BCS Bangla Lecture – 5

বাংলা সাহিত্যে সৃষ্ট চরিত্র, সাহিত্যের উপজীব্য বিষয়, সাহিত্যকর্মে নামের সাদৃশ্য, বাংলা সাহিত্যের জনক ও পৃষ্ঠপোষক, গুরুত্বপূর্ণ চরণ ও উক্তি, নমুনা প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যে সৃষ্ট চরিত্র

গ্রন্থকারগ্রন্থচরিত্র
বড় চন্ডীদাসশ্রীকৃষ্ণকীর্তন (কাব্য)কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি
কানাহরি দত্তমনসামঙ্গল (কাব্য)চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর
মানিক দত্তচন্ডীমঙ্গল  (কাব্য)কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়–দত্ত, মুরারীশীল
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরঅন্নদামঙ্গল (কাব্য)ঈশ্বরী পাটনী
মনসুর বয়াতিদেওয়ানা মদিনা (ময়মনসিংহ গীতিকা)আলাল, দুলাল, মদিনা
দ্বিজ কানাইমহুয়া (ময়মনসিংহ গীতিকা)মহুয়া, নদের চাঁদ
প্যারীচাঁদ মিত্রআলালের ঘরের দুলাল (উপন্যাস)ঠকচাচা, মতিলাল
মাইকেল মধুসূদন দত্তমেঘনাদবধ (মহাকাব্য)রাবণ, মেঘনাদ, রাম, লক্ষ্মণ, বীরবাহু, বিভীষণ,
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (প্রহসন)ভক্তপ্রসাদ বাবু
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়দুর্গেশনন্দিনী (উপন্যাস)আয়েশা, তিলোত্তমা
কপালকুন্ডলা (উপন্যাস)কপালকুন্ডলা, নবকুমার
বিষবৃক্ষ (উপন্যাস)কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ
কৃষ্ণকান্তেরউইল (উপন্যাস)রোহিনী, গোবিন্দলাল, হরলাল
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়গৃহদাহ (উপন্যাস)অচলা, সুরেশ, মহিম
দত্তা (উপন্যাস)নরেন, বিজয়
পল্লীসমাজ (উপন্যাস)রমেশ, রমা
চরিত্রহীন (উপন্যাস)সতীশ, কিরণময়ী, সাবিত্রী, দিবাকর
দেবদাস (উপন্যাস)দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমুখী
পথের দাবী (উপন্যাস)সব্যসাচী
শ্রীকান্ত (উপন্যাস)শ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী, অভয়া, ইন্দ্রনাথ
বড়দিদি (উপন্যাস)মাধবী, সুরেন্দ্রনাথ
দেনা-পাওনা (উপন্যাস)ষোড়শী, নির্মল, জীবনানন্দ
শেষের পরিচয় (উপন্যাস)সবিতা
বিলাসী (ছোটগল্প)বিলাসী, মৃত্যুঞ্জয়, ন্যাড়া
মহেশ (ছোটগল্প)গফুর, আমিনা
পন্ডিত মশাই (ছোটগল্প)বৃন্দাবন
মেজদিদি (ছোটগল্প)হেমাঙ্গিনী, কাদম্বিনী, কেষ্ট
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরচোখের বালি (উপন্যাস)রাজলক্ষ্মী, মহেন্দ্র, বিনোদিনী
যোগাযোগ (উপন্যাস)মধুসূদন, কুমুদিনী
গোরা (উপন্যাস)গোরা, ললিতা, বিনয়, সুচরিতা
শেষের কবিতা (উপন্যাস)অমিত, লাবণ্য, শোভন লাল
ঘরে বাইরে (উপন্যাস)নিখিলেশ, বিমলা
দুই বোন (উপন্যাস)শর্মিলা, ঊর্মিলা
রক্তকরবী (নাটক)নন্দিনী
রাজা (নাটক)ঠাকুরদা
ডাকঘরঅমল
চিত্রাঙ্গদাঅর্জুন, মদন
বিসর্জনরঘুপতি, জয়সিংহ, গোবিন্দ, অপর্ণা
ছুটি (ছোটগল্প)ফটিক
একরাত্রি (ছোটগল্প)সুরবালা
পোস্টমাস্টার (ছোটগল্প)রতন
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন (ছোটগল্প)রাইচরণ
সমাপ্তি (ছোটগল্প)মৃন্ময়ী, অপূর্ব
কাবুলিওয়ালা (ছোটগল্প)রহমত, খুকী
দেনা-পাওনা (ছোটগল্প)নিরুপমা
অপরিচিতা (ছোটগল্প)কল্যাণী, অনুপম, হরিশ, বিনুদা, মামা
হৈমন্তী (ছোটগল্প)হৈমন্তী, অপু, নারানী, বনমালী বাবু, গৌরিশঙ্কর
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়পদ্মানদীর মাঝি (উপন্যাস)কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, হোসেন মিয়া, পাঁচু
পুতুল নাচের ইতিকথা (উপন্যাস)কশী, কুমুদ
জননী (উপন্যাস)শ্যামা, শীতল
অতসী মামী (উপন্যাস)যতীন
প্রাগৈতিহাসিক (ছোটগল্প)ভিসু, পাচী
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কবি (উপন্যাস)নিতাই, বসন
ধাত্রীদেবতা (উপন্যাস)শিবনাথ, গৌরী
কাজী ইমদাদুল হকআবদুল্লাহ (উপন্যাস)আবদুল্লাহ, হালিমা
আবু ইসহাকসূর্য দীঘল বাড়ি (উপন্যাস)জয়গুন, হাসু, মায়মুন
জহির রায়হানহাজার বছর ধরে (উপন্যাস)মকবুল, টুনি
শহীদুল্লা কায়সারসংশপ্তক (উপন্যাস)হুরমতি, লেকু, রমজান
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহলালসালু (উপন্যাস)মজিদ, আমেনা, জমিলা
 ‍মুনীর চৌধুরীকবর (নাটক)হাফিজ, মুর্দা ফকির
রক্তাক্ত প্রান্তর (নাটক)জোহরা, ইব্রাহিম কার্দি, জরিনা, হিরণবালা
মীর মশাররফ হোসেনবিষাদ-সিন্ধু (উপন্যাস)এজিদ, হাসান, হোসেন, মায়মুনা
জমিদার দর্পণ (নাটক)আবু মোল্লা, নুরুন্নাহার
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়পথের পাঁচালী (উপন্যাস)দূর্গা, অপু, ঠাকরুন

বাংলা সাহিত্যের উপজীব্য বিষয়

গ্রন্থের নামউপজীব্য বিষয়
নেমেসিস (নাটক)পঞ্চাশের মন্বন্তর (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত)
আবদুল্লাহ (উপন্যাস)মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের চিত্র
সাত সাগরের মাঝি (কাব্য)ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য
পদ্মা নদীর মাঝি (উপন্যাস)জেলে জীবনের বিচিত্র সুখ-দুঃখ
তিতাস একটি নদীর নাম (উপন্যাস)জেলেসমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনী
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ (কবিতা)ভবিষ্যত বিচিত্র ও বিপুল সম্ভাবনাময়
রাত্রিশেষ (কবিতা)নতুন সময়ের ইঙ্গিত
নোলক (কবিতা)মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা
কবর (কবিতা)শোকগাঁথা
বিষাদ-সিন্ধু (উপন্যাস)কারবালার করুণ বিষাদময় কাহিনী
কবর (নাটক)১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
গোরা (উপন্যাস)১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপট
রক্তাক্ত প্রান্তর (নাটক)১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
মহাশ্মশান (মহাকাব্য)১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
চিলেকোঠার সিপাই (উপন্যাস)১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
নকশীকাঁথারমাঠ (কাব্য)গ্রাম-বাংলার মানুষের সামাজিক চিত্র
হাজার বছর ধরে (উপন্যাস)গ্রাম-বাংলার বাস্তব জীবন কাঠামো
পদ্মাবতী (কাব্য)চিতোরের রানির কাহিনী
বৌ ঠাকুরাণীরহাট (উপন্যাস)রাজা প্রতাপাদিত্যের ঐতিহাসিক কাহিনী
ঘরে-বাইরে (উপন্যাস)ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতি
রূপসী বাংলা (কাব্য)দেশপ্রেম ও নৈসর্গময়তা
মেঘনাদবধ (মহাকাব্য)রামায়ণের কাহিনী
পথের পাঁচালী (উপন্যাস)প্রকৃতি ও মানব জীবন
সংশপ্তক (উপন্যাস)নগর ও গ্রামীণ জীবন
কর্ণফুলী (উপন্যাস)আদিবাসী মানুষের জীবনচিত্র
দেশে-বিদেশে (ভ্রমণকাহিনী)কাবুল শহরের কাহিনী
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন (কাব্য)রাধা-কৃষ্ণের প্রণয়কথা
মৃত্যুক্ষুধা (উপন্যাস)ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষিতে নারী জীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা ও বাস্তব সমাজচিত্র
নীলদর্পণ (নাটক)নীল চাষীদের দুরবস্থা ও নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী
রাজবন্দীর রোজনামচা (স্মৃতিকথা)কারাজীবনের কাহিনী
সারেং বৌ (উপন্যাস)সমুদ্র উপকূলীয় দরিদ্র জীবন
একাত্তরের দিনগুলি (স্মৃতিকথা)মুক্তিযুদ্ধকালীন একজন মায়ের স্মৃতি-বেদনা
লালসালু (উপন্যাস)ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন
ক্রীতদাসের হাসি (উপন্যাস)স্বাধীনতা (স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকারের শাসনব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে রচিত)
মরুভাস্কর (কাব্য)হযরত মুহাম্মদ (স) এর জীবনী

সাহিত্যকর্মে নামের সাদৃশ্য

সাহিত্যকর্মধরনলেখক
অভিযাত্রিককাব্যসুফিয়া কামাল
অভিযাত্রিকউপন্যাসবিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
জননীউপন্যাসমানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
জননীউপন্যাসশওকত ওসমান
পদ্মাবতীকাব্যআলাওল
পদ্মাবতীনাটকমাইকেল মধুসূদন দত্ত
পদ্মাবতীসম্পাদিত গ্রন্থসৈয়দ আলী আহসান
মরুভাস্করকাব্যকাজী নজরুল ইসলাম
মরুভাস্করজীবনী গ্রন্থমোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
মরুসূর্যকাব্যকাজী নজরুল ইসলাম
মরুসূর্যকাব্যআ ন ম বজলুর রশীদ
মানচিত্রকাব্যআলাউদ্দিন আল আজাদ
মানচিত্রনাটকআনিস চৌধুরী
দেনা পাওনাছোটগল্পরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
দেনা পাওনাউপন্যাসশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কবরনাটকমুনীর চৌধুরী
কবরকবিতাজসীম উদ্দীন
সভ্যতার সংকটপ্রবন্ধআবুল ফজল
সভ্যতার সংকটপ্রবন্ধ গ্রন্থরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রজনীউপন্যাসবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
রজনীউপন্যাসহুমায়ূন আহমেদ
সাম্যবাদীকাব্যকাজী নজরুল ইসলাম
সাম্যবাদীপত্রিকাখান মুহম্মদ মঈনুদ্দীন
ভাষা ও সাহিত্যপ্রবন্ধগ্রন্থড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ভাষা ও সাহিত্যপ্রবন্ধগ্রন্থমুহম্মদ আবদুল হাই
রেখাচিত্রপ্রবন্ধগ্রন্থআবুল ফজল
রেখাচিত্রগল্পগ্রন্থবুদ্ধদেব বসু
কবিতার কথাপ্রবন্ধগ্রন্থজীবনানন্দ দাশ
কবিতার কথাপ্রবন্ধগ্রন্থসৈয়দ আলী আহসান
কবিউপন্যাসতারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
কবিউপন্যাসহমায়ূন আহমেদ

বাংলা সাহিত্যের জনক

জনকসাহিত্যের শাখা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়উপন্যাস
সমালোচনা সাহিত্য
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরছোটগল্প
গদ্যছন্দ
মুক্তছন্দ
মাইকেল মধুসূদন দত্তসনেট (চতুর্দশপদী কবিতা)
নাটক
প্রহসন
আধুনিক কবিতা
মহাকাব্য
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
কাজী নজরুল ইসলামমুক্তক মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
গিরিশচন্দ্র ঘোষগৈরিশ ছন্দ
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসাধুরীতি
বাংলা গদ্য
বিরাম চিহ্ন
প্রমথ চৌধুরীচলিতরীতি
বিহারীলাল চক্রবর্তীগীতিকবিতা
রাজা রামমোহন রায়বাংলা ব্যাকরণ
প্যারীচাঁদ মিত্রআলালী ভাষা

বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক

লেখকসাহিত্যকর্মসুলতান (পৃষ্ঠপোষক)
কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেবমহাভারতআলাউদ্দিন হুসেন শাহ
বিপ্রদাস পিপিলাইমনসাবিজয়আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
বিজয়গুপ্তমনসামঙ্গলআলাউদ্দিন হুসেন শাহ
শাহ মুহাম্মদ সগীরইউসুফ জোলেখাগিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
মালাধর বসুশ্রীকৃষ্ণবিজয়রুকনুদ্দিন বারবক শাহ
কৃত্তিবাসরামায়ণ (অনুবাদ)জালালুদ্দীন মুহম্মদ শাহ
জৈনুদ্দিনরসুল বিজয়শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
বিদ্যাপতিবৈষ্ণব পদাবলিনাসিরুদ্দীন নুসরত শাহ
কবীন্দ্র পরমেশ্বরমহাভারত (অনুবাদ)নাসিরুদ্দীন নুসরত শাহ

গুরুত্বপূর্ণ চরণ ও উক্তি

মদনমোহনতর্কালঙ্কার

আমার পণ (কবিতা)

-সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।

প্রমথ চৌধুরী

-সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।

-ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর

অন্নদামঙ্গল কাব্য
(ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি)

-প্রণমিয়া পাটুনী কহিল জোর হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।

-নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।

-“মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।

-বড়র পিরীতি বালির বাঁধ
ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেক চাঁদ।

চন্ডীদাস 

বৈষ্ণব পদাবলি

-শুনহ মানুষ ভাই
সবার উপরে মানুষ সত্য
তাহার উপরে নাই।

-সই, কেমনে ধরিব হিয়া?
আমার বঁধুয়া আন বাড়ি যায়
আমার আঙ্গিনা দিয়া।

গগণ হরকরা

লোকসংগীত

(এ গানের কথায় ও সুরে প্রভাবিত হয়ে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আমার সোনার বাংলা’
সংগীতটি রচনা করেন)।

-আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে।
হারয়ে সেই মানুষে তার উদ্দেশে
দেশ বিদেশে বেড়াই ঘুরে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

কপালকুন্ডলা (উপন্যাস)

-পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?
তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?

শেখ ফজলল করিম

স্বর্গ ও নরক (কবিতা)

-কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরই মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর!

-সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।

মুনীর চৌধুরী

রক্তাক্ত প্রান্তর (নাটক)

-মানুষ মরে গলে পচে যায়,
বেঁচে থাকলে বদলায়,
কারণে-অকারণে বদলায়।

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়

স্বাধীনতা হীনতায় (কবিতা)

-স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পড়িবে পায় হে, কে পড়িবে পায়?

রামনিধি গুপ্ত (নিধু বাবু)

টপ্পা গান

-নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা, পুরে কি আশা?

আবুল হাসান

একটুখানি (কবিতা)

-একটুখানি ভুলের তরে অনেক বিপদ ঘটে
ভুল করেছো যারা সবাই ভুক্তভোগী বটে।
একটুখানি বিষের ছোঁয়া মরণ ডেকে আনে
এই দুনিয়ার ভুক্তভোগী সকল মানুষ জানে।

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

দুঃখ বিনা সুখ হয় না (কবিতা)

-কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ?
উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?

বুঝিবে সে কীসে (কবিতা)

-চিরসুখী জন, ভ্রমে কি কখন
ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে?
কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কীসে
কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।

জীবনানন্দ দাশ

বাংলার মুখ (কবিতা)

-বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি,
তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।

আবার আসিব ফিরে (কবিতা)

-আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়- হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে।

বনলতা সেন (কবিতা)

-সব পাখি ঘরে আসে- সব নদী ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

কালীপ্রসন্ন ঘোষ

পারিব না (কবিতা)

-পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার
পার কি না পার কর যতন আবার
এক বারে না পারিলে দেখ শত বার।

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান

শহিদ স্মরণে (কবিতা)

-কবিতায় আর কী লিখবো?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম- বাংলাদেশ!

রফিক আজাদ

ভাত দে হারামজাদা (কবিতা)

-ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাবো।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পালামৌ (ভ্রমণকাহিনী)

-বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

-আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য,
তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙ্গালি।

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

বাতাসে লাশের গন্ধ (কবিতা)

-জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন।

সুফিয়া কামাল

জন্মেছি এই দেশে (কবিতা)

-জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে মরি যেন এই দেশে।

আবদুল হাকিম

নুরনামা (কাব্য)

-যে সব বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।

বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়

দৃষ্টিপাত (উপন্যাস)

-আধুনিক সভ্যতা দিয়েছে বেগ, নিয়েছে আবেগ।

ফররুখ আহমদ

সাত সাগরের মাঝি (কবিতা)

-দুয়ারে তোমার সাত সাগরের জোয়ার এনেছে ফেনা
তবু জাগলে না? তবু তুমি জাগলে না?

সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন (কবিতা)

-প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।

ছাড়পত্র (কবিতা)

-এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

উদ্যোগ (কবিতা)

-বন্ধু তোমার ছাড়ো উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ম করো চিত্ত
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।

অতুলপ্রসাদ সেন

বাংলা ভাষা (কবিতা)

-মোদের গরব মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

বড় কে? (কবিতা)

-আপনাকে বড় বলে বড় সেই নয়
লোকে যারে বড় বলে বড় সেই হয়।

-মিছা মণি-মুক্তা হেম, স্বদেশের প্রিয় প্রেম
তার চেয়ে রত্ন নাই আর।

-কতরূপ স্নেহ করি, দেশের কুকুর ধরি
বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া।

স্বামী বিবেকানন্দ

-জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

কোনো এক মাকে (কবিতা)

-মাগো, ওরা বলে, সবার কথা কেড়ে নেবে
তোমার কোলে শুয়ে গল্প শুনতে দেবে না
বলো, মা তাই কি হয়?

কামিনী রায়

পাছে লোকে কিছু বলে (কবিতা)

-করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে
পাছে লোকে কিছু বলে।

পরার্থে (কবিতা)

-আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে
সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

ধনধান্য পুষ্পেভরা (কবিতা)

-ধনধান্যে পুষ্পেভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি।

হাছন রাজা

লোকগীতি

-লোকে বলে বলে রে
ঘরবাড়ি ভালা নাই আমার
কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যেরও মাঝার।

লালন শাহ

লোকগীতি

-খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।
ধরতে পারলে মন বেড়ী দিতাম পাখির পায়।

কুসুমকুমারী দাশ

আদর্শ ছেলে (কবিতা)

-আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

জীবনসংগীত (কবিতা)

-মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন
হয়েছে প্রাতঃস্মরণীয়
সেই পথ লক্ষ্য করে, স্বীয় কীর্তি-ধ্বজা ধরে
আমরাও হব বরণীয়।

শামসুর রাহমান

তোমকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা (কবিতা)

-ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে
নতুন নিশানা উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগি¦দিক
এই বাংলায় তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।

স্বাধীনতা তুমি (কবিতা)

-স্বাধীনতা তুমি
পিতার কোমল জায়নামাযের উদার জমিন।
স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর, কোকিলের গান
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।

বর্ণমালা, আমার দুখিনী বর্ণমালা (কবিতা)

-তোমার মুখের দিকে আজ আর যায় না তাকানো
বর্ণমালা, আমার দুখিনী বর্ণমালা।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

বঙ্গভাষা

-পালিলাম আজ্ঞা সুখে পাইলাম কালে
মাতৃভাষা রূপখানি পূর্ণ মণিজালে।

বঙ্গভূমির প্রতি (কবিতা)

-জন্মিলে মরিতে হবে
অমর কে কোথা কবে?

জসীম উদ্দীন

প্রতিদান (কবিতা)

-আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যে বা আমি বাঁধি তার ঘর
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।

কাজী নজরুল ইসলাম

দারিদ্র্য (কবিতা)

-হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিস্টের সম্মান।

-কাটাকুঞ্জে বসি তুই গাঁথিবি মালিকা
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টীকা।

গাহি সাম্যের গান (কবিতা)

-গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রাণ (কবিতা)

-মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।

আত্মত্রাণ (কবিতা)

-বিপদে মোরে রক্ষা কর
এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।

জীবিত ও মৃত (ছোটগল্প)

-কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই।

শেষের কবিতা (উপন্যাস)

-গ্রহণ করেছ যত, ঋণী তত করেছ আমায়।

শেষলেখা (কবিতা)

-তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনাজালে, হে ছলনাময়ী।

-মানুষ যা চায় ভুল করে চায়, যা পায় তা চায় না।

সমাপ্তি (ছোটগল্প)

-শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশকে
উদ্দেশ্য করে

-এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ
মরণে তাই তুমি করে গেলে দান।

দুই বিঘা জমি (কবিতা)

-এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

-আমি শুনে হাসি, আঁখি জলে ভাসি এই ছিল মোর ঘটে
তুমি মহারাজ, সাধু হলে আজ আমি আজ চোর বটে।

১৪০০ সাল (কবিতা)

-আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহল ভরে।

ন্যায়দন্ড (কবিতা)

-অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।

নমুনা প্রশ্ন

১. ‘নদের চাঁদ’ কোন পালাগানের চরিত্র?

ক) দেওয়ানা মদিনা

খ) কাজল রেখা

গ) মহুয়া

ঘ) চন্দ্রাবতী

উত্তর: গ

২. ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?

ক) নিমচাঁদ

খ) ঠকচাচা

গ) ভাড়–দত্ত

ঘ) নবকুমার

উত্তর: খ

৩. ‘রোহিণী-বিনোদিনী-কিরণময়ী’ কোন গ্রন্থগুচ্ছের চরিত্র?

ক) বিষবৃক্ষ-চতুরঙ্গ-দুইবোন

খ) গৃহদাহ-পথের দাবি-চরিত্রহীন

গ) কৃষ্ণকান্তের উইল-চোখের বালি-চরিত্রহীন

ঘ) দুর্গেশনন্দিনী-যোগাযোগ-চতুরঙ্গ

উত্তর: গ

৪. বিদ্রোহী বধূ ‘জমিলা’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?

ক) জননী

খ) পদ্মানদীর মাঝি

গ) লালসালু

ঘ) সারেং বৌ

উত্তর: গ

৫. ‘পথের পাঁচালি’ উপন্যাসে দুই ভাইবোনের নাম কী?

ক) অপু ও শশী

খ) শশী ও কুমুদ

গ) চারু ও দুর্গা

ঘ) অপু ও দুর্গা

উত্তর: ঘ

৬. ‘কবি’ উপন্যাসের চরিত্র-

ক) রমা, রমেশ

খ) নিতাই, বসন

গ) রহমত, খুকী

ঘ) শর্মিলা ও উর্মিলা

উত্তর: খ

৭. ‘কালকেতু’ কোন মঙ্গকাব্যের চরিত্র?

ক) কালিকামঙ্গল

খ) অন্নদামঙ্গল

গ) ধর্মমঙ্গল

ঘ) চন্ডীমঙ্গল

উত্তর: ঘ

৮. ‘অমিত ও লাবণ্য’ চরিত্রদ্বয়ের স্রষ্টা কে?

ক) শরৎচন্দ্র

খ) বঙ্কিমচন্দ্র

গ) রবীন্দ্রনাথ

ঘ) মাইকেল

উত্তর: গ

৯. “আমার স্বপ্ন হোক ফসলের সুষম বন্টন” কোন কবি বলেছেন?

ক) শামসুর রাহমান

খ) সমর সেন

গ) আল মাহমুদ

ঘ) রফিক আজাদ

উত্তর: খ

১০. কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের রচনা কোনটি?

ক) পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল।

খ) কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?

গ) সই, কে শুধাইল শ্যাম নাম।

ঘ) স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়।

উত্তর: খ

১১. ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক, আজ বসন্ত’ চরণটির রচয়িতা – 

ক) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়

গ) বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়

ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

উত্তর: খ

১২. ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ উক্তিটি কার?

ক) কামিনী রায়

খ) কুসুমকুমারী দাস

গ) কায়কোবাদ

ঘ) রজনীকান্ত সেন

উত্তর: ক

১৩. ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।’ রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যের উক্তি?

ক) আত্মত্রাণ

খ) ন্যায়দন্ড

গ) ১৪০০ সাল

ঘ) কড়ি ও কোমল

উত্তর: ঘ

১৪. লালন শাহ রচিত নয় কোনটি?

ক) আপনার ঘরে বোঝাই সোনা, পরে করে লেনাদেনা।

খ) আমি অপার হয়ে বসে আছি।

গ) আমি কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে।

ঘ) দেখ না মন, ঝকমারি এই দুনিয়াদারী।

উত্তর: গ

১৫. ‘আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়,
লোকে যাকে বড় বলে বড় সেই হয়।’ কোন কবির রচনা?

ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

গ) যতীন্দ্রমোহন বাগচী

ঘ) সুনির্মল বসু

উত্তর: খ

১৬. রূপসী বাংলার কবি কে?

ক) কাজী নজরুল ইসলাম

খ) জীবননান্দ দাশ

গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত

ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর: খ

১৭. মুসলিম রেনেসাঁর কবি কে?

ক) ফররুখ আহমদ

খ) কাজী নজরুল ইসলাম

গ) জহির রায়হান

ঘ) কায়কোবাদ

উত্তর: ক

১৮. কাজী নজরুল ইসলামকে কোন ছন্দের জনক বলা হয়?

ক) অক্ষরবৃত্ত

খ) মুক্তছন্দ

গ) মুক্তক মাত্রাবৃত্ত

ঘ) গদ্যছন্দ

উত্তর: গ

১৯. বাংলা ভাষায় বিরাম চিহ্নের প্রচলন করেন কে?

ক) প্রমথ চৌধুরী

খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

উত্তর: গ

২০. বাংলা সাহিত্যের ‘সাহিত্য সম্রাট’ বলা হয় কাকে?

ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

গ) ঈশ্বরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর: ক

তথ্যসূত্র:

১. হুমায়ূন আজাদ, লাল নীল দীপাবলী বা বাংলা সাহিত্যের জীবনী (১৯৭৬)

২. ক্ষেত্র গুপ্ত, বাংলা সাহিত্যের সমগ্র ইতিহাস (কলকাতা ২০০১)

৩. ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বাংলা সাহিত্য পরিচয় (কলকাতা ২০০৮)

৪. শামসুজ্জামান খান, সেলিনা হোসেন ও অন্যান্য, চরিতাভিধান (বাংলা একাডেমি, জুন ১৯৮৫)

৫. ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষাশিক্ষা : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০০৪)

৬. ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (অগ্নি পাবলিকেশন্স, এপ্রিল ২০০৪)

 

BCS Bangla Lecture – 3

আধুনিক যুগ

সূচনা পর্ব

  • আধুনিক যুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন – গদ্য সাহিত্যের উদ্ভব (উনিশ শতকে)
  • আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায় – ১৮০১-১৮৬০ খ্রি.
  • বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ – ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (রামারাম বসু, ১৮০১)

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ

  • বাংলা গদ্য সাহিত্যের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে – কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের মাধ্যমে। এ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ওয়েলেসলি (১৮০০ খ্রি.)
  • ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম অধ্যাপক – উইলিয়াম কেরি।
  • ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ লেখক – মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
  • ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পন্ডিতদের অবদান:
    ক) উইলিয়াম কেরি – কথোপকথন (১৮০১), ইতিহাসমালা (১৮১২)
    খ) রামরাম বসু – রাজাপ্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১)
    গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার – বত্রিশ সিংহাসন
    ঘ) গোলকনাথ শর্মা – হিতোপদেশ
    ঙ) হরপ্রসাদ রায় – পুরুষ পরীক্ষা
    চ) চন্ডীচরণ মুনশি – তোতা ইতিহাস
  • বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন – রাজা রামমোহন রায়
  • বাংলা গদ্যে সর্বপ্রথম যতিচিহ্ন ব্যবহার করেন – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

উপন্যাস সাহিত্য

  • আধুনিক সাহিত্যের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা – উপন্যাস
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস – প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৮)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশ নন্দিনী’ (১৮৬৫)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুন্ডলা’
  • বাংলা ভাষার প্রথম ঔপন্যাসিক – প্যারীচাঁদ মিত্র। সার্থক ঔপন্যাসিক – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। মহিলা ঔপন্যাসিক-স্বর্ণকুমারী দেবী এবং মুসলিম ঔপন্যাসিক-মীর মশাররফ হোসেন।
  • মুসলমান লেখক রচিত প্রথম উপন্যাস – মীর মশাররফ হোসেনের ‘রত্নবতী’ (১৮৬৯)।

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত উপন্যাস

আহমদ ছফাগাভীবৃত্তান্ত
আবু জাফর শামসুদ্দিনভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা
আলাউদ্দিন আল আজাদকর্ণফুলী, তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
আবু ইসহাকসূর্য দীঘল বাড়ি
আরোয়ার পাশারাইফেল রোটি আওরত
জসীম উদ্দীনবোবা কাহিনী
জহির রায়হানহাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন
নজিবর রহমানআনোয়ারা
নীলিমা ইব্রাহিমবিশ শতকের মেয়ে
মীর মশাররফ হোসেনরত্নবতী, বিষাদসিন্ধু
রশীদ করীমউত্তম পুরুষ
রাজিয়া খানবটতলার উপন্যাস
শহীদুল্লা কায়সারসংশপ্তক, সারেং বৌ
শওকত ওসমানক্রীতদাসের হাসি, জাহান্নাম হইতে বিদায়
শামসুদ্দীন আবুল কালামকাশবনের কন্যা
সেলিনা হোসেনহাঙ্গর নদী গ্রেনেড
সৈয়দ মুজতবা আলীশবনম
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহলালসালু
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়পদ্মা নদীর মাঝি
অদ্বৈত মল্লবর্মণতিতাস একটি নদীর নাম
হুমায়ুন কবিরনদী ও নারী
হুমায়ুন আজাদছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
হুমায়ুন আহমেদনন্দিত নরকে, শঙ্খলীন কারাগার

নাট্যসাহিত্য

  • নাটকের অপর নাম – দৃশ্যকাব্য। নাটকের প্রধান অঙ্গ-রঙ্গমঞ্চ। নাটককে বলা হয়-সমাজের দর্পণ (একে মিশ্র শিল্পও বলা হয়)।
  • ট্রাজেডি, কমেডি ও ফার্সের মূল পার্থক্য – জীবনানুভূতির গভীরতায়
  • নাটকে কাব্যধর্ম প্রাধান্য পেলে তাকে বলে – কাব্যনাট্য
  • কাব্যে নাট্যধর্ম প্রাধান্য পেলে তাকে বলে – নাট্যকাব্য
  • বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় – ১৭৯৫ সালে কলকাতার ডোমতলায় ‘বেঙ্গল থিয়েটারে’
  • বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক নাটক – তারাচরণ শিকদারের ’ভদ্রার্জুন’ (১৮৫২, হাস্যরসাত্মক)।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘শর্মিষ্ঠা’
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক বিয়োগান্ত নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘কৃষ্ণকুমারী’
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক হাস্যরসাত্মক নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘পদ্মাবতী’।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার – মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
  • নীলদর্পণ – নীলদর্পণ নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। এই নাটকটি ইংরেজ নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লেখা। নাটকটির প্রথম ইংরেজি অনুবাদক মাইকেল মধুসূদন দত্ত।নীলদর্পণ নাটক প্রকাশের প্রেক্ষিতে ‘ইন্ডিগো কমিশন’ গঠিত হয়। এটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম নাটক।

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত নাটক

আনিস চৌধুরীমানচিত্র
আবদুল্লাহ আল মামুনসুবচন নির্বাসনে
জসীম উদ্দীনমধুমালা, বেদের মেয়ে
দীনবন্ধু মিত্রবিয়ে পাগলা বুড়ো, সধবার একাদশী, নীলদর্পণ
নূরুল মোমেননেমেসিস
বিজন ভট্টাচার্যনবান্ন
মীর মশাররফ হোসেনবসন্তকুমারী, জমিদার দর্পণ
মুনীর চৌধুরীরক্তাক্ত প্রান্তর, কবর, মুখরা রমণী বশীকরণ, মানুষ
মামুনুর রশীদওরা কদম আলী
রামনারায়ণ তর্করত্নকুলীনকুলসর্বস্ব
শাহাদৎ হোসেনমসনদের মোহ
সেলিম আল দীনমুনতাসীর ফ্যান্টাসি,          হাত হদাই, কেরামত মঙ্গল
হুমায়ূন আহমেদএইসব দিনরাত্রি, বহুব্রীহি, অয়োময়
সিকান্দার আবু জাফরসিরাজুদ্দৌলা

প্রবন্ধ সাহিত্য 

  • প্রবন্ধ – কোনো বিষয়বস্তু অবলম্বনে রচিত বুদ্ধিবৃত্তিমূলক গদ্যরীতির সাহিত্যকে প্রবন্ধ বলে। বুৎপত্তিগত অর্থে, প্রকৃষ্ট বন্ধনযুক্ত রচনাকেই প্রবন্ধ বলা যেতে পারে। এটি সাহিত্য চর্চার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। প্রবন্ধ সাহিত্যের মাধ্যমে লেখকের মননশীলতা প্রকাশ পায়।
  • প্রবন্ধের প্রতিশব্দ – নিবন্ধ, সন্দর্ভ ও রচনা
  • প্রবন্ধ সাহিত্যের বিচিত্র রূপ – জীবনচরিত, আত্মচরিত, স্মৃতিকথা, সমালোচনা গ্রন্থ, ইতিহাস গ্রন্থ, ভ্রমণকাহিনী, পত্রসাহিত্য, রম্যরচনা ইত্যাদি।
  • বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক প্রথম গ্রন্থ দীনেশচন্দ্র সেনের ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ (১৮৯৬)
  • সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী।

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ

আবুল মনসুর আহমদআমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর
আবদুস সাত্তারঅরণ্য জনপদে
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসসংস্কৃতির ভাঙ্গাসেতু
আহমদ শরীফবিচিত্র চিন্তা
আলাউদ্দিন আল আজাদশিল্পীর সাধনা
এস ওয়াজেদ আলীভবিষ্যতের বাঙালি
কাজী আবদুল ওদুদশাশ্বত বঙ্গ
নীহাররঞ্জন রায়বাঙালির ইতিহাস
গোপাল হালদারসংস্কৃতির রূপান্তর
প্রমথ চৌধুরীতেল-নুন-লাকড়ি, বীরবলের হালখাতা
বদরুদ্দিন ওমরসংস্কৃতির সংকট
মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ্পারস্য প্রতিভা
রাজা রামমোহন রায়বেদান্ত গ্রন্থ
শওকত ওসমানসংস্কৃতির চড়াই উৎরাই
সৈয়দ আলী আহসানসতত স্বাগত
হুমায়ূন আজাদআঁধার ও আধেয়
আবু সাঈদ চৌধুরীপ্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলি
আকবর আলী খানপরার্থপরতার অর্থনীতি
মুহম্মদ ইউনুসদারিদ্র্যহীন বিশ্বের অভিমুখে
ইব্রাহীম খাঁইস্তাম্বুল যাত্রীর পথ
জসীম উদ্দীনচলে মুসাফির
মুহম্মদ আবদুল হাইবিলাতে সাড়ে সাতশ দিন
সৈয়দ মুজতবা আলীদেশে বিদেশে
শেখ মুজিবুর রহমানঅসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা
শহীদুল্লা কায়সাররাজবন্দীর রোজনামচা

বাংলা ভাষাবিষয়ক গ্রন্থ

জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সনLinguistic Survey of India (1903)
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়The Origin and Development of the Bengali Language (ODBL, 1926)
মুহাম্মদ শহীদুল্লাহবাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৬৮)
মুহাম্মদ আবদুল হাইধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত¡
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরশব্দতত্ত্ব, বাংলা ভাষা পরিচয়
সুকুমার সেনবাংলা ভাষার ইতিহাস
মুহাম্মদ এনামুল হকমনীষা মঞ্জুসা
হুমায়ূন আজাদকতো নদী সরোবর

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক গ্রন্থ

দীনেশচন্দ্র সেনবঙ্গভাষা ও সাহিত্য
সুকুমার সেনবাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (৪ খন্ড)
মুহাম্মদ শহীদুল্লাহবাংলা সাহিত্যের কথা
মুহাম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসানবাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
আশরাফ সিদ্দিকীলোকসাহিত্য, লোকায়ত বাংলা
আহমদ শরীফবাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য
মুহাম্মদ এনামুল হকমুসলিম বাংলা সাহিত্য
মুহম্মদ আবদুল হাইসাহিত্য ও সংস্কৃতি
হুমায়ূন আজাদলাল নীল দীপাবলী
আলাউদ্দিন আল আজাদসাহিত্যের আগন্তুক ঋতু
কাজী আবদুল ওদুদসমাজ ও সাহিত্য
মুনীর চৌধুরীবাংলা গদ্যরীতি

গল্প সাহিত্য

  • বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারা – ছোটগল্প (বাংলা সাহিত্যের কনিষ্ঠতম সন্তান)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সচেতন ছোটগল্পকার – স্বর্ণকুমারী দেবী
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্পকার – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • প্রথম সার্থক ছোটগল্প – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দেনাপাওনা’

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ

আবুল মনসুর আহমদহুযুর কেবলা, রিলিফ ওয়ার্ক, আয়না, ফুড কনফারেন্স, গ্যালিভারের সফরনামা (রম্য গল্প)
আবু ইসহাকমহাতরঙ্গ
উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীটুনটুনির বই
জহির রায়হানসূর্যগ্রহণ
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রঠাকুরমার ঝুলি
প্রমথ চৌধুরীচার ইয়ারি কথা
শাহেদ আলীজিবরাঈলের ডানা, একই সমতলে
মুহাম্মদ আবদুল হাইতোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা
শামসুদ্দিন আবুল কালামপথ জানা নেই
সেলিনা হোসেনউৎস থেকে নিরন্তর
হাসান হাফিজুর রহমানআরো দুটি মৃত্যু, দক্ষিণের জানালা
হুমায়ূন আহমেদআনন্দ বেদনার কাব্য, ছায়াসঙ্গী, জলকন্যা

মহাকাব্য

  • পৃথিবীতে চার ধরনের জাত মহাকাব্য আছে – রামায়ণ, মহাভারত, ইলিয়াড, ওডেসি।
  • হিন্দুদের জাতীয় মহাকাব্য – রামায়ণ (৭ পর্ব বিশিষ্ট আদি মহাকাব্য) ও মহাভারত (১৮ পর্ব বিশিষ্ট সবচেয়ে বড় মহাকাব্য)
  • রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক-কৃত্তিবাস ওঝা এবং প্রথম মহিলা অনুবাদক – চন্দ্রাবতী।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি – চন্দ্রাবতী
  • মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক-কবীন্দ্র পরমেশ্বর এবং শ্রেষ্ঠ অনুবাদক – কাশীরাম দাস
  • বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য – অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১)
  • আকারে সবচেয়ে বড় মহাকাব্য – কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যের যে ক্ষেত্রে অবদান ছিল না – মহাকাব্যে

কাব্য সাহিত্য

  • বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে প্রাচীন ধারা – কবিতা।
  • আধুনিক যুগে বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্য – রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’
  • কাব্য সাহিত্যের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা – গীতিকবিতা
  • আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি – বিহারীলাল চক্রবর্তী
  • বাংলা সাহিত্যে আধুনিক কবিতা স্রষ্টাদের মধ্যে প্রধান পাঁচজন – জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে ও অমিয় চক্রবর্তী (এরা ত্রিশের দশকের কবি; এদেরকে আধুনিকবাদী পঞ্চপাণ্ডব বলে)।
  • সনেট (Sonnet) অর্থ-চতুর্দশপদী কবিতা (সনেটের জন্ম ইতালিতে)। বাংলা সাহিত্যে প্রথম সনেট রচয়িতা – মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
  • সনেটের বৈশিষ্ট্য – সনেটে লাইন সংখ্যা ১৪ টি। সনেট অষ্টক ও ষটক দুই ভাগে বিভক্ত। সনেটে একটি মাত্র ভাবের প্রকাশ থাকে।

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ

অমিয় চক্রবর্তীখসড়া, এক মুঠো, মাটির দেয়াল, পারাপার, পালাবদল
আবুল হাসানরাজা যায় রাজা আসে
আবু হেনা মোস্তফা কামালআপন যৌবন বৈরী
আশরাফ সিদ্দিকীতালেব মাস্টার ও অন্যান্য কবিতা
কায়কোবাদবিরহ বিলাপ, অশ্রুমালা
গোলাম মোস্তফারক্তরাগ
জসীম উদ্দীনবালুচর, ধানক্ষেত, রাখালী, নকশী কাঁথার মাঠ
দাউদ হায়দারজন্মই আমার আজন্ম পাপ
নির্মলেন্দু গুণপ্রেমাংশুর রক্ত চাই
প্রমথ চৌধুরীসনেট পঞ্চাশৎ
ফররুখ আহমদমুহূর্তের কবিতা, সাত সাগরের মাঝি, নৌফেল ও হাতেম
বিষ্ণু দেসাত ভাই চম্পা
বুদ্ধদেব বসুমর্মবাণী, বন্দীর বন্দনা, পৃথিবীর পথে, স্বাগত বিদায়
বিহারীলাল চক্রবর্তীসারদামঙ্গল
বন্দে আলী মিয়াকুঁচবরণ কন্যা, ময়নামতির চর
মযহারুল ইসলামবিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি
রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহউপদ্রুত উপকূল
মহাদেব সাহাএই গৃহ এই সন্ন্যাস
রফিক আজাদঅসম্ভবের পায়ে, সীমাবদ্ধ জলে সীমিত, সশস্ত্র সুন্দর
শহীদ কাদরীতোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,উত্তরাধিকার
সুধীন্দ্রনাথ দত্ততন্বী, সংবর্ত, উত্তর ফাল্গুনী, ক্রন্দসী
সুকুমার রায়আবোল তাবোল
সৈয়দ আলী আহসানঅনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত
হাসান হাফিজুর রহমানবিমুখ প্রান্তর
হুমায়ুন আজাদসবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
হেলাল হফিজযে জলে আগুন জ্বলে

মুসলমান গদ্য সাহিত্যিক

  • উনিশ শতকের প্রথম মুসলমান গদ্য লেখক – খন্দকার শামসুদ্দিন সিদ্দিকী (গ্রন্থ: উচিত শ্রবণ)
  • মুসলমান লেখকগণ গদ্য সাহিত্য রচনা করেন প্রধানত হযরত মুহাম্মদ (স) এর জীবনীভিত্তিক (সীরাত গ্রন্থ)। হযরত মুহাম্মদ (স) এর জীবনী সংক্রান্ত প্রথম গ্রন্থ – মহাপুরুষচরিত (লেখক: গিরিশচন্দ্র সেন)। তিনিই সর্বপ্রথম পবিত্র কুরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ করেন।

বাংলা পত্রিকা ও সাময়িকী

  • ভারতবর্ষের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র – বেঙ্গল গেজেট (১৭৮০ সালে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত)
  • বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িকপত্র – দিগদর্শন (মাসিক) এবং সমাচার দর্পণ (সাপ্তাহিক)।
  • বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র – সম্বাদ প্রভাকর। (সম্পাদক: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
  • বাংলাদেশ ভূখন্ড থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র – রংপুর বার্তাবহ
  • ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র – ঢাকা প্রকাশ
  • ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ এর মুখপত্র – শিখা
  • বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির প্রচলনে গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা – সবুজপত্র
  • বাংলাদেশের নারীদের প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা – বেগম (সাপ্তাহিক)
  • বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের বাহিরে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র – দেশবার্তা (লন্ডন থেকে প্রকাশিত)।

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত পত্রিকা

সংবাদপত্রপ্রকাশকালসম্পাদক
বেঙ্গল গেজেট১৭৮০জেমস অগাস্টাস হিকি
দিগদর্শন (মাসিক)১৮১৮জন ক্লার্ক মার্শম্যান
সমাচার দর্পণ (সাপ্তাহিক)
বাঙ্গাল গেজেট (সাপ্তাহিক)১৮১৮গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
সম্বাদ কৌমুদী১৮২১রাজা রামমোহন রায়
সম্বাদ প্রভাকর (দৈনিক)১৮৩৯ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
তত্ত্ববোধিনী১৮৪৩অক্ষয়কুমার দত্ত
রংপুর বার্তাবহ১৮৪৭গুরুচরণ রায়
ঢাকা প্রকাশ১৮৬১কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা১৮৬৩কাঙাল হরিনাথ
বঙ্গদর্শন১৮৭২বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ভারতী (মাসিক)১৮৭৭দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সাধনা১৮৯১রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মোহাম্মদী (সাপ্তাহিক)১৯০৮মোহাম্মদ আকরম খাঁ
দৈনিক আজাদ১৯৩৫
সবুজপত্র১৯১৪প্রমথ চৌধুরী
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা১৯১৮মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও মোজাম্মেল হক
আঙ্গুর (কিশোর মাসিক)১৯২০মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
মোসলেম ভারত (মাসিক)১৯২০মোজাম্মেল হক
সওগাত (মাসিক)১৯১৮মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন
দৈনিক নবযুগ১৯৪১কাজী নজরুল ইসলাম
ধূমকেতু১৯২২
কল্লোল (মাসিক)১৯২৩দীনেশরঞ্জন দাশ
সাম্যবাদী১৯২৩খান মুহম্মদ মঈনুদ্দীন
কালিকলম (মাসিক)১৯২৬প্রেমেন্দ্র মিত্র
শিখা (বার্ষিক)১৯২৭আবুল হুসেন (প্রথম)
শিখা (বার্ষিক)১৯২৭কাজী মোতাহার হোসেন (পরবর্তী)
পূর্বাশা১৯৩২সঞ্জয় ভট্টাচার্য
কবিতা১৯৩৫বুদ্ধদেব বসু
বেগম১৯৫০নূরজাহান বেগম
সমকাল১৯৫৭সিকান্দার আবু জাফর
উত্তরাধিকার, ধান শালিকের দেশবাংলা একাডেমি
সাহিত্য পত্রিকাবাংলা বিভাগ (ঢাবি)

ছন্দ:

ছন্দ:

সংস্কৃত ভাষায় ছন্দ শব্দের অর্থ কাব্যের মাত্রা বা ইচ্ছা। ছন্দ শব্দের ব্যাপক অর্থ ‘গতি-সৌন্দর্য। মাত্রা নিয়মের যে বিচিত্রতায় কাব্যের ইচ্ছাটি বিশেষভাবে ধ্বনি-রূপময় হয়ে ওঠে, তাকেই ছন্দ বলে। সাহিত্যের ক্ষেত্রে বলা যায়, ভাষাকে শ্রুতিমধুর করার জন্য সুনিয়মিত ও সুপরিমিতভাবে ধ্বনিবিন্যাস করার বিবিধ প্রণালির নাম ছন্দ।

যতি:

কবিতার পর্ব নির্ণয়ের সময় পাঠকের নিঃশ্বাস পতন ও শ্বাসগ্রহণের স্বাচ্ছন্দ্যকে বিবেচনা করা হয়। কবিতা পাঠের সুবিধার্থে কবিতার প্রতি ছত্রে এক বা একাধিক বিশ্রামস্থান সৃষ্টি হয়ে থাকে। এ বিশ্রামস্থানকে যতি বলা হয়।

পর্ব:

যতি দ্বারা কবিতার চরণ কতগুলো ধ্বনি সমষ্টিতে বিভক্ত হয়ে যায়। এই খন্ডিত ধ্বনি প্রবাহকে পর্ব বলে। বিভিন্ন ছন্দে নির্দিষ্ট মাত্রার পর্বগুলোকে পূর্ণপর্ব/মূলপর্ব বলে। নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কম কিন্তু ছত্রের শেষে উপস্থিত পর্বকে অপূর্ণ পর্ব বলে। নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কম কিন্তু ছত্রের প্রারম্ভে বর্তমান পর্বকে অতিপর্ব বলে।

মাত্রা:

অক্ষর উচ্চারণের কাল-পরিমাণকে মাত্রা বলে। এক অক্ষর উচ্চারণের জন্য যে সময় প্রয়োজন সে সময় অনুসারে প্রতিটি অক্ষরের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ছন্দের প্রকৃতিভেদে মাত্রা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

ছন্দের প্রকারভেদ

১. অক্ষরবৃত্ত:

যে ছন্দের পর্বে আদি ও মধ্যবর্তী যুগ্মধ্বনি সংকুচিত ও একমাত্রা হয়, তাকে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বলে। একে যৌগিক, তানপ্রধান, মিশ্র বা জটিল কলামাত্রিক ছন্দও বলা হয়। এর মূল পর্ব ৮ বা ১০ মাত্রার হয়। যেমন:

“মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই
এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই।”

চরণগুলোর মাত্রাসংখ্যা যথাক্রমে ৮ + ৬

২. মাত্রাবৃত্ত:

যে ছন্দে যুগ্মধ্বনি সর্বদা বিশ্লিষ্ট ভঙ্গিতে উচ্চারিত হয়ে দুমাত্রার মর্যাদা পায় এবং অযুগ্মধ্বনি একমাত্রা বলে গণনা করা হয়, তাকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলে। একে বর্ণবৃত্ত, কলাবৃত্ত বা ধ্বনিপ্রধান ছন্দও বলা হয়। এর মূল পর্ব ৬ মাত্রার হয়। তবে ৪, ৫, ৭, ৮ মাত্রার পর্বও এ ছন্দে পাওয়া যায়। যেমন –

“এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জালে।”

চরণগুলোর মাত্রাসংখ্যা যথাক্রমে ৬ + ৬ + ৬+ ২

“গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা
কূলে একা বসে আসি নাহি ভরসা।”

চরণগুলোর মাত্রাসংখ্যা যথাক্রমে ৮ + ৫

৩. স্বরবৃত্ত:

যে ছন্দে প্রত্যেক পর্বের প্রথম শব্দের আদিতে শ্বাসাঘাত পড়ে তাকে স্বরবৃত্ত ছন্দ বলে। এই ছন্দে স্বরের সংখ্যার উপর পর্বের মাত্রা নির্ভরশীল। একে দলবৃত্ত, লৌকিক বা ছড়ার ছন্দও বলা হয়। এর মূল পর্ব ৪ মাত্রার হয়। যেমন:

“বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই।”

চরণগুলোর মাত্রাসংখ্যা যথাক্রমে ৪ + ৪ + ৪ + ১

“আবার যদি ইচ্ছা কর আবার আস ফিরে
দুঃখ সুখের ঢেউ খেলানো এই সাগরের তীরে।”

চরণগুলোর মাত্রাসংখ্যা যথাক্রমে ৪ + ৪ + ৪ + ২

বিভিন্ন ছন্দরূপ

গদ্যছন্দ:

পরস্পর ছেদ-বিচ্ছিন্ন চরণ দ্বারা গঠিত, পর্ব বহুত্ব বর্জিত, চরণ দৈর্ঘ্য অর্থানুযায়ী স্বাধীন এবং অন্তমিলহীন ও প্রবহমান যে ছন্দ তাকে গদ্যছন্দ বলা হয়। গদ্যছন্দ যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ্যের অধিকারী। এই ছন্দ প্রচলিতভাবে অক্ষরবৃত্তের রকমফের মাত্র। যেমন:

“তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনাজালে হে ছলনাময়ী
মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে সরল জীবনে।”

অমিত্রাক্ষর ছন্দ:

অমিত্রাক্ষর ছন্দ পয়ার ছন্দভিত্তিক, এতে পঙক্তির শেষে মিল নেই। এই ছন্দ অক্ষরবৃত্ত পয়ার (চতুর্দশ ছন্দবিশেষ) অবলম্বন করেই তৈরি। এই ছন্দে এক পঙক্তিতে বক্তব্য শেষ না হয়ে অন্য পঙক্তিতে গড়িয়ে যায়। এই বৈশিষ্ট্যকে প্রবহমানতা বলে। এর অপর নাম প্রবহমান অক্ষরবৃত্ত ছন্দ। প্রতি চরণে ১৪ মাত্রা, (৮ + ৬) পর্বে বিভক্ত। এই ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতাগুলো এই ছন্দে লেখা হয়। যেমন:

“সম্মুখ-সমরে পড়ি, বীর চূড়ামণি
বীরবাহু, চলে যবে গেলা যমপুরে।”

চরণগুলোর মাত্রাসংখ্যা যথাক্রমে ৮ + ৬

অলঙ্কার

অলঙ্কার শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ যার দ্বারা ভূষিত করা হয়। কাব্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য যা দ্বারা কাব্যকে সজ্জিত করা হয় তাকে অলঙ্কার বলে। ভাষার অলঙ্কার তার শব্দের ওপর নির্ভরশীল। শব্দের বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে ধ্বনিগত ও অর্থগতভাবে অলঙ্কারকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা: শব্দালঙ্কার ও অর্থালঙ্কার।

শব্দালঙ্কার:

অর্থবহ ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে শব্দ বলা হয়। যে অলঙ্কার ধ্বনির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে ও শ্রæতিমধুর করে তাকে শব্দালঙ্কার বলে। শব্দালঙ্কারের মধ্যে অনুপ্রাস, যমক, শ্লেষ, বক্রোক্তি, ধ্বন্যুক্তি ও পুনরুক্তবদাভাস ইত্যাদি প্রধান। যেমন:
“বাঘের বিক্রম সম মাঘের হিমানী।
কুলায় কাঁপিছে কাতর কপোত।”

অনুপ্রাস:

একই ব্যঞ্জনধ্বনির বাক্যের মধ্যে বারবার ব্যবহার বা একাধিক ব্যঞ্জনবর্ণ বারবার ধ্বনিত হলে তাকে অনুপ্রাস বলে। যেমন:

‘কাক কালো কোকিল কালো কালো কন্যার কেশ।’

‘ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ছাড়িয়া।’

‘গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা

যমক:

একই শব্দ একই ক্রমানুসারে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে একাধিকবার ব্যবহৃত হলে তাকে যমক বলে। যেমন –

‘গুরু কাছে লব গুরু দুখ।
ভারত, ভারত খ্যাত আপনার গুণে।’

শ্লেষ:

একটি শব্দ একবার মাত্র ব্যবহৃত হয়ে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করলে তাকে শ্লেষ বলে। যেমন –

‘কে বলে ঈশ্বর গুপ্ত ব্যাপ্ত চরাচর
যাহার প্রভায় প্রভা পায় প্রভাকর।’

বক্রোক্তি:

রচনার সৌন্দর্য প্রকাশের জন্য বক্রতা বা মনোহর ভঙ্গি দ্বারা উক্তি সম্পন্ন হলে তাকে বক্রোক্তি বলে। এখানে বক্তা বলতে চান এক কিন্তু শ্রোতা তাকে বেঁকিয়ে অন্য অর্র্থ করেন। যেমন –

‘গেীরিসেনের আবার টাকার অভাব কী।
এখানে প্রস্রাব করবেন না করলে দিতে হবে টাকা।’

ধ্বন্যুক্তি:

ধ্বনি উচ্চরণে যদি বিষয়বস্তুকে দৃশ্যমান করা যায়, তাকে ধ্বন্যুক্তি বলে। যেমন –

‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
বাজছে বাদল গামুর গুমুর
টাপুর টুপুর গামুর গুমুর
ঝাপুর ঝুপুর ছাপুর ছুপুর।’

পুনরুক্তবদাভাস:

একই চরণে একাধিক একার্থক শব্দ বিভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয় কিন্তু বিশ্লেষণে সেই পুনরাবৃত্তির বিভিন্ন অর্থ প্রতীয়মান হয় তাকে পুনরুক্তবদাভাস বলে। যেমন –

‘নিশীথ রাতে একা বসে গান গাই।
তনু দেহটি সাজাব তব আমার আভরণে।’

 অর্থালঙ্কার:

যে অলঙ্কার একান্তভাবে শব্দের অর্থের উপর নির্ভর করে তাকে অর্থালঙ্কার বলে। অর্থালঙ্কারকে প্রধানত পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা- সাদৃশ্যমূলক, বিরোধমূলক, শৃঙ্খলামূলক, ন্যায়মূলক, গূঢ়ার্থমূলক।

সাদৃশ্যমূলক:

দুটো বিজাতীয় বস্তুর মধ্যে কোনোরকম ঐক্য, সঙ্গতি কিংবা সাদৃশ্য নির্মাণে যেসব অলঙ্কার প্রয়োগ করা হয়, তাকে সাদৃশ্যমূলক অলঙ্কার বলে। এর মধ্যে উপমা, রূপক, উৎপ্রেক্ষা, ভ্রান্তিমান, অতিশয়োক্তি, সমাসোক্তি ইত্যাদি প্রধান। যেমন-

বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে। আগে পিছে পাঁচটি মেয়ে, পাঁচটি রঙের ফুল।

বিরোধমূলক:

দুটি বস্তুর মধ্যে আপাত বিরোধ যদি কাব্যে চমৎকারিত্ব বা উৎকর্ষের সৃষ্টি করে, তাকে বিরোধমূলক অলঙ্কার বলে। এর মধ্যে বিরোধাভাস, বিভাবনা, বিশেষোক্তি, অসঙ্গতি, বিষম ইত্যাদি প্রধান। যেমন –

সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর। মদ না খেয়েও মাতাল তুমি টাকার গরমে।

শৃঙ্খলামূলক:

কবিতা রচনা করার ক্ষেত্রে এক বাক্যের একটি কাজ অন্য বাক্যের কারণ হয় এবং সেই কারণের কাজ আবার অন্য কারণের কারণ হয় এভাবে উৎকর্ষ শব্দ সবার শেষে বসে, এরূপ অলঙ্কারকে শৃঙ্খলামূলক অলঙ্কার বলে। এর মধ্যে কারণমালা, একাবলী, সার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। যেমন –

আমাদের দেশের অধিকাংশ পুরুষ গৃহপালিত, পত্নীচালিত, মাতৃলালিত।

ন্যায়মূলক:

ন্যায়বাচক উক্তি দিয়ে রচনাকে জোরালো করার চেষ্টা করা হলে তাকে ন্যায়মূলক অলঙ্কার বলে। এর মধ্যে অর্থান্তরন্যাস, কাব্যলিঙ্গ ইত্যাদি প্রধান। যেমন –

তুমি আমায় ভালোবাসো তাইতো আমি কবি।

গূঢ়ার্থমূলক:

যে রচনায় বা বক্তব্যে বাচ্যার্থের আড়ালে অন্য গূঢ়ার্থ লুকায়িত থাকে তাকে গূঢ়ার্থমূলক অলঙ্কার বলে। এর মধ্যে ব্যাজস্তুতি, অপ্রস্তুত, প্রশংসা, সূক্ষ্ম, অর্থাপত্তি, স্বভাবোক্তি, আক্ষেপ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। যেমন –

হাতি ঘোড়া গেল তল, ভেড়া বলে কত জল।

নমুনা প্রশ্ন

১. বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প –

ক) ক্ষুধিত পাষাণ

খ) দেনা পাওনা

গ) পদ্মগোখরা

ঘ) নবকাহিনী

উত্তর: খ

২. মুসলমান লেখক রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?

ক) কপালকুন্ডলা

খ) রত্নবতী

গ) ঘরে বাইরে

ঘ) উত্তম পুরুষ

উত্তর: খ

৩. ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ঘ) প্রমথ চৌধুরী

উত্তর: ক

৪. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?

ক) সওগাত

খ) কল্লোল

গ) লাঙ্গল

ঘ) শিখা

উত্তর: ক

৫. ‘লাঙ্গল’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

ক) প্রমথ চৌধুরী

খ) কাজী নজরুল ইসলাম

গ) বেগম রোকেয়া

ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

উত্তর: খ

৬. কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়?

ক) বঙ্গদর্শন

খ) দিকদর্শন

গ) ভরতী

ঘ) বিচিত্রা

উত্তর: ক

৭. ‘ তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকাটির সম্পাদক-

ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

খ) অক্ষয়কুমার দত্ত

গ) গুরুচরণ রায়

ঘ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ

উত্তর: খ

৮. বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা ‘বাঙ্গাল গেজেট’ কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?

ক) ১৭৮০ সালে

খ) ১৮১৮ সালে

গ) ১৮৭২ সালে

ঘ) ১৮৯৯ সালে

উত্তর: খ

৯. সর্বপ্রথম কোন মুসলিম সম্পাদক ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন?

ক) শেখ আবদুর রহিম

খ) মীর মোশাররফ হোসেন

গ) শেখ আলীমুল্লাহ

ঘ) মো. রেয়াজ উদ্দিন

উত্তর: গ

১০. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা কে?

ক) লর্ড ওয়েলেসলি

খ) লর্ড কর্নওয়ালিস

গ) উইলিয়াম কেরি

ঘ) ক্লার্ক মাশম্যান

উত্তর: ক

১১. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ কে?

ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার

খ) রামরাম বসু

গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ঘ) উইলিয়াম কেরি

উত্তর: ঘ

১২. ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন –

ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার

খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

গ) চন্ডীচরণ মুনশি

ঘ) রামরামায়ণ  তর্করত্ন 

উত্তর: ক

১৩. ‘বত্রিশ সিংহাসন’ কার রচনা –

ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের

খ) রামরাম বসুর

গ) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়ের

ঘ) বিদ্যাসাগরের

উত্তর: ক

১৪. ‘শাশ্বত বঙ্গ’ গ্রন্থটির রচিয়তা কে?

ক) কাজী মোতাহার হোসেন

খ) আবুল হোসেন

গ) কাজী আব্দুল ওদুদ

ঘ) কাজী আনোয়ারুল কাদিও

উত্তর: গ

১৫. ‘রেখাচিত্র’ কার রচনা?

ক) গোলাম মোস্তফা

খ) আবুল ফজল

গ) আবুল মনসুর আহম্মেদ

ঘ) বদরুদ্দিন উমর

উত্তর: খ

১৬. ‘মোস্তফা চরিত’ গ্রন্থের রচয়িতা –

ক) মুহম্মদ আব্দুল হাই

খ) বরকতুল্লাহ্

গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

ঘ) মাওলানা আকরম খাঁ

উত্তর: ঘ

১৭. কোনটি হযরত মুহম্মদ (স) এর জীবনী গ্রন্থ?

ক) মরুমায়া

খ) মরুভাস্কর

গ) মরুতীর্থ

ঘ) মরুকুসুম

উত্তর: খ

১৮. ‘মানব মুকুট’ গ্রন্থের রচয়িতা –

ক) মোহাম্মদ আকরম খাঁ

খ) এয়াকুব আলী চৌধুরী

গ) এস ওয়াজেদ আলী

ঘ) মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী

উত্তর: খ

১৯. ‘বিশ্বনবী’ গ্রন্থের রচয়িতা-

ক) গোলাম মোস্তফা

খ) আবুল মনসুর আহমদ

গ) আবুল ফজল

ঘ) মুহম্মদ আবদুল হাই

উত্তর: ক

২০. ‘আলালের ঘরের দুলাল’-

ক) প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস

খ) প্রথম বাংলা উপন্যাস

গ) প্রথম চলিত নকশা

ঘ) প্রথম আখ্যায়িকা

উত্তর: খ

২১. ‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের রচয়িতা-

ক) শওকত ওসমান

খ) জহির রায়হান

গ) শহীদুল্লাহ কায়সার

ঘ) রশীদ করিম

উত্তর: ঘ

২২. ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের লেখক কে?

ক) আবদুল ওদুদ

খ) নজিবর রহমান

গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী

ঘ) মোজাম্মেল হক

উত্তর: খ

২৩. ‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাসের রচয়িতা –

ক) গোলাম মোস্তফা

খ) শওকত ওসমান

গ) কাজী ইমদাদুল হক

ঘ) মীর মশাররফ হোসেন

উত্তর: গ

২৪. ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ কোন ধরনের শিল্পকর্ম?

ক) গল্পসংগ্রহ

খ) ভ্রমণকাহিনী

গ) উপন্যাস

ঘ) প্রবাদ সংকলন

উত্তর: গ

২৫. ‘জোহরা’ উপন্যাসের রচয়িতা হলেন –

ক) প্যারীচাঁদ মিত্র

খ) মীর মশাররফ হোসেন

গ) মোজাম্মেল হক

ঘ) কাজী ইমদাদুল হক

উত্তর: গ

২৬. ‘নদী ও নারী’ কার রচনা?

ক) হুমায়ূন আহমেদ

খ) হুমায়ুন আজাদ

গ) হুমায়ুন কবির

ঘ) হুমায়ুন ফরিদ

উত্তর: গ

২৭. ‘ লোকে সিন্ধু’ উপন্যাসের রচয়িতা –

ক) লালন ফকির

খ) হাছন রাজা

গ) ফকির আলমগীর

ঘ) পাগলা কানাই

উত্তর: খ

২৮. ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ গ্রন্থটি কার?

ক) শওকত ওসমান

খ) সেলিম আল দীন

গ) শওকত আলী

ঘ) সৈয়দ শামসুল হক

উত্তর: গ

২৯. ‘বটতলার উপন্যাস’ এর রচয়িতা কে?

ক) রাজিয়া খান

খ) সুফিয়া কামাল

গ) রাবেয়া খাতুন

ঘ) সেলিনা হোসেন

উত্তর: ক

৩০. নাটক কী?

ক) দৃশ্যকাব্য

খ) কাব্যনাট্য

গ) গীতিনাট্য

ঘ) নৃত্যনাট্য

উত্তর: ক

৩১. ট্রাজেডি, কমেডি ও ফার্সের মূল পার্থক্য –

ক) জীবনানুভূতির গভীরতায়

খ) কাহিনির সরলতা ও জটিলতা

গ) দৃষ্টিভঙ্গির সূক্ষ্মতায়

ঘ) ভাষার প্রকারভেদে

উত্তর: ক

৩২. ‘সুবচন নির্বাসনে’ নাটকটি লিখেছেন –

ক) কল্যাণ মিত্র

খ) আবদুল্লাহ আল মামুন

গ) সৈয়দ শামসুল হক

ঘ) সেলিম আল দীন

উত্তর: খ

৩৩. ‘মানচিত্র’ নাটকের রচয়িতা –

ক) তুলসী লাহিড়ী

খ) আনিস চৌধুরী

গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

ঘ) শওকত ওসমান

উত্তর: খ

৩৪. ‘ওরা কদম আলী’ নাটকটির রচয়িতা কে?

ক) মমতাজ উদ্দিন আহমেদ

খ) মামুনুর রশীদ

গ) ইব্রাহিম খলীল

ঘ) ওবায়দুল হক

উত্তর: খ

৩৫. বাংলাদেশে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটক কে রচনা করেছেন?

ক) নুরুল মোমেন

খ) আসকার ইবনে শাইখ

গ) মুনীর চৌধুরী

ঘ) সিকান্দার আবু জাফর

উত্তর: ঘ

৩৬. ‘কালবেলা’ নাটকটির লেখক কে?

ক) আনিস চৌধুরী

খ) সাইদ আহমেদ

গ) মুনীর চৌধুরী

ঘ) কল্যাণ মিত্র

উত্তর: খ

৩৭. ‘নবান্ন’ নাটক কে লিখেছেন?

ক) সিকান্দার আবু জাফর

খ) অমৃতলাল বসু

গ) বিজন ভট্টাচার্য

ঘ) নুরুল মোমেন

উত্তর: গ

৩৮. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থের নাম –

ক) বঙ্গভাষা ও সাহিত্য

খ) বাংলা সাহিত্যের কথা

গ) বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস

ঘ) বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত

উত্তর: খ

৩৯. ‘বাঙালির ইতিহাস’ বইটির লেখক কে

ক) নীহারঞ্জন রায়

খ) আর সি মজুমদার

গ) অধ্যাপক আব্দুল করীম

ঘ) অধ্যাপক সুনীত

উত্তর: ক

৪০. ‘পারস্য প্রতিভা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

ক) মাওলানা আকরাম খাঁ

খ) ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ

গ) মুহাম্মদ আব্দুল হাই

ঘ) মোহাম্মদ বরকাতুল্লাহ

উত্তর: ঘ

৪১. কোনটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর রচিত –

ক) সাহিত্য চর্চা

খ) শ্বাশত বঙ্গ

গ) কালের যাত্রার ধ্বনি

ঘ) সংস্কৃতি কথা

উত্তর: ঘ

৪২. ‘বিদায় হজ’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

ক) এস ওয়াজেদ আলী

খ) ইয়াকুব আলী চৌধুরী

গ) মো. লুৎফুর রহমান

ঘ) মো: বরকাতুল্লাহ

উত্তর: ঘ

৪৩. ‘স্বরূপের সন্ধানে’ গ্রন্থের রচয়িতা –

ক) মনিরুজ্জামান

খ) আনিসুজ্জামান

গ) আনিস চৌধুরী

ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

উত্তর: খ

৪৪. ‘শাহনামা’ মৌলিক গ্রন্থটি কার?

ক) মালিক জায়সী

খ) ফেরদৌসী

গ) বাহরাম খান

ঘ) দৌলত কাজী

উত্তর: খ

৪৫. কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ গ্রন্থটি কোন ধরনের?

ক) কাব্য

খ) মহাকাব্য

গ) ইতিহাস

ঘ) গীতিকাব্য

উত্তর: খ

৪৬. ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ কার লেখা?

ক) সুকুমার রায়

খ) দীনেশচন্দ্র সেন

গ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র

ঘ) লালবিহারী দে

উত্তর: গ

৪৭. ‘প্রাগৈতিহাসিক’ গল্পের রচয়িতা কে?

ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

গ) আবু জাফর শামসুদ্দিন

ঘ) আল মাহমুদ

উত্তর: খ

৪৮. ‘যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি।’ এ চরণটি কার লেখা?

ক) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

খ) কাজী নজরুল ইসলাম

গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

ঘ) স্বামী বিবেকানন্দ

উত্তর: ক

৪৯. ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র কোনটি?

ক) ধূমকেতু

খ) শিখা

গ) ঢাকা প্রকাশ

ঘ) ক্রান্তি

উত্তর: খ

৫০. বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি –

ক) রবীন্দ্রনাথ

খ) বিহারীলাল

গ) মোহিতলাল

ঘ) রঙ্গলাল

উত্তর: খ

৫১. বাংলা ছন্দ কত রকমের?

ক) দুই

খ) তিন

গ) চার

ঘ) পাঁচ

উত্তর: খ

৫২. যে ছন্দের মূল পর্বের মাত্রা চার, তাকে বলা হয় –

ক) স্বরবৃত্ত ছন্দ

খ) পয়ার ছন্দ

গ) মাত্রাবৃত্ত ছন্দ

ঘ) অক্ষরবৃত্ত ছন্দ

উত্তর: ক

৫৩. লৌকিক ছন্দ কাকে বলে?

ক) অক্ষরবৃত্তকে

খ) মাত্রাবৃত্তকে

গ) স্বরবৃত্তকে

ঘ) গদ্য ছন্দকে

উত্তর: গ

৫৪. ‘পয়ার’ ছন্দ মধ্যযুগের কোন কাব্যে ব্যবহৃত হতো?

ক) মর্সিয়া কাব্যে

খ) নাথ সাহিত্যে

গ) মঙ্গলকাব্যে

ঘ) বৈষ্ণব পদাবলিতে

উত্তর: গ

৫৫. মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত নতুন ছন্দের নাম কী?

ক) পয়ার

খ) অমিত্রাক্ষর

গ) মাত্রাবৃত্ত

ঘ) অক্ষরবৃত্ত

উত্তর: খ

৫৬. সনেটের কয়টি অংশ?

ক) একটি

খ) দুটি

গ) তিনটি

ঘ) চারটি

উত্তর: খ

৫৭. পৃথিবীর প্রথম সনেট রচনা করেন কে?

ক) শেক্সপিয়ার

খ) মিল্টন

গ) মধুসূদন

ঘ) পেত্রার্ক

উত্তর: ঘ

৫৮. সাহিত্যে অলঙ্কার কয় ধরনের?

ক) ২

খ) ৩

গ) ৪

ঘ) ৫

উত্তর: খ

৫৯. একই বাক্যে ভিন্নজাতীয় কিন্তু সমান গুণবিশিষ্ট দুটি বস্তুর মধ্যকার সাদৃশ্য উল্লখকে কী বলে?

ক) উৎপ্রেক্ষা

খ) রূপক

গ) উপমা

ঘ) অনুপ্রাস

উত্তর: গ

৬০. ‘ছড়া’ কোন ছন্দে রচিত?

ক) মাত্রাবৃত্ত

খ) অক্ষরবৃত্ত

গ) স্বরবৃত্ত

ঘ) অমিত্রাক্ষর

উত্তর: গ

তথ্যসূত্র:

১. মনিরুজ্জামান, বাংলা সাহিত্য : অতীত ও উত্তরকাল (বাংলা একাডেমি, মে ২০০৩)

২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্যের স্বরূপ (বৈশাখ ১৩৪৫)

৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আধুনিক সাহিত্য (বৈশাখ ১৩১৪)

৪. হুমায়ূন আজাদ, লাল নীল দীপাবলী বা বাংলা সাহিত্যের জীবনী (১৯৭৬)

৫. ক্ষেত্র গুপ্ত, বাংলা সাহিত্যের সমগ্র ইতিহাস (কলকাতা ২০০১)

৬. ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বাংলা সাহিত্য পরিচয় (কলকাতা ২০০৮)

৭. মাহবুবুল আলম, বাংলা ছন্দের রূপরেখা (খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি, ২০০৪)

৮. ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (অগ্নি পাবলিকেশন্স, এপ্রিল ২০০৪)

৯. শামসুজ্জামান খান, সেলিনা হোসেন ও অন্যান্য, চরিতাভিধান (বাংলা একাডেমি, জুন ১৯৮৫)

 

Bcs Bangla Lecture -4

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান

বাংলা একাডেমি

  • বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় – ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫ সালে (ভাষা আন্দোলনের ফলে)।
  •  বাংলা একাডেমি ভবনের পূর্ব নাম – বর্ধমান হাউজ
  •  বাংলা একাডেমিকে বলা হয় – জাতির মননের প্রতীক
  •  বাংলা একাডেমি উদ্বোধন করেন এবং উদ্বেধনী ভাষণ দেন – পূর্ব বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার
  •  বাংলা একাডেমির প্রথম নির্বাহী ছিলেন – মুহম্মদ বরকতউল্লাহ
  •  বাংলা একাডেমির প্রথম সভাপতি – মওলানা আকরম খাঁ
  •  বাংলা একাডেমির প্রথম পরিচালক – ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
  •  বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক – ড. মাযহারুল ইসলাম
  •  বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক – অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান
  • বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রবর্তিত হয় – ১৯৬০ সাল থেকে
  • বাংলা একাডেমির বর্তমান বিভাগ ৪ টি। (গ্রন্থাগার একটি পৃথক বিভাগের মর্যাদায়)।
    ক) গবেষণা, সংকলন ও ফোকলোর বিভাগ
    খ) ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পত্রিকা বিভাগ
    গ) পাঠ্যপুস্তক বিভাগ
    ঘ) প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ
  •  বাংলা একাডেমির প্রথম প্রকাশনা – বাংলা একাডেমি পত্রিকা (১৯৫৭)
  •  বাংলা একাডেমিতে অবস্থিত – ভাষা আন্দোলন জাদুঘর, নজরুল মঞ্চ ও নজরুল চত্বর।
  •  বাংলা একাডেমি থেকে সাময়িকী ও পত্রিকা বের হয় – ৬টি।

বাংলা একাডেমি প্রকাশিত পত্রিকা:

বাংলা একাডেমির পত্রিকাপত্রিকার ধরন
বাংলা একাডেমি পত্রিকাগবেষণামূলক ত্রৈমাসিক
বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকাষান্মাসিক পত্রিকা
উত্তরাধিকারসৃজনশীল মাসিক (পূর্বে ছিল ত্রৈমাসিক)
ধানশালিকের দেশত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা
বাংলা একাডেমি বার্তা (পূর্বে নাম ছিল ‘লেখা’)ত্রৈমাসিক মুখপত্র
The Bangla Academy Journalইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষান্মাসিক পত্রিকা

 বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি

  • এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৫ জুলাই ১৭৮৪ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ামে।
  • এশিয়াটি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা – স্যার উইলিয়াম জোন্স
  • ‘পাকিস্তান এশিয়াটি সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠিত হয় – ৩ জানুয়ারি ১৯৫২
  • ‘পাকিস্তান এশিয়াটি সোসাইটি’ নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি’ রাখা হয় – ১৯৭১ সালে
  •  বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত বিশ্বকোষ – বাংলাপিডিয়া।
  •  ‘বাংলাপিডিয়া’ প্রকাশিত হয় – ২০০৩ সালে (১৪ খন্ডে)।
  •  বাংলাপিডিয়ার সম্পাদক – সিরাজুল ইসলাম।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনিস্টিটিউট

  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনিস্টিটিউট অবস্থিত –  ঢাকার সেগুনবাগিচায়
  • এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন –  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব কফি আনানকে সাথে নিয়ে।
  • এটি উদ্বোধন করা হয় – ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১০ সালে (শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন)।
  • এর উদ্দেশ্য – বাংলাসহ বিশ্বের সব ভাষার গবেষণা, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সমন্বয়-সাধন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি

  • বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৯৭৪ সালে ঢাকার সেগুনবাগিচায়
  • শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট – ১৯৭৪ সালে ‘পাকিস্তান আর্ট কাউন্সিলের’ নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা – করা হয়।
  • শিল্পকলা একাডেমির উদ্দেশ্য – জাতীয় সংস্কৃতির লালন ও বিকাশ

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি

  • বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৯৭৬ সালে
  • শিশু একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা – রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
  • শিশু একাডেমি অবস্থিত – দোয়েল চত্বর সংলগ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  • শিশু একাডেমি প্রকাশিত সচিত্র মাসিক পত্রিকা – শিশু

নজরুল ইনিস্টিটিউট

  • নজরুল ইনিস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিতি হয় – ১৯৮৫ সালে
  • নজরুল ইনিস্টিটিউট – ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের’ অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
  • নজরুল ইনিস্টিটিউট অবস্থিত – ঢাকার ধানমন্ডিতে ‘কবিভবনে’।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

  • বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৯৮২ সালে
  • বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা – অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাঈদ
  • বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের শ্লোগান – আলোকিত মানুষ চাই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৯৭৫ সালে
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা – বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন – ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় – ঢাকার আগারগাঁওয়ে
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত সাময়িকী – ৭টি (১টি আরবি ভাষায়)।
  • ‘ইসলামি বিশ্বকোষ’ এর প্রকাশক – ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

ভাষা ও সাহিত্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠাকাল

প্রতিষ্ঠানের নামপ্রতিষ্ঠাকাল
সংস্কৃত কলেজ১৭৯১
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ১৮০০
বাংলা মুদ্রণ যন্ত্র (কলকাতার শ্রীরামপুরে)১৮০০
হিন্দু কলেজ১৮১৭
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়১৮৫৭
মহামেডান লিটারেরি সোসাইটি১৮৬৩
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ (কলকাতা)১৮৯৫
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি১৯১১
মুসলিম সাহিত্য সমাজ (ঢাকা)১৯২৬
বাংলা বিভাগ (ঢাবি)১৯২১

বাংলা সাহিত্যে প্রথম

  • বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ – চর্যাপদ (২৪ জন পদকর্তা)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন/প্রথম নিদর্শন ও কাব্য – চর্যাপদ
  • বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন ও কাব্য – শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন (বড়– চন্ডীদাস)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতিকবি – বিহারীলাল চক্রবর্তী
  • বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচয়িতা – মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি – চন্দ্রাবতী
  • বাংলা ভাষার আদি/প্রথম কবি – লুইপা
  • রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম এবং প্রথম বাঙালি মুসলমান কবি – শাহ মুহম্মদ সগীর
  • পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক কবি – ফকির গরীবুল্লাহ
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক বোধসম্পন্ন কবি – ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  • আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্য – পদ্মিনী উপাখ্যান (রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য – মেঘনাদবধ (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম জীবনীগ্রন্থ/জীবনীকাব্য – শ্রীচৈতন্য-ভাগবত (১৫৪৮, বৃন্দাবন দাস)
  • বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম প্রণয়োপাখ্যান – ইউসুফ-জোলেখা (শাহ মুহম্মদ সগীর)
  • বাঙালি রচিত এবং বঙ্গাক্ষরে মুদ্রিত প্রথম মৌলিক গ্রন্থ – রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১, রামরাম বসু)
  • বাংলা সাহিত্য বিষয়ক প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ – কথোপকথন (১৮০১, উইলিয়াম কেরি)
  • বাংলা ভাষায় প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা – ম্যানুয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁও
  • বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা – রাজা রামমোহন রায়
  • রোমান অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ – পর্তুগিজ বাংলা ব্যাকরণ (১৭৪৩, ম্যানুয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁও)
  • বাঙালি রচিত এবং বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ – গৌড়ীয় ব্যাকরণ (১৮৩৩, রাজা রামমোহন রায়)
  • প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ –  A Grammar of Bengal Language – (১৭৭৮, নাথিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড)
  • বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস – আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৮, প্যারীচাঁদ মিত্র)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস – দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস – কপালকুন্ডলা (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
  • একুশের প্রথম উপন্যাস – আরেক ফাল্গুন (জহির রায়হান)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক – প্যারীচাঁদ মিত্র
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক – স্বর্ণকুমারী দেবী
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাটক – ভদ্রার্জুন (তারাচরণ সিকদার)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক নাটক – শর্মিষ্ঠা (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম রচিত নাটক – বসন্তকুমারী (মীর মশাররফ হোসেন)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক – কৃষ্ণকুমারী (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সামাজিক নাটক – কুলীনকুলসর্বস্ব (রামনারায়ণ তর্করত্ন)
  • একুশের প্রথম নাটক – কবর (১৯৫৩, মুনীর চৌধুরী)
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার – মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান নাট্যকার – মীর মশাররফ হোসেন
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন – একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৫৯, মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
  • বাংলাদেশের প্রথম প্রামাণ্য চলচ্চিত্র – স্টপ জেনোসাইড (১৯৭১, জহির রায়হান)
  • বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র – মুখ ও মুখোশ (আব্দুল জব্বার খান)
  • স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র – ওরা এগার জন (১৯৭২, চাষী নজরুল ইসলাম)
  • বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্থ – বেদান্ত (১৮১৫, রাজা রামমোহন রায়)
  • একুশের প্রথম সাহিত্য সংকলন – একুশে ফেব্রুয়ারী (১৯৫৩, হাসান হাফিজুর রহমান)
  • একুশের প্রথম কবিতা – কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি (মাহবুব উল আলম চৌধুরী)
  • বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক প্রথম গ্রন্থ – বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (ড. দীনেশচন্দ্র সেন)
  • ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ – নীলদর্পণ (১৮৬০, দীনবন্ধু মিত্র)
  • বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িকী – দিগদর্শন (১৮১৮, জন ক্লার্ক মার্শম্যান)
  • মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা – সমাচার সভারাজেন্দ্র (১৮৩১, শেখ আলীমুল্লাহ)
  • বাংলায় মুসলমানদের প্রথম দৈনিক পত্রিকা – আজাদ (১৯৩৫, মোহাম্মদ আকরম খাঁ)
  • উপমহাদেশের প্রথম সংবাদপত্র (ইংরেজি সাপ্তাহিক) – বেঙ্গল গেজেট (১৭৮০, জেমস অগাস্টাস হিকি)
  • বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র – রংপুর বার্তাবহ (১৮৪৭)
  • বাংলা সাহিত্যে প্রথম সাধুরীতির ব্যবহারকারী – রাজা রামমোহন রায় (১৮১৫)
  • প্রথম চলিতরীতির ব্যবহারকারী – প্রমথ চৌধুরী (১৯১৪)
  • বাংলায় কুরআন শরীফের প্রথম অনুবাদক (পূর্ণাঙ্গ) – ভাই গিরিশচন্দ্র সেন
  • বাংলা লিপির সর্বপ্রথম নকশা প্রস্তুতকারী – চার্লস উইলকিনস
  • বাঙালিদের মধ্যে প্রথম বাংলা অক্ষর খোদাইকারী – পঞ্চানন কর্মকার
  • বাংলা সাহিত্যে প্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহারকারী – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  • রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক – কৃত্তিবাস
  • মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক – কাশীরাম দাস
  • বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা – বার্তাবহ যন্ত্র (রংপুর)
  • ঢাকার প্রথম ছাপাখানা – বাংলা প্রেস (১৮৬০, সুন্দর মিত্র)
  • বাংলা বানানরীতির সংস্কারে প্রথম ভূমিকা পালন করে – কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম 

নাটক
মুনীর চৌধুরীকবর
উপন্যাস
জহির রায়হানআরেক ফাল্গুন (ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস)
শওকত ওসমানআর্তনাদ
সেলিনা হোসেননিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
চলচ্চিত্র
জহির রায়হানজীবন থেকে নেয়া
জহির রায়হানLet There be light
সম্পাদিত গ্রন্থ
হাসান হাফিজুর রহমানএকুশে ফেব্রুয়ারী (গ্রন্থটি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল)
কবিতা
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরীকাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্যকর্ম

নাটক
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহতরঙ্গভঙ্গ
সৈয়দ শামসুল হকপায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
মমতাজ উদ্দিন আহমেদস্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, কী চাহ শঙ্খচীল, বকুলপুরের স্বাধীনতা
আলাউদ্দিন আল আজাদনরকে লাল গোলাপ
উপন্যাস
আনোয়ার পাশারাইফেল রোটি আওরত (প্রথম উপন্যাস)
সৈয়দ শামসুল হকনিষিদ্ধ লোবান, নীলদংশন
শওকত ওসমানজাহান্নাম হইতে বিদায়, নেকড়ে অরণ্য, দুই সৈনিক, জলাঙ্গী
হুমায়ূন আহমেদআগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া
আল মাহমুদউপমহাদেশ
আবু জাফর শামসুদ্দিনদেয়াল
রশীদ হায়দারখাঁচায়
সেলিনা হোসেনহাঙর নদী গ্রেনেড, যুদ্ধ
রাবেয়া খাতুনফেরারী সূর্য
তাহমিনা আনামA Golden Age
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়একটি কালো মেয়ের কথা
চলচ্চিত্র
চাষী নজরুল ইসলামওরা এগার জন
জহির রায়হানStop Genocide
খান আতাউর রহমানআবার তোরা মানুষ হ
প্রবন্ধ
মেজর আবদুল জলিলA Search for Identity
মেজর জেনারেল খুশবন্ত সিংThe Liberation of Bangladesh
ড. নীলিমা ইব্রাহিমআমি বীরাঙ্গনা বলছি
সেলিনা হোসেনএকাত্তরের ঢাকা
আবদুল গাফফার চৌধুরীআমার কিছু কথা
স্মৃতিকথা
এম আর আখতার মুকুলআমি বিজয় দেখেছি
জাহানারা ইমামএকাত্তরের দিনগুলি
সুফিয়া কামালএকাত্তরের ডায়েরি
গল্প
শওকত ওসমানজন্ম যদি তব বঙ্গে
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসখোঁয়ারি, স্বপ্নের জাল
রাবেয়া খাতুনমুক্তিযুদ্ধের গল্প
সম্পাদিত গ্রন্থ
হাসান হাফিজুর রহমানমুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দলিলপত্র (জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে)
শামসুর রাহমানবাংলাদেশ কথা কয়
কবিতা
অ্যালেন গিনসবার্গসেপ্টেম্বর অন যশোর রোড

একাত্তর নামের সাহিত্যকর্ম

জাহানারা ইমামএকাত্তরের দিনগুলি
বেগম নূরজাহানএকাত্তরের কথা
বেগম সুফিয়া কামালএকাত্তরের ডায়েরি
রাবেয়া খাতুনএকাত্তরের নিশান
সেলিনা হোসেনএকাত্তরের ঢাকা
বাসন্তী গুহঠাকুরতাএকাত্তরের স্মৃতি
এম আর আখতার মুকুলএকাত্তরের বর্ণমালা
মেজর রফিকুল ইসলামএকাত্তরের বিজয়গাঁথা
শাহরিয়ার কবিরএকাত্তরের যীশু
শামসুল হুদা চৌধুরীএকাত্তরের রণাঙ্গন
বশীর আল হেলালএকাত্তরের গণহত্যা
মুক্তিযোদ্ধাদের পত্র সংকলনএকাত্তরের চিঠি

লেখকদের  উপাধি

নামউপাধি
জসীম উদ্দীনপল্লীকবি
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সাহিত্য সম্রাট
মধুসূদন দত্তমাইকেল, বিপ্লবী কবি, সাহিত্য রেঁনেসার কবি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরবিশ্বকবি, নাইট, কবিগুরু
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়অপরাজেয় কথাশিল্পী
নূরুন্নেছা খাতুনসাহিত্য স্বরস্বতী, বিদ্যাবিনোদিনী
আবদুল কাদিরছান্দসিক কবি
আবদুল করিমসাহিত্যবিশারদ
আলাওলমহাকবি
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তযুগ সন্ধিক্ষণের কবি, প্রথম আধুনিক কবি
কাজী নজরুল ইসলামবিদ্রোহী কবি, জাতীয় কবি
গোবিন্দ দাসস্বভাব কবি
গোলাম মোস্তফাকাব্য সুধাকর
জীবনানন্দ দাশরূপসী বাংলার কবি, তিমির হননের কবি
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহভাষাবিজ্ঞানী
নজিবর রহমানসাহিত্য রত্ন
ফররুখ আহমদমুসলিম রেনেসাঁর কবি
বিদ্যাপতিমিথিলার কোকিল, কবি কণ্ঠহার, অভিনব জয়দেব
বিষ্ণু দেমাকর্সবাদী কবি
বিহারীলাল চক্রবর্তীভোরের পাখি
বাহরাম খানদৌলত উজির
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনমুসলিম নারীজাগরণের অগ্রদূত
ভারতচন্দ্ররায়গুণাকর, প্রথম নাগরিক কবি
মুকুন্দ দাসচারণ কবি
মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকবিকঙ্কণ
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীমহামহোপাধ্যায়
রামমোহন রায়রাজা
সুকান্ত ভট্টাচার্যকিশোর কবি
সুধীন্দ্রনাথ দত্তক্লাসিক কবি
সমর সেননাগরিক কবি
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তছন্দের জাদুকর
ইসমাইল হোসেন সিরাজীস্বপ্নাতুর কবি
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়বাংলার মিলটন
চিত্তরঞ্জন দাশদেশবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমানবঙ্গবন্ধু

লেখকদের ছদ্মনাম 

নামছদ্মনাম
জসীম উদ্দীনজমীরউদ্দীন মোল্লা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কমলাকান্ত
মধুসূদন দত্তটিমেডি, এ নেটিভ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরভানুসিংহ
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়অনিলা দেবী
নূরুন্নেছা খাতুননীহারিকা দেবী
কাজেম আল কোরেশীকায়কোবাদ
কালীপ্রসন্ন সিংহহুতোম পেঁচা
প্যারীচাঁদ মিত্রটেকচাঁদ ঠাকুর
বালাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়বনফুল
মীর মশাররফ হোসেনগাজী মিয়া
শেখ আজিজুর রহমানশওকত ওসমান
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়নীললোহিত
আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহশহীদুল্লা কায়সার
আবুল হোসেন মিয়াআবুল হাসান
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রমথ চৌধুরীবীরবল
মঈনুদ্দীন আহমেদসেলিম আল দীন
রোকনুজ্জামান খানদাদা ভাই
সৈয়দ মুজতবা আলীমুসাফির, সত্যপীর
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়যাযাবর
ড. মনিরুজ্জামানহায়াৎ মামুদ
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ক্বচিৎপৌঢ়

নমুনা প্রশ্ন

১. কাজী নজরুল ইসলামকে কোন ছন্দের জনক বলা হয়?

ক) অক্ষরবৃত্ত

খ) মুক্তছন্দ

গ) মুক্তক মাত্রাবৃত্ত

ঘ) গদ্যছন্দ

উত্তর: গ

২. বাংলা একাডেমিতে অবস্থিত কোনটি?

ক) লালন জাদুঘর

খ) নজরুল ইনস্টিটিউট

গ) ভাষা আন্দোলন জাদুঘর

ঘ) চারুকলা একাডেমি

উত্তর: গ

৩. ‘বাংলার মিল্টন’ কে?

ক) ভারতচন্দ্র

খ) ঈশ্বরচন্দ্র

গ) হেমচন্দ্র

ঘ) মধুসূদন দত্ত

উত্তর: গ

৪. বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক কে?

ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ঘ) মানিক চৌধুরী

উত্তর: গ

৫. বাংলাদেশ ভূখন্ড থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র- 

ক) ঢাকা প্রকাশ

খ) রংপুর বার্তাবহ

গ) সমাচার দর্পণ

ঘ) বঙ্গদর্শন

উত্তর: খ

৬. ‘আলোকিত মানুষ চাই’ কোন প্রতিষ্ঠানের স্লোগান?

ক) নজরুল ইনস্টিটিউট

খ) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

গ) বাংলা একাডেমি

ঘ) শিশু একাডেমি

উত্তর: খ

৭. মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র কোনটি?

ক) শিখা

খ) বঙ্গদর্শন

গ) তত্তবোধিনী

ঘ) সবুজপত্র

উত্তর: ক

৮. “জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।” এই উক্তিটি কোন পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় লেখা থাকত?

ক) সওগাত

খ) সমকাল

গ) মোহাম্মদী

ঘ) শিখা

উত্তর: ঘ

৯. বাংলাপিডিয়ার প্রধান সম্পাদক কে?

ক) মুনীর চৌধুরী

খ) ওয়াকিল আহম্মেদ

গ) আব্দুল মান্নান

ঘ) সিরাজুল ইসলাম

উত্তর: ঘ

১০. বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়-

ক) ১৯৫০ সালে

খ) ১৯৫২ সালে

গ) ১৯৫৪ সালে

ঘ) ১৯৫৬ সালে

উত্তর: খ

১১. বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় কবে?

ক) ১৯ ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে

খ) ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫ সালে

গ) ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ সালে

ঘ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে

উত্তর: খ

১২. বাংলা একাডেমি পুরস্কার কবে থেকে প্রবর্তিত হয়?

ক) ১৯৬০ সালে

খ) ১৯৬১ সালে

গ) ১৯৬২ সালে

ঘ) ১৯৬৪ সালে

উত্তর: ক

১৩. বাংলা ভাষার প্রথম ঔপন্যাসিক কে?

ক) প্যারীচাঁদ মিত্র

খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

গ) প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়

ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

উত্তর: ক

১৪. বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক কোনটি?

ক) ভদ্রার্জুন

খ) নীলদর্পণ

গ) শর্মিষ্ঠা

ঘ) কবর

উত্তর: ক

১৫. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থের নাম-

ক) বঙ্গভাষা ও সাহিত্য

খ) বাংলা সাহিত্যের কথা

গ) বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস

ঘ) বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত

উত্তর: খ

১৬. ভাষা আন্দোলনের সবচেয়ে মৌলিক ও প্রমান্য গ্রন্থের লেখক কে

ক) বশীর আল হেলাল

খ) ড. রফিকুল ইসলাম

গ) বদরুদ্দিন উমর

ঘ) ড. আহমদ শরীফ

উত্তর: গ

১৭. ‘পালামৌ’ ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা-

ক) শরৎচন্দ্র

খ) বঙ্কিমচন্দ্র

গ) সঞ্জীবচন্দ্র

ঘ) তারাশঙ্কর

উত্তর: গ

১৮. কোন কবি পঞ্চপান্ডবদের একজন?

ক) সমর সের

খ) পেমেন্দ্র মিত্র

গ) বুদ্ধদেব বসু

ঘ) মোহিতলাল মজুমদার

উত্তর: গ

১৯. বাংলা সাহিত্যের সার্থক মহাকাব্য রচনা করেন-

ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

খ) নবীনচন্দ্র সেন

গ) মাইকলে মধুসূদন দত্ত

ঘ) কায়কোবাদ

উত্তর: গ

২০. ‘একাত্তরের যিশু’ গল্পের রচয়িতা-

ক) জাহানারা ইমাম

খ) রাবেয়া খাতুন

গ) শাহরিয়ার কবির

ঘ) এম অখতার মুকুল

উত্তর: গ

২১. একুশের উপর সর্বপ্রথম কবিতা রচনা করেন কে?

ক) অ্যালেন গিন্সবার্গ

খ) হাসান হাফিজুর রহমান

গ) মাহবুব উল আলম চৌধুরী

ঘ) নির্মলেন্দু গুণ

উত্তর: গ

২২. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক কোনটি?

ক) কবর

খ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়

গ) জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন

ঘ) ওরা কদম আলী

উত্তর: ক

২৩. ‘দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ গ্রন্থের রচয়িতা-

ক) খুশবন্ত সিংহ

খ) সুখওয়ান্ত সিংহ

গ) যশোবন্ত সিংহ

ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ

উত্তর: ক

২৪. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?

ক) আমার আছে জল

খ) জলাঙ্গী

গ) সংশপ্তক

ঘ) সারেং বউ

উত্তর: খ

২৫. নিচের কোনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?

ক) লালসালু

খ) ক্রীতদাসের হাসি

গ) চিলেকোঠার সেপাই

ঘ) একটি কালো মেয়ের কথা

উত্তর: ঘ

২৬. ‘রাইফেল রোটি আওরত’ উপনাসের রচয়িতা-

ক) জহির রায়হান

খ) আনোয়ার পাশা

গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান

উত্তর: খ

২৭. ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?

ক) সেলিনা হোসেন

খ) রাবেয়া খাতুন

গ) দিলারা জামান

ঘ) সেলিনা পারভীন

উত্তর: ক

২৮. ‘এ গোল্ডেন এজ’ উপন্যাসের রচয়িতা-

ক) তাহমিনা আনাম

খ) মনিকা আলী

গ) অরুন্ধতী রায়

ঘ) এদের কেউ নন

উত্তর: ক

২৯. ‘একাত্তরের ডায়েরি’ কার রচনা?

ক) সুফিয়া কামাল

খ) জাহানার ইমাম

গ) আয়েশা ফয়েজ

ঘ) সেলিনা হোসেন

উত্তর: ক

৩০. ভারতচন্দ্রের উপাধি-

ক) রায়বাহাদুর

খ) কবি কণ্ঠহার

গ) কবিকঙ্কন

ঘ) রায়গুণাকর

উত্তর: ঘ

৩১. যুগ সন্ধিক্ষণের কবি কে?

ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী

গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ঘ) রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী

উত্তর: ক

৩২. ‘সাহিত্য সম্রাট’ কাকে বলা হয়?

ক) শরৎচন্দ্রকে

খ) বঙ্কিমচন্দ্রকে

গ) রবীন্দ্রনাথকে

ঘ) মধুসূদন দত্তকে

উত্তর: খ

৩৩. বাংলা গদ্যের জনক-

ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ

গ) প্যারীচাঁদ মিত্র

ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

উত্তর: ঘ

৩৪. ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’ কাকে বলা হয়?

ক) বঙ্কিমচন্দ্রকে

খ) শরৎচন্দ্রকে

গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে

ঘ) ঈশ্বরচন্দ্রকে

উত্তর: খ

৩৫. বাংলা সাহিত্যে কাকে ছন্দের জাদুকর বলা হয়?

ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

গ) প্রমথ চৌধুরী

ঘ) শামসুর রাহমান

উত্তর: খ

৩৬. বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মহিলা কবি কে?

ক) কামিনী রায়

খ) কুসুমকুমারী দাশ

গ) বেগম রোকেয়া

ঘ) সুফিয়া কামাল

উত্তর: ঘ

৩৭. ‘শহিদ জননী’ নামে কে পরিচিত?

ক) সুফিয়া কামাল

খ) রাজিয়া মাহবুব

গ) জাহানারা ইমাম

ঘ) নুসরত জাহান

উত্তর: গ

৩৮. বাংলা সাহিত্যে ‘স্বভাব কবি’ কে?

ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

খ) ঈশ্বরী পাটনী

গ) গোবিন্দ দাশ

ঘ) মুকুন্দ দাস

উত্তর: ঘ

৩৯. ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ কার ছদ্মনাম?

ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ

খ) প্যারীচাঁদ মিত্র

গ) দীনবন্ধু মিত্র

ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

উত্তর: খ

৪০. ‘নীললোহিত’ কার ছদ্মনাম?

ক) সমরেশ মজুমদার

খ) রাজশেখর বসু

গ) সমর সেন

ঘ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

উত্তর: ঘ

৪১. নিচের কোনটি শরৎচন্দ্রের ছদ্মনাম?

ক) অনিলা দেবী

খ) ভীমরুল

গ) যাযাবর

ঘ) কালকুট

উত্তর: ক

৪২. বালাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কোনটি?

ক) যাযাবর

খ) পরশুরাম

গ) জরাসন্ধ

ঘ) বনফুল

উত্তর: ঘ

৪৩. মীর মশাররফ হোসেনের ছদ্মনাম কী?

ক) বনফুল

খ) গাজী মিয়া

গ) জরাসন্ধ

ঘ) ভ্রমর

উত্তর: খ

৪৪. ‘বীরবল’ কার ছদ্মনাম?

ক) রামমোহন রায়

খ) প্রমথ চৌধুরী

গ) আবুল ফজল

ঘ) নবীনচন্দ্র সেন

উত্তর: খ

৪৫. রবি ঠাকুরের ছদ্মনাম হলো-

ক) পরশুরাম

খ) বিশ্বকবি

গ) সুনন্দ

ঘ) ভানুসিংহ

উত্তর: ঘ

৪৬. ‘দাদা ভাই’ এর আসল নাম কী?

ক) আবদুল্লাহ আল মুতী

খ) শওকত ওসমান

গ) কাজী মোতাহের হোসেন

ঘ) রোকনুজ্জামান খান

উত্তর: ঘ

৪৭. ‘হুতোম প্যাঁচা’ কার ছদ্মনাম?

ক) সমরেশ বসু

খ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ

গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ

ঘ) যতীন্দ্রমোহন বাগচী

উত্তর: গ

৪৮. ‘দুখু মিয়া’ কোন কবির বাল্যনাম?

ক) জসীম উদ্দীন

খ) কাজী নজরুল ইসলাম

গ) জীবনানন্দ দাশ

ঘ) অমিয় চক্রবর্তী

উত্তর: খ

৪৯. ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ প্রথম সংকলনের সম্পাদক কে?

ক) হাসান আজিজুল হক

খ) হাসান হাফিজুর রহমান

গ) মুনীর চৌধুরী

ঘ) আবুল বরকত

উত্তর: খ

৫০. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?

ক) অগ্নিসাক্ষী

খ) চিলেকোঠার সেপাই

গ) আরেক ফাল্গুন

ঘ) অনেক সূর্যের আশা

উত্তর: গ।

তথ্যসূত্র:

১. হুমায়ূন আজাদ, লাল নীল দীপাবলী বা বাংলা সাহিত্যের জীবনী (১৯৭৬)
২. ক্ষেত্র গুপ্ত, বাংলা সাহিত্যের সমগ্র ইতিহাস (কলকাতা ২০০১)
৩. ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বাংলা সাহিত্য পরিচয় (কলকাতা ২০০৮)
৪. শামসুজ্জামান খান, সেলিনা হোসেন ও অন্যান্য, চরিতাভিধান (বাংলা একাডেমি, জুন ১৯৮৫)
৫. ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষাশিক্ষা : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০০৪)
৬. ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (অগ্নি পাবলিকেশন্স, এপ্রিল ২০০৪)