে বিদেশে (১৯৪৯, কাবুল শহরের কাহিনী)

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬)

কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯০৮ সালে ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগণার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৬ সালে ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের (বর্তমান মুন্সিগঞ্জ) মালবদিয়া গ্রামে। তাঁর পিতৃদত্ত নাম প্রবোধকুমার; ডাক নাম মানিক। বিজ্ঞানমনষ্ক লেখক হিসেবে তাঁর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। লেখালেখিই ছিল তার পেশা; এ জন্য তাকে ‘কলমপেশা মজুর’ বলা হয়। বিশ শতকের ত্রিশের দশকে রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্র ধারার বিরোধিতা করে যে কল্লোল গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে, তিনি সেই কল্লোল গোষ্ঠীর লেখক হিসেবে স্বতন্ত্র পরিচিতি লাভ করেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন।

তিনি ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন এবং আমৃত্যু এ পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি মাকর্সবাদী লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯২৮ সালে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় ‘অতসী মামী’ গল্প লেখার মধ্য দিয়ে তাঁর সাহিত্যচর্চায় হাতেখড়ি হয়। ১৯৩৫ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘জননী’ প্রকাশিত হয়। এটি একটি মনস্তাত্তি¡ক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস। তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প’ (১৯৩৫)। বিখ্যাত উপন্যাস ‘পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬) ও পুতুলনাচের ইতিকথা’।

সাহিত্যকর্ম

  • উপন্যাস: শহরতলী (২ খন্ড), সোনার চেয়ে দামী (২ খন্ড), জননী, দিবারাত্রির কাব্য, পুতুলনাচের ইতিকথা, ইতিকথার পরের কথা, পদ্মানদীর মাঝি, শহরবাসের ইতিকথা, চিহ্ন, চতুষ্কোণ, ধরাবাঁধা জীবন, স্বাধীনতার সাধ, হরফ, হলুদ নদী সবুজ বন, পরাধীন প্রেম
  • গল্পগ্রন্থ: অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, প্রাগৈতিহাসিক, মিহি ও মোটা কাহিনী, সরীসৃপ, সমুদ্রের স্বাদ, হলুদপোড়া, আজ-কাল-পরশুর গল্প, মাটির মাশুল, ছোট বকুলপুরের যাত্রী, ফেরিওয়ালা

বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪)

কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৪ সালে ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ত্রিশের দশকে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক কাব্যরীতির সূচনাকারী কবিদের মধ্যে একজন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেছেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘প্রগতি’ এবং কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘কবিতা’ পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তার জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম। ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখি শুরু করেন।

১৯৩০ সালটি তার জীবনের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ বছরই মাত্র ২১ বছর বয়সে তাঁর ‘সাড়া’ এবং ‘তিথিডোর’ নামক দুটি উপন্যাস এবং ‘বন্দীর বন্দনা’ কাব্য প্রকাশিত হয়। তখন থেকে তার সাহিত্যখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গদ্যপদ্য মিলিয়ে তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: বন্দীর বন্দনা, পৃথিবীর পথে, মর্মবাণী, স্বাগত বিদায়
  • উপন্যাস: সাড়া, তিথিডোর, কালো হাওয়া, নির্জন স্বাক্ষর, বিপন্ন বিস্ময়, পাতাল থেকে আলাপ, গোলাপ কেনো কালো
  • গল্পগ্রন্থ: অভিনয়, রেখাচিত্র, হাওয়া বদল, ভাসো আমার ভেলা
  • নাটক: তপস্বী ও তরঙ্গিনী, মায়া মালঞ্চ
  • প্রবন্ধগ্রন্থ: কালের পুতুল, স্বদেশ ও সংস্কৃতি, হঠাৎ আলোর ঝলকানি

আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮)

প্রগতিশীল লেখক, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক। তিনি ১৯১১ সালে ১২ মার্চ গাজীপুর জেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮৮ সালে ২৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে তার সাহিত্যিক জীবনের সূচনা ঘটে। ১৯৪৭ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয়। তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪)’ বাংলা সাহিত্যের এক অমর কীর্তি। ‘ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন’ তার এ উপন্যাস তিনটিকে ত্রয়ী উপন্যাস বলে। তিনি ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

সাহিত্যকর্ম

  • উপন্যাস: পরিত্যক্ত স্বামী, ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন, দেয়াল
  • গল্পগ্রন্থ: রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, ল্যাংড়ী, শেষ রাত্রির তারা
  • প্রবন্ধগ্রন্থ: সোচ্চার উচ্চারণ, লোকায়ত সমাজ ও বাঙালি সংস্কৃতি, সংস্কৃতি ও ইতিহাস

সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯)

কবি, সমাজনেত্রী ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি ১৯১১ সালে ২০ জুন বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৯ সালে ২০ নভেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।তাঁর পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়। তিনি বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক মহিলা কবি। উপাধি ‘জননী সাহসিকা’। তিনি ছিলেন রবীন্দ্র কাব্যধারার গীতিকবি। ১৯২৩ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। তখন তার নাম ছিল ‘সুফিয়া এন হোসেন’। ১৯৩২ সালে তার স্বামী নেহাল হোসেন  যক্ষ্মা রোগে মারা যান।

১৯৩৯ সালে চট্টগ্রামের লেখক কামাল উদ্দিনের সাথে তার দ্বিতীয়বার বিয়ে হলে তিনি ‘সুফিয়া কামাল’ নামগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি ‘মহিলা সংগ্রাম কমিটি’র সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে ‘মহিলা পরিষদ’ গঠন করেন। যার বর্তমান নাম ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। তিনি দেশবিভাগের পূর্বে নারীদের জন্য প্রকাশিত সাময়িকী ‘বেগম’ (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। ১৯৫৬ সালে শিশুদের সংগঠন ‘কচিকাচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ ‘সওগাত’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তার রচিত প্রথম গল্পের নাম ‘সৈনিক বধূ’ (১৯২৩)। প্রথম গল্পগ্রন্থের নাম ‘কেয়ার কাঁটা’। প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘সাঁঝের মায়া’। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে (১৯৯৭) ভূষিত হন।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: সাঁঝের মায়া, উদাত্ত পৃথিবী, অভিযাত্রিক, মোর জাদুদের সমাধি পরে, মায়া কাজল, মৃত্তিকার ঘ্রাণ
  • গল্পগ্রন্থ: কেয়ার কাঁটা
  • শিশুতোষ গ্রন্থ: ইতল বিতল, নওল কিশোরের দরবারে
  • আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল
  • স্মৃতিকথা: একাত্তরের ডায়েরি
  • ভ্রমণকাহিনী: সোভিয়েতে দিনগুলি

শওকত ওসমান (১৯১৭-১৯৯৮)

কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। তিনি ১৯১৭ সালে ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৮ সালে ১৪ মে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। ১৯৫৮ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘জননী’ প্রকাশিত হয়। তার শ্রেষ্ঠ, কালোত্তীর্ণ ও জনপ্রিয় উপন্যাস ‘ক্রীতদাসের হাসি’। ১৯৬৬ সালে ‘ত্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) ও একুশে পদকে (১৯৮৩) ভূষিত হন।

সাহিত্যকর্ম

  • উপন্যাস: জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক ও নেকড়ে অরণ্য (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), জননী, ক্রীতদাসের হাসি, রাজা উপাখ্যান, পতঙ্গ পিঞ্জর, জলাঙ্গী, বনি আদম
  • গল্পগ্রন্থ: জন্ম যদি তব বঙ্গে (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), পিঁজরাপোল, প্রস্তর ফলক, ঈশ্বরের প্রতিদ্ব›দ্বী
  • নাটক: আমলার মামলা, তস্কর ও লস্কর
  • প্রবন্ধগ্রন্থ: সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই
  • স্মৃতিকথা: কালরাত্রি খন্ডচিত্র, অস্তিত্বের সঙ্গে সংলাপ

আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫)

কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯১৭ সালে ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮৫ সালে ১০ জুলাই ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। বাল্যকাল থেকেই তার কাব্যচর্চা শুরু হয়। তিনি সাংবাদিকতা পেশায় আজীবন নিয়োজিত ছিলেন। তিনি দৈনিক বাংলা (তৎকালীন দৈনিক পকিস্তান) পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৭ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাত্রিশেষ’ প্রকাশিত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার পক্ষে বিবৃতি প্রদান করেন। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১) ও একুশে পদকে (১৯৭৮) ভূষিত হন।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারাদুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাব, দুহাতে দুই আদিম পাথর, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  • উপন্যাস: অরণ্য নীলিমা, রানী খালের সাঁকো, জাফরানী রং পায়রা
  • শিশুতোষ গ্রন্থ: বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, ছুটির দিন দুপুরে

ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪)

কবি ও শিশুসাহিত্যিক। তাকে মুসলিম পুনর্জাগরণের কবি বলা হয়। তিনি ১৯১৮ সালে ১০ জুন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৪ সালে ১৯ অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মূলত ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ও পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে অবস্থান নেন। পাকিস্তনের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে তিনি বাংলাকে সমর্থন করেছিলেন। তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৪)। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬০), একুশে পদক (১৯৭৭) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে (১৯৮০) ভূষিত হন।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: নৌফেল ও হাতেম (কাব্যনাট্য), মুহূর্তের কবিতা (সনেট সংকলন), হাতেমতায়ী (কাহিনীকাব্য), সাত সাগরের মাঝি, সিরাজাম মুনিরা, কাফেলা, হাবেদা মরুর কাহিনী
  • শিশুতোষ গ্রন্থ: পাখির বাসা, হরফের ছড়া

সৈয়দ আলী আহসান (১৯২২-২০০২)

কবি, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯২২ সালে ২৬ মার্চ মাগুরা জেলার আলোকাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালে ২৫ জুলাই ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের ইংরেজি অনুবাদক। ১৯৪৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনায় যোগ দেন।

১৯৬০ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত’ কাব্যকে শ্রেষ্ঠ কাব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭), একুশে পদক (১৯৮৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে (১৯৮৭) ভূষিত হন।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত, আমার প্রতিদিনের শব্দ
  • প্রবন্ধগ্রন্থ: বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (মুহম্মদ আবদুল হাই সহযোগে), পদ্মাবতী (সম্পাদিত গ্রন্থ), কবিতার কথা
  • গল্পগ্রন্থ: সতত স্বাগত, প্রেম যেখানে সর্বস্ব
  • অনুবাদ: ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৯২২-১৯৭১)

কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি ১৯২২ সালে ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালে ১০ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন। গভীর রাতে অধ্যয়নরত অবস্থায় মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের ফলে তার অকাল মৃত্যু হয় এবং তিনি প্যারিসেই সমাহিত হন। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত ঘটে। তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্পের নাম ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’।

১৯৫৫ সালে তিনি ফরাসি তরুণী অ্যান মেরির সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। মিসেস মেরি তার প্রথম ও বিখ্যাত উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮) ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন। পরবর্তীতে এটি ‘Tree Without Roots’ নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি প্রবাসে ইউনেস্কোতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর ‘চাঁদের অমাবস্যা ও কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাস দুটি বাংলা সাহিত্যের ব্যতিক্রমধর্মী সৃষ্টি। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১) এবং মরণোত্তর একুশে পদকে (১৯৮৩) ভূষিত হন।

সাহিত্যকর্ম

  • উপন্যাস: লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো
  • গল্পগ্রন্থ: নয়নচারা, দুই তীর ও অন্যান্য গল্প
  • নাটক: তরঙ্গভঙ্গ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), বহিপীর, সুড়ঙ্গ

মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১)

শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যিক ও শহিদ বুদ্ধিজীবী। তিনি ১৯২৫ সালে ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালে ১৪ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর হাতে অপহৃত ও নিহত হন। তার পৈতৃক নিবাস নোয়াখালির চাটখিল উপজেলায়। তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেন। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এবং ১৯৫৮ সালে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্তে¡ এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ১৯৬৫ সালে প্রথম বাংলা টাইপ রাইটার নির্মাণ করেন যা ‘মুনীর অপটিমা’ নামে পরিচিত। ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত তার বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৬৬)। ১৯৫৩ সালে ‘কবর’ নাটকটি ঢাকা জেলে বসে রচিত হয় এবং রাজবন্দীদের দ্বারা অভিনীত হয়। ১৭৬১ সালে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী অবলম্বনে রচিত তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’। তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

সাহিত্যকর্ম

  • নাটক: মানুষ (একাঙ্কিকা), কবর, দন্ডকারণ্য, পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য, রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২)
  • অনূদিত নাটক: কেউ কিছু বলতে পারে না (জর্জ বার্নাড শ’র You Never Call Tell এর বাংলা অনুবাদ)
    রূপার কৌটা (জন গলজ্ওয়ার্দির The Silver Box এর বাংলা অনুবাদ)
    মুখরা রমণী বশীকরণ (উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের Taming of the Shrew এর বাংলা অনুবাদ)
  • প্রবন্ধগ্রন্থ: মীর মানস, বাংলা গদ্যরীতি
  • ব্যাকরণ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী সহযোগে)

সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭)

তরুণ কবি। তিনি ১৯২৬ সালে ১৫ আগস্ট কলকাতার কালিঘাটে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৭ সালে ১৩ মে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। ২১ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে তাঁর অকাল মৃত্যু হয়। তাঁর পৈতৃক নিবাস গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়। তাকে মূলত কিশোর কবি বলা হয়। তিনি বামপন্থী বিপ্লবী হিসেবে খ্যাত এবং মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি পঞ্চাশের মন্বন্তর উপলক্ষ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পীসঙ্ঘের পক্ষে ‘আকাল’ সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন। তার জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ ‘আকাল’ (১৯৪৪)। বয়সের বিবেচনায় তার রচনা বিস্ময়কর ও অসাধারণ বলে মনে হয়।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্যগ্রন্থ: ছাড়পত্র (১৯৪৭, তার শ্রেষ্ঠ), ঘুম নেই, পূর্বাভাস, অভিযান, হরতাল, মিঠেকড়া
  • সম্পাদিত গ্রন্থ: আকাল

শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬)

কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলিতে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৬ সালে ১৭ আগস্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিন্দীর রায়পুর উপজেলার পাড়াতলি গ্রামে। তাকে নাগরিক কবি হিসেবে অভিহিত করা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধকালে কলকাতার ‘দেশ’ পত্রিকায় ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে তার লেখা ছাপা হয়। বিংশ শতকের ত্রিশের দশকের পঞ্চপাণ্ডদেব পরে তিনিই বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ হিসেবে প্রসিদ্ধ। ১৯৬০ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশিত হয়। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), একুশে পদক (১৯৭৭), স্বাধীনতা পুরস্কারসহ (১৯৮২) অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, বন্দী শিবির থেকে, নিরালোকে দিব্যরথ, নিজ বাসভূমে, ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, দুঃসময়ের মুখোমুখি, শূন্যতায় তুমি শোকসভা, বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে, প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে, ইকারুসের আকাশ, উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, অবিরল জলাভূমি, এক ফোঁটা কেমন অনল, বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়, সৌন্দর্য আমার ঘরে, অন্ধকার থেকে আলোয়, হরিণের হাড়, হেমন্ত সন্ধ্যায় কিছুকাল, স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি, ভগ্নস্তূপে গোলাপের হাসি, কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে
  • উপন্যাস: অক্টোপাস, অদ্ভুত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়
  • প্রবন্ধগ্রন্থ: আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ, কবিতা এক ধরনের আশ্রয়, একান্ত ভাবনা
  • স্মৃতিকথা: কালো ধুলোয় লেখা, স্মৃতির শহর
  • শিশুতোষ গ্রন্থ: এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে কুঁড়ো দেবো, লাল ফুলকির ছড়া, রঙধনুর সাঁকো
  • অনূদিত গ্রন্থ: মার্কোমিলিয়ানস, রবার্ট ফ্রস্টের কবিতা
  • বিখ্যাত কবিতা: হাতির শুঁড়, টেলেমেকাস (বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে লেখা), ‘বর্ণমালা, আমার দুখিনী বর্ণমালা’, একটি ফটোগ্রাফ, আসাদের শার্ট, স্বাধীনতা তুমি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১)

কবি, প্রাবন্ধিক ও সরকারি কর্মকর্তা। তিনি ১৯৩৪ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০১ সালে ১৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মূলত কবি। তাঁর কবিতায় বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও আবহমান বাংলার অকৃত্রিম ছবি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা ও অধ্যাপনা করেন।

তিনি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি ও পানিসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী, বাংলাদেশ সচিবালয়ের সচিব এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্টদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৫ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাতনরী হার’ প্রকাশিত হয়। সাহিত্যের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৯) ও একুশে পদকে (১৯৮৫) ভূষিত হন।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: আমি কিংবদন্তির কথা বলছি (তার শ্রেষ্ঠ), সাতনরী হার, কখনো রং কখনো সুর, কমলের চোখ, বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা, সহিষ্ণু প্রতীক্ষা, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি

জহির রায়হান (১৯৩৫-১৯৭১)

কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি ১৯৩৫ সালে ১৯ আগস্ট ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যায় না। ১৯৭১ সালে তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শহীদুল্লাহ কায়সারকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে। ১৯৭১ সালে ৩০ ডিসেম্বর তাঁর ভাইকে খুঁজতে ঢাকার মিরপুরে গিয়ে তিনিও নিখোঁজ হন। তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। তিনি বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার।

১৯৫৫ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘সূর্যগ্রহণ’ প্রকাশিত হয়। ভাষা আন্দোলনভিত্তিক তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ (১৯৬৯)। তাঁর নির্মিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’। সর্বপ্রথম এ চলচ্চিত্রে জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। তাঁর প্রথম পরিচালিত ছবি ‘কখনো আসেনি’ (১৯৬১)। তিনি ‘Stop Genocide’ নামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন। তাঁর সৃষ্ট তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে প্রথম উর্দু রঙিন ছবি ‘সঙ্গম’ (১৯৭০)।

তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’। তাঁর ‘কাঁচের দেয়াল’ ছবিটি শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি হিসেবে ‘নিগার পুরস্কার’ লাভ করে। তিনি ১৯৬৪ সালে ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র জাতীয় পুরস্কার পায়। তিনি উপন্যাসের জন্য বাংলা একাডেমি থেকে মরণোত্তর সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭২) লাভ করেন।

সাহিত্যকর্ম

  • উপন্যাস: শেষ বিকেলের মেয়ে (১৯৬০, তাঁর প্রথম), কয়েকটি মৃত্যু (তাঁর শেষ), তৃষ্ণা, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী, আর কত দিন
  • চলচ্চিত্র: কখনো আসেনি, সোনার কাজল, কাঁচের দেয়াল, বাহানা, বেহুলা, সঙ্গম, জীবন থেকে নেয়া, Let there be Light, A State is Born, Stop Genocide
  • গল্পগ্রন্থ: সূর্যগ্রহণ

সৈয়দ শামসুল হক (১৯৩৫-২০১৬)

কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও সাংবাদিক। তিনি ১৯৩৫ সালে ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৬ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। সাহিত্যের সকল শাখায় বিচরণের জন্য তিনি সব্যসাচী লেখক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। চিত্রনাট্য রচয়িতা ও গীতিকার হিসেবেও তিনি খ্যাত।

১৯৫১ সালে ‘অগত্যা’ পত্রিকায় তার প্রথম লেখা ‘উদয়াস্ত’ গল্প প্রকাশিত হয়। তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’ (১৯৫৬)। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একদা এক রাজ্যে’ (১৯৬১)। তিনি সবচেয়ে কম বয়সে ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: পরাণের গহীন ভিতর (আঞ্চলিক ভাষায়), রজ্জুপথে চলেছি, একদা এক রাজ্যে, নাভিমূলে ভস্মাধার, বৈশাখে রচিত পংক্তিমালা, অপর পুরুষ, বিরতিহীন উৎসব
  • উপন্যাস: নিষিদ্ধ লোবান ও নীলদংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), দেয়ালের দেশ, অনুপম দিন, ত্রাহি, সীমানা ছাড়িয়ে, মৃগয়ায় কালক্ষেপ, খেলারাম খেলে যা
  • গল্পগ্রন্থ: রক্তগোলাপ, আনন্দের মৃত্যু, জলেশ্বরীর গল্পগুলো
  • কাব্যনাট্য: পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), গণনায়ক, নূরলদীনের সারাজীবন, এখানে এখন, ঈর্ষা
  • শিশুতোষ গ্রন্থ: সীমান্তের সিংহাসন, হডসনের বন্দুক

আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯)

কবি, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক। তিনি ১৯৩৬ সালে ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ইন্তেকাল করেন। তিনি মূলত কবি; পেশায় ছিলেন সাংবাদিক। তাঁর প্রকৃত নাম ‘মির আবদুস শুকুর আল মাহমুদ’। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। কর্মজীবনে তিনি ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ ও ‘দৈনিক কর্ণফুলী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ১৯৯৩ সালে পরিচালক পদ থেকে অবসরে যান। তাঁর কবিতার বিশেষত্ব হলো গ্রামীণ জীবন, লোক-ঐতিহ্য ও লোকজ শব্দের ব্যবহার। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘লোক-লোকান্তর’ (১৯৬৩)। শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালি কাবিন’ (১৯৬৬)। বিখ্যাত কবিতা ‘নোলক’। ১৯৬৮ সালে তিনি ‘সোনালি কাবিন’ কাব্যগ্রন্থের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: লোক-লোকান্তর, কালের কলস, সোনালি কাবিন, মায়াবি পর্দা দুলে উঠো, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা, মিথ্যেবাদী রাখাল, দ্বিতীয় ভাঙন
  • গল্পগ্রন্থ: পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত, গন্ধবণিক, ময়ূরীর মুখ
  • উপন্যাস: কবি ও কোলাহল (প্রথম), ডাহুকী, নিশিন্দা নারী, আগুনের মেয়ে, কাবিলের বোন, পুরুষ সুন্দর, উপমহাদেশ
  • শিশুতোষ গ্রন্থ: পাখির কাছে ফুলের কাছে (ছড়া)
  • প্রবন্ধগ্রন্থ: কবির আত্মবিশ্বাস, দিনযাপন, কবিতার বহুদূর

হুমায়ুন আজাদ (১৯৪৭-২০০৪)

কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিদ, প্রাবন্ধিক, সমালোচক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯৪৭ সালে ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের (বর্তমান মুন্সিগঞ্জ) রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৪ সালে ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখ শহরে মৃত্যুবরণ করেন।তিনি জনপ্রিয় তবে অতি বিতর্কিত সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি একজন প্রথাবিরোধী ও বহুমাত্রিক মননশীল লেখক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালে তার প্রথম কাব্য ‘অলৌকিক ইস্টিমার’ প্রকাশিত হয়। তার ‘নারী (১৯৯২), দ্বিতীয় লিঙ্গ (২০০১) ও পাক সার যমিন সাদ বাদ’ (২০০৩) গ্রন্থ তিনটি বিতর্কের ঝড় তোলে এবং সরকার এ বইগুলোকে বাজয়োপ্ত ঘোষণা করে। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৮৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

সাহিত্যকর্ম

  • কাব্য: অলৌকিক ইস্টিমার, জ্বালো চিতাবাঘ, সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে, কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  • উপন্যাস: ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল, সব কিছু ভেঙে পড়ে, কবি অথবা দন্ডিত অপুরুষ, পাক সার যমিন সাদ বাদ, ফালি ফালি করে কাটা চাঁদ
  • গল্পগ্রন্থ: যাদুকরের মৃত্যু
  • প্রবন্ধ ও সমালোচনা গ্রন্থ: রবীন্দ্রপ্রবন্ধ, রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা, আঁধার ও আধেয়, সীমাবদ্ধতার সূত্র
    ভাষাবিষয়ক গ্রন্থ কতো নদী সরোবর (বাংলা ভাষার জীবনী), লাল নীল দীপাবলি (বাংলা সাহিত্যের জীবনী), বাক্যতত্ত্ব, বাংলা ভাষার শত্রুমিত্র
  • শিশুতোষ গ্রন্থ: আব্বুকে মনে পড়ে (কিশোর উপন্যাস), ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, বুকপকেটে জোনাকিপোকা

হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২)

কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, গীতিকার ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯৪৮ সালে ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১২ সালে ১৯ জুলাই ক্যান্সারে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বেলেভ্যু হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে গাজীপুরের নুহাশ পল্লিতে সমাহিত করা হয়। তিনি বিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। শৈশবে তার নাম ছিল ‘শামসুর রহমান’।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে পড়াশোনা করেন। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ‘পলিমার কেমিস্ট্রি’ বিষয়ে পি-এইচ,ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক পদে যোগ দেন। ১৯৯০ সালে তিনি অধ্যাপনা থেকে অবসরগ্রহণ করেন এবং সার্বক্ষণিক সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।

১৯৭২ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশিত হয়। তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘শঙ্খনীল কারাগার’ (১৯৭৩)। তাঁর সৃষ্ট দুটি বিখ্যাত চরিত্র ‘মিসির আলি ও হিমু’। তার প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমনি (১৯৯৫)। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), একুশে পদকসহ (১৯৯৪) অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন।

সাহিত্যকর্ম

  • উপন্যাস: আগুনের পরশমনি, জোছনা ও জননীর গল্প, শ্যামল ছায়া, দেয়াল (এগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), বাদশাহ নামদার (ঐতিহাসিক), নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, দুই দুয়ারী, আমার আছে জল, কৃষ্ণপক্ষ, শ্রাবণ মেঘের দিন, বৃহন্নলা (মিসির আলী সংক্রান্ত), ময়ূরাক্ষী (হিমু সংক্রান্ত), দারুচিনি দ্বীপ (শুভ সংক্রান্ত)
  • চলচ্চিত্র: আগুনের পরশমনি, দুই দুয়ারী, শ্রাবণ মেঘের দিন, শ্যামল ছায়া, ঘেটুপুত্র কমলা, আমার আছে জল
  • আত্মজীবনী: বলপয়েন্ট, কাঠপেন্সিল, ফাউন্টেইন পেন, রংপেন্সিল, নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ
    বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী: ওমেগা পয়েন্ট, দ্বিতীয় মানব, ইমা
  • গল্পগ্রন্থ: আনন্দ বেদনার কাব্য, ছায়াসঙ্গী, নিশিকাব্য, এলেবেলে, জলকন্যা
  • নাটক: এইসব দিনরাত্রি, বহুব্রীহি, আয়োময়, নক্ষত্রের রাত, আজ রবিবার

সেলিম আল দীন (১৯৪৯-২০০৮)

নাট্যকার, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯৪৯ সালে ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজি উপজেলার সেরেনখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৮ সালে ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে কাছে তাকে সমাহিত করা হয়। তিনি বাংলা ভাষার আধুনিককালের অন্যতম জনপ্রিয় নাট্যকার।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যয়ন করেন। কর্মজীবনে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপনা করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। তিনি বাংলা ভাষার একমাত্র নাট্যবিষয়ক কোষগ্রন্থ ‘বাঙলা নাট্যকোষ’ এর সংকলন ও সম্পাদনা করেন। তার প্রথম রেডিও নাটক ‘বিপরীত তমসায়’ (১৯৬৯) এবং টেলিভিশন নাটক ‘ঘুম নেই’ (১৯৭০)। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৪), একুশে পদকসহ (২০০৭) অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন।

সাহিত্যকর্ম

  • নটিক: জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন (১৯৭৫), মুনতাসির, শকুন্তলা ও কিত্তনখোলা, (তিনটি মঞ্চনাটক), কেরামত মঙ্গল, যৈবতী কন্যার মন, চাকা, হাতহদাই, নিমজ্জন
  • গবেষণা গ্রন্থ: মহুয়া ও দেওয়ানা মদিনা (ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে)
  • উপন্যাস: অমৃত উপাখ্যান

নমুনা প্রশ্ন

১. রবি ঠাকুর কোন কবির কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেছেন?

ক) জন কিটস

খ) টি এস ইলিয়ট

গ) পি বি শেলি

ঘ) রবার্ট হেরিক

উত্তর: খ

২. কবি শামসুর রাহমান পেশায় ছিলেন-

ক) শিক্ষক

খ) সাংবাদিক

গ) আইনজীবী

ঘ) ব্যাংকার

উত্তর: খ

৩. শামসুর রাহমানের রচনা নয়-

ক) অক্টোপাস

খ) এলো সে অবেলায়

গ) বন্দী শিবির থেকে

ঘ) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি

উত্তর: ঘ

৪. শামসুর রাহমানের মৃত্যু সন?

ক) ২০০৫

খ) ২০০৩

গ) ২০০৭

ঘ) ২০০৬

উত্তর: ঘ

৫. অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ভারত সরকারের কোন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন?

ক) পদ্মশ্রী

খ) পদ্মরাগ

গ) পদ্মভূষণ

ঘ) বীরবৌলি

উত্তর: গ

৬. কোন বিষয়ে পুস্তক রচনার জন্য আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ একুশে পদকে ভূষিত হন?

ক) মুক্তিযুদ্ধ

খ) গণঅভ্যুত্থান

গ) রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন

ঘ) স্বদেশপ্রেম

উত্তর: গ

৭. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ-

ক) সাতনরী হার

খ) কমলের চোখ

গ) কখনো রং কখনো সুর

ঘ) আমার সময়

উত্তর: ক

৮. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস মূলত কী ছিলেন?

ক) প্রাবন্ধিক

খ) কথাসাহিত্যিক

গ) সাংবাদিক

ঘ) ঔপন্যাসিক

উত্তর: খ

৯. নিচের কোনটি মহাকাব্যিক রচনা?

ক) চিলেকোঠার সেপাই

খ) অন্য ঘরে অন্য স্বর

গ) খোয়াবনামা

ঘ) দোজখের ওম

উত্তর: গ

১০. আল মাহমুদের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য কোনটি?

ক) নাট্যকার

খ) কবি

গ) কথাসাহিত্যিক

ঘ) প্রাবন্ধিক

উত্তর: খ

১১. আল মাহমুদের শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?

ক) আরব্য রজনীর রাজহাঁস

খ) সোনালি কাবিন

গ) পাখির কাছে ফুলের কাছে

ঘ) কালের কলস

উত্তর: গ

১২. কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম কী?

ক) মির আব্দুস শুকুর

খ) মির আব্দুস শুক্কুর মাহমুদ

গ) মির আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ

ঘ) মির আবদুল শুকুর মাহমুদ

উত্তর: গ

১৩. সৈয়দ শামসুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের কোন বিষয়ের ছাত্র ছিলেন?

ক) বাংলা

খ) ইতিহাস

গ) সমাজবিজ্ঞান

ঘ) ইংরেজি

উত্তর: ঘ

১৪. সৈয়দ শামসুল হক কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

ক) কুড়িগ্রামে

খ) নেত্রকোনায়

গ) বগুড়ায়

ঘ) পাবনায়

উত্তর: ক

১৫. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের কিশোরপাঠ্য উপন্যাস কোনটি?

ক) নিঃসঙ্গ গ্রহচারী

খ) আমার বন্ধু রাশেদ

গ) ফোবিয়ানের যাত্রী

ঘ) একজন অতিমানবী

উত্তর: খ

১৬. কবি দিলওয়ার কী নামে সমধিক পরিচিত?

ক) প্রকৃতির কবি

খ) নাগরিক কবি

গ) গণমানুষের কবি

ঘ) দুঃখবাদী কবি

উত্তর: গ

১৭. ‘চাঁদের অমাবস্যা’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কোন ধরনে গ্রন্থ?

ক) উপন্যাস

খ) ছোটগল্প

গ) প্রবন্ধ

ঘ) নাটক

উত্তর: ক

১৮. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?

ক) ঢাকায়

খ) প্যারিসে

গ) চট্টগ্রামে

ঘ) কলকাতায়

উত্তর: খ

১৯. ‘লালসালু’ উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

ক) ১৯৪৬

খ) ১৯৪৮

গ) ১৯৩৬

ঘ) ১৯৫০

উত্তর: খ

২০. সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?

ক) সমকাল

খ) পূর্বাশা

গ) ধূমকেতু

ঘ) কবিতা

উত্তর: ক

২১. বাংলা একাডেমি বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধানের সংকলন করেন-

ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

খ) মুহম্মদ এনামুল হক

গ) আহমদ শরীফ

ঘ) মুহম্মদ হাবিবুর রহমান

উত্তর: ক

২২. বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের সম্পাদক কে?

ক) নরেন বিশ্বাস

খ) আহমদ শরীফ

গ) জামিল চৌধুরী

ঘ) মুহম্মদ আবদুল হাই

উত্তর: গ

২৩. বাংলা সাহিত্যের প্রথম শিল্প-সার্থক উপন্যাস কোনটি?

ক) আলালের ঘরের দুলাল

খ) জননী

গ) দুর্গেশনন্দিনী

ঘ) কৃষ্ণকুমারী

উত্তর: গ

২৪. ‘আগুনপাখি’ গ্রন্থটি কার লেখা?

ক) সৈয়দ শামসুল হক

খ) হাসান আজিজুল হক

গ) শামসুর রাহমান

ঘ) শওকত ওসমান

উত্তর: খ

২৫. সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থের নাম-

ক) অবরোধবাসিনী

খ) উদাত্ত পৃথিবী

গ) মাটির ফসল

ঘ) একপথ দুইবাঁক

উত্তর: খ

২৬. ‘চিহ্ন’ উপন্যাসের লেখক-

ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র

খ) শওকত ওসমান

গ) জহির রায়হান

ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

উত্তর: ঘ

২৭. মধুসূদন-পূর্ব হাজার বছরের বাংলা কবিতা কোন ছন্দে লেখা হতো?

ক) মুক্তক অক্ষরবৃত্ত ছন্দ

খ) স্বরবৃত্ত ছন্দ

গ) পয়ার ছন্দ

ঘ) গদ্যছন্দ

উত্তর: গ

২৮. নিচের কোনটি রম্য রচনা?

ক) ধীরে বহে মেঘনা

খ) পঞ্চতন্ত্র

গ) চোখের বালি

ঘ) সাতসমুদ্র

উত্তর: খ

২৯. জসীম উদ্দীনের ভ্রমণ কাহিনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?

ক) ইস্তাম্বুল যাত্রীর পথ

খ) চলে মুসাফির

গ) বোবা কাহিনী

ঘ) বিলেতে সাড়ে সাত শ দিন

উত্তর: খ

৩০. ‘বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি’ কাব্যগন্থের রচয়িতা কে?

ক) মাযহারুল ইসলাম

খ) রফিকুল ইসলাম

গ) হুমায়ুন কবির

ঘ) জাহানারা ইমাম

উত্তর: ক

৩১. ‘আবোল তাবোল’ কার লেখা?

ক) উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী

খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র

গ) সুকুমার রায়

ঘ) সুকুমার বড়ুয়া

উত্তর: গ

৩২. দুঃখ বর্ণনার কবি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় কাকে?

ক) চন্ডীদাস

খ) চন্দ্রাবতী

গ) মুকুন্দরাম

ঘ) ভারতচন্দ্র

উত্তর: গ

৩৩. ‘রাগতালনামা’ সঙ্গীতবিষয়ক কাব্যের রচয়িতা-

ক) শাহ মুহম্মদ সগীর

খ) বিদ্যাপতি

গ) বাহরাম খান

ঘ) আলাওল

উত্তর: ঘ

৩৪. সাধুরীতির প্রথম সার্থক প্রয়োগ হয় কোন গ্রন্থে?

ক) বীরবলের হালখাতা

খ) বেদান্ত

গ) প্রভাবতী সম্ভাষণ

ঘ) বেতাল পঞ্চবিংশতি

উত্তর: খ

৩৫. লালনের জীবনকাহিনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘অচিনপাখি’ এর পরিচালক কে?

ক) ঋত্বিক ঘটক

খ) তানভীর মোকাম্মেল

গ) গৌতম ঘোষ

ঘ) সৈয়দ হাসান ইমাম

উত্তর: খ

৩৬. ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো’ প্রহসনের রচয়িতা-

ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত

খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ

গ) ডি এল রায়

ঘ) দীনবন্ধু মিত্র

উত্তর: ঘ

৩৭. কায়কোবাদ রচিত গীতিকাব্য কোনটি?

ক) তোহফা

খ) কথামালা

গ) অশ্রুমালা

ঘ) স্বপ্নদর্শন

উত্তর: গ

৩৮. ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের রচয়িতা-

ক) বঙ্কিমচন্দ্র

খ) রবীন্দ্রনাথ

গ) শরৎচন্দ্র

ঘ) বিভূতিভূষণ

উত্তর: গ

৩৯. কোন কথাসাহিত্যিক ‘কলম পেশা কেরানি’ হিসেবে পরিচিত?

ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ

ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

উত্তর: ক

৪০. ‘প্রগতি ও কবিতা’ পত্রদ্বয়ের সাথে কোন সাহিত্যিকের নাম জড়িত?

ক) জীবনানন্দ দাশ

খ) পেমেন্দ্র মিত্র

গ) বুদ্ধদেব বসু

ঘ) অমিয় চক্রবর্তী

উত্তর: গ

৪১. আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস-

ক) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান

খ) সংস্কৃতির ভাঙাসেতু

গ) পদ্মা মেঘনা যমুনা

ঘ) রাজা উপাখ্যান

উত্তর: গ

৪২. শাহ আবদুল করিম রচিত সঙ্গীতগ্রন্থ নয়-

ক) মৃত্তিকার ঘ্রাণ

খ) কালনীর ঢেউ

গ) ভাটির চিঠি

ঘ) গণসঙ্গীত

উত্তর: ক

৪৩. ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

ক) ১৯৩৬ সালে

খ) ১৯২২ সালে

গ) ১৯৪৪ সালে

ঘ) ১৯৬২ সালে

উত্তর: গ

৪৪. ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেন-

ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খ) আহসান হাবীব

গ) সৈয়দ আলী আহসান

ঘ) বুদ্ধদেব বসু

উত্তর: গ

৪৫. মুনীর চৌধুরী রচিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-

ক) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ

খ) বাংলা ব্যাকরণ

গ) ভাষাপ্রকাশ বাংলা ব্যাকরণ

ঘ) ব্যাকরণ মঞ্জুরী

উত্তর: ক

৪৬. জহির রায়হানের কোন চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে?

ক) কখনো আসেনি

খ) সোনার কাজল

গ) জীবন থেকে নেয়া

ঘ) কাচের দেয়াল

উত্তর: ঘ

৪৭. নির্মলেন্দু গুণের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?

ক) প্রেমাংশুর রক্ত চাই

খ) চাষাভূষার কাব্য

গ) তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা

ঘ) অলৌকিক ইস্টিমার

উত্তর: ক

৪৮. ‘আব্বুকে মনে পড়ে’ কিশোর উপন্যাসের রচয়িতা-

ক) আল মাহমুদ

খ) হুমায়ূন আহমেদ

গ) হুমায়ূন আজাদ

ঘ) মহাদেব সাহা

উত্তর: গ

৪৯. হুমায়ূন আহমেদের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?

ক) বহুব্রীহি

খ) এলেবেলে

গ) দ্বিতীয় মানব

ঘ) কাঠপেন্সিল

উত্তর: ঘ

৫০. ‘বাংলা নাট্যকোষ’ এর সংকলন ও সম্পাদনা করেন কে?

ক) মমতাজউদ্দিন আহমদ

খ) সেলিম আল দীন

গ) মামুনুর রশীদ

ঘ) আসকার ইবনে শাইখ

উত্তর: খ

তথ্যসূত্র:

১. শামসুজ্জামান খান, সেলিনা হোসেন ও অন্যান্য, চরিতাভিধান (বাংলা একাডেমি, জুন ১৯৮৫)
২. হুমায়ূন আজাদ, লাল নীল দীপাবলী বা বাংলা সাহিত্যের জীবনী (১৯৭৬)
৩. মনিরুজ্জামান, বাংলা সাহিত্য : অতীত ও উত্তরকাল (বাংলা একাডেমি, মে ২০০৩)
৪. ক্ষেত্র গুপ্ত, বাংলা সাহিত্যের সমগ্র ইতিহাস (কলকাতা ২০০১)
৫. ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বাংলা সাহিত্য পরিচয় (কলকাতা ২০০৮)
৬. ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (অগ্নি পাবলিকেশন্স, এপ্রিল ২০০৪)
৭. ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষাশিক্ষা : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০০৪)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *