BCS Bangla Lecture – 14

শব্দগঠন, শব্দের শ্রেণিবিভাগ, দ্বিরুক্ত শব্দ, সংখ্যাবাচক শব্দ, নমুনা প্রশ্ন

শব্দগঠন

অর্থপূর্ণ ধ্বনিসমষ্টির দ্বারা শব্দ গঠিত হয়। অর্থহীন কোনো ধ্বনি শব্দ হয় না; কারণ তা মানুষের বোধগম্য নয়। শব্দের অর্থ – বৈচিত্র্যের জন্যে নানাভাবে তার রূপান্তর সাধিত হয়। এভাবে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার-উপযোগী করে তোলার জন্যে শব্দ তৈরি করার প্রক্রিয়াকে শব্দগঠন বলে। শব্দগঠন প্রধানত প্রত্যয়, উপসর্গ ও সমাস এ তিনটি উপায়ে হয়ে থাকে।

শব্দের আগে উপসর্গ যোগ করে: ‘হার’ শব্দের পূর্বে ‘প্র’ উপসর্গ যোগ করলে একটি নতুন অর্থবোধক শব্দ ‘প্রহার’ (প্র + হার) পাওয়া যায়। এরূপ –  আহার, বিহার, উপহার, সংহার, পরিহার। তাছাড়া বিভিন্ন উপসর্গযোগে শব্দ গঠিত হয়। যেমন: অনাচার, কুশাসন, অধিকার, প্রদীপ, বকলম ইত্যাদি।

শব্দের শেষে প্রত্যয় যোগ করে: ‘ঢাকা’ শব্দের শেষে ‘আই’ প্রত্যয় যোগ করলে একটি নতুন অর্থবোধক শব্দ ‘ঢাকাই’ (ঢাকা + আই) পাওয়া যায়। এরূপ – জলা (জল+আ), রোগা (রোগ+ আ), নাচন (নাচ+অন) ইত্যাদি।

সমাসের সাহায্যে একাধিক শব্দকে এক শব্দে পরিণত করা: চৌ রাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা, মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু ইত্যাদি।

সন্ধির সাহায্যে শব্দগঠন:বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়, ইতি + আদি = ইত্যাদি। তপঃ + বন = তপোবন, অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান, পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ ইত্যাদি। সন্ধির নিয়মের শব্দগুলো মূলত উপরের তিনটি গঠন থেকে আসে।

দ্বিরুক্তির সাহায্যে শব্দগঠন: ঝিরঝির, ধনদৌলত, তালাচাবি, ভালো ভালো, মিটির মিটির ইত্যাদি।

পদ পরিবর্তনের সাহায্যে শব্দগঠন: সুন্দর (বিণ,) + য (প্র.) = সৌন্দর্য (বি.), মানব (বি.) + ইক (প্র.) = মানবিক (বিণ.), দীর্ঘ (বিণ.) + য (প্র.) = দৈর্ঘ্য (বি.) ইত্যাদি। এটা মূলত প্রত্যয়ের নিয়মে হয়ে থাকে।

বচন ও পদাশ্রিত নির্দেশকের সাহায্যে শব্দগঠন: কবিকুল, কুসুমদাম, সাহেবান, পণ্ডিতবর্গ (বচনের নিয়মে); একটি, গোটা সাতেক, আমগুলো, লাঠিগাছা (পদাশ্রিত নির্দেশকের নিয়মে) ইত্যাদি।

শব্দের শ্রেণিবিভাগ

গঠনমূলক শ্রেণিবিভাগ: গঠনগতভাবে শব্দ দুই প্রকার। যথা –

১. মৌলিক শব্দ: যে সব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না বা যে শব্দগুলো ব্যাকরণের নিয়মে গঠিত হয়নি, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। এ শব্দগুলোকে সিদ্ধ শব্দ বা স্বয়ংসিদ্ধ শব্দও বলা হয়। মৌলিক শব্দগুলোই হচ্ছে ভাষার মূল উপকরণ। যেমন – গোলাপ, নাক, লাল, তিন, হাত, পা, মা, ফুল, বই ইত্যাদি।

২. সাধিত শব্দ: যে সব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায় বা যে শব্দগুলো ব্যাকরণের নিয়মে গঠিত হয়েছে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে। যেমন –

ক) সমাসযোগে:

  • নীল যে আকাশ = নীলাকাশ
  • চাঁদ রূপ মুখ = চাঁদমুখ
  • জায়া ও পতি = দম্পতি

খ) উপসর্গযোগে:

  • উপহার (উপ + হার)
  • গরমিল (গর + মিল)
  • প্রতিদিন (প্রতি + দিন)

গ) প্রত্যয়যোগে:

  • ঢাকাই = ঢাকা + আই
  • সরস্বতী = সরস্ + বতী
  • ডুবুরি = ডুব্ + উরি

এছাড়াও সন্ধি, বিভক্তি, পদ পরিবর্তন, দ্বিরুক্তি, বহুবচন ও বাক্য সংকোচনের মাধ্যমে বাংলা শব্দ সাধিত হয়। যেমন –

  • সন্ধি :  ইত্যাদি, হিমালয়, মরূদ্যান
  • পদ পরিবর্তন : সুন্দর > সৌন্দর্য, বিচিত্র > বৈচিত্র্য
  • দিরুক্ত শব্দ : কুহু কুহু, জ্বর জ্বর, ঝিম ঝিম
  • বহুবচন : গ্রন্থাবলি, কবিকুল, সাহেবান

 

অর্থমূলক শ্রেণিবিভাগ: অর্থগতভাবে শব্দ তিন প্রকার। যথা –

১. যৌগিক শব্দ: যে সকল শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক/প্রচলিত অর্থ একই রকম বা যে শব্দগুলো প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থানুসারে হয়, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন –


মূল শব্দ : গায়ক

বুৎপত্তিগত অর্থ : গৈ + ণক

ব্যবহারিক অর্থ : গান করে যে


মূল শব্দ : কর্তব্য

বুৎপত্তিগত অর্থ : কৃ + তব্য

ব্যবহারিক অর্থ : যা করা উচিত


মূল শব্দ : বাবুয়ানা

বুৎপত্তিগত অর্থ : বাবু + আনা

ব্যবহারিক অর্থ : বাবুর ভাব


মূল শব্দ : দৌহিত্র

বুৎপত্তিগত অর্থ : দুহিতা + ষ্ণ্য

ব্যবহারিক অর্থ : কন্যার পুত্র, নাতি


মূল শব্দ : মধুর

বুৎপত্তিগত অর্থ : মধু + র

ব্যবহারিক অর্থ : মধুর মত মিষ্টি গুণযুক্ত


মূল শব্দ : চিকামারা

বুৎপত্তিগত অর্থ : চিকা + মারা

ব্যবহারিক অর্থ : দেওয়ালের লিখন


মূল শব্দ : মিতালি

বুৎপত্তিগত অর্থ : মিতা + আলি

ব্যবহারিক অর্থ : মিতার ভাব বা বন্ধুত্ব


 

২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে যে শব্দ মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে অর্থাৎ যে শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক নয়, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন –


মূল শব্দ : হস্তী

বুৎপত্তিগত অর্থ : হস্ত আছে যার

ব্যবহারিক অর্থ : পশু


মূল শব্দ : গবেষণা

বুৎপত্তিগত অর্থ : গরু খোঁজা

ব্যবহারিক অর্থ : গভীরভাবে অধ্যয়ন


মূল শব্দ : বাঁশি

বুৎপত্তিগত অর্থ : বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু

ব্যবহারিক অর্থ : বাদ্যযন্ত্র বাঁশি


মূল শব্দ : তৈল

বুৎপত্তিগত অর্থ : তিলজাত স্নেহ পদার্থ

ব্যবহারিক অর্থ : যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত  স্নেহ পদার্থ


মূল শব্দ : সন্দেশ

বুৎপত্তিগত অর্থ : সংবাদ

ব্যবহারিক অর্থ : মিষ্টান্ন


মূল শব্দ : প্রবীণ

বুৎপত্তিগত অর্থ : প্রকৃষ্টরূপে বীণাবাদক

ব্যবহারিক অর্থ : বয়স্ক ব্যক্তি


মূল শব্দ : হরিণ

বুৎপত্তিগত অর্থ : হরণ করে যে

ব্যবহারিক অর্থ : পশু


মূল শব্দ : পাঞ্জাবি

বুৎপত্তিগত অর্থ : পাঞ্জাবের অধিবাসী

ব্যবহারিক অর্থ : পোশাক বিশেষ


মূল শব্দ : ঝি

বুৎপত্তিগত অর্থ : নিজ কন্যা

ব্যবহারিক অর্থ : চাকরানী


মূল শব্দ : কুশল

বুৎপত্তিগত অর্থ : এক প্রকার তৃণ

ব্যবহারিক অর্থ : কল্যাণ বা মঙ্গল


 

৩. যোগরূঢ় শব্দ: সমাসনিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলে। বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ এক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। যেমন  –


মূল শব্দ : পঙ্কজ

সমাসনিষ্পন্ন অর্থ : পঙ্কে জন্মে যা

বিশিষ্ট অর্থ : পদ্মফুল


মূল শব্দ : রাজপুত

সমাসনিষ্পন্ন অর্থ : রাজার পুত্র

বিশিষ্ট অর্থ : জাতি বিশেষ


মূল শব্দ : মহাযাত্রা

সমাসনিষ্পন্ন অর্থ : মহা সমারোহে যাত্রা

বিশিষ্ট অর্থ : মৃত্যু


মূল শব্দ : জলধি

সমাসনিষ্পন্ন অর্থ : জল ধারণ করে যে

বিশিষ্ট অর্থ : সমুদ্র


মূল শব্দ : আদিত্য

সমাসনিষ্পন্ন অর্থ : অদিতির পুত্র

বিশিষ্ট অর্থ : সূর্য


মূল শব্দ : জলদ

সমাসনিষ্পন্ন অর্থ : জল দেয় যে

বিশিষ্ট অর্থ : মেঘ


মূল শব্দ : দশানন

সমাসনিষ্পন্ন অর্থ : দশ আনন আছে যার

বিশিষ্ট অর্থ : রামায়ণে বর্ণিত রাবণ


মূল শব্দ : বারহাতি

সমাসনিষ্পন্ন অর্থ : বার হাত পরিমাণ যার

বিশিষ্ট অর্থ : শাড়ি বিশেষ


 

উৎসগত শেণিবিভাগ: উৎস অনুসারে শব্দ পাঁচ প্রকার। যথা –

(১) তৎসম শব্দ

(২) অর্ধ-তৎসম শব্দ

(৩) তদ্ভব শব্দ

(৪) দেশি শব্দ।

(৫) বিদেশি শব্দ।

১. তৎসম শব্দ: যে সব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে, সে সব শব্দকে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ বলে। তৎসম একটি পরিভাষিক শব্দ। যেমন – চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, জন্ম, সাগর, ভবন, ফুল, ভোজন, চক্ষু, সন্ধ্যা, ঋতু ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে সাধারণত ণ, ষ, ঋ, ক্ষ, র-ফলা (   ্র), য-ফলা (  ্য ), রেফ (র্ ), ঋ-কার (  ু ), ঊ-কার (  ূ ), ঈ-কার    (  ী ) ইত্যাদি যুক্ত শব্দ বেশি হয়। মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রমও লক্ষ্য করা যায়। যেমন –

জন্ম, সাগর, সিন্ধু, রবি, জল
বন্ধু, কেশর, পদ্ম, ফুল, জাল।

শয়ন, শ্বশুর, সিংহ, মানব, গমন
পথ, বনরব, তাপস, নদ, গগন।

স্নেহ, সন্তান, বৎস, ভুবন, বধূ
যুদ্ধ, ভবন, সঞ্চয়, ভোজন, মধু।

এছাড়া যে সকল শব্দের তৎসম রূপ ব্যতীত আরেকটি রূপ বাংলায় (অতৎসম শব্দে) প্রচলিত আছে সেগুলো তৎসম শব্দ। যেমন –

তৎসম রূপঅতৎসম রূপ
পৃষ্ঠপিঠ
হস্তহাত
দন্তদাঁত
কর্ণকান
নাসিকানাক
চক্ষুচোখ
নৌকানাও
তাম্রতামা
লৌহলোহা
গ্রামগাঁও
দিবসদিন
রাত্রিরাত
সন্ধ্যাসাঁঝ
চন্দ্রচাঁদ
বৎসরবছর
কন্যামেয়ে
পুত্রছেলে
স্বর্ণসোনা
রৌপ্যরূপা
কর্মকাজ

২. অর্ধ-তৎসম শব্দ: বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম, আধা-সংস্কৃত বা ভগ্ন-তৎসম শব্দ বলে। যেমন – জোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নি, বোষ্টম, কুচ্ছিত ইত্যাদি। নিম্নে আরও কিছু অর্ধ-তৎসম শব্দের উদাহরণ দেওয়া হয়। যেগুলোর মূল সংস্কৃত শব্দের মধ্যে বিদ্যমান।

আঁধার, গেরাম, গিন্নী, মিছে, যতন
ঘেন্না, কায়েত, লোহা, সোনা, রতন।

কেষ্ট, পরান, সত্যি, গতর, চামার
ছেরাদ্দ, পিঠ, কিচ্ছু, হাঁস, কামার।

সুরুজ, খিদে, বদ্যি, তারা, পিত্তির
গেরাস্থ, চোখ, বিষ্টি, ছাতা, মিত্তির।

জোছনা, ওষুধ, পুরুত, গাঁধা, ছিরি
কুচ্ছিত, ষাঁড়, বোষ্টম, বিচ্ছিরি।

উচ্ছিষ্ট, মন্তর, রোদ্দুর, পেন্নাম, শত্তুর
চন্দর, রাত্তির, নেমন্তন্ন, পুত্তুর।

৩. তদ্ভব শব্দ: যে সব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সে সব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। তদ্ভব শব্দকে খাঁটি বাংলা শব্দ বলে। যেমন –

  • সংস্কৃত-হস্ত,
  • প্রাকৃত-হন্থ,
  • তদ্ভব-হাত,
  • চন্দ্র > চন্দ > চাঁদ,
  • চর্মকার > চম্মআর > চামার ইত্যাদি।

নিম্নে আরও কিছু তদ্ভব শব্দের উদাহরণ দেওয়া হল।

তৎসম শব্দপ্রাকৃত শব্দতদ্ভব শব্দ
ভক্তভত্তভাত
মৎস্যমচ্ছমাছ
কর্মকারকম্মআরকামার
বঙ্কবংকবাঁক
টক্কটঙ্কাটাকা
অঞ্চলঅংচলআঁচল
বধূবহুবউ
পাষাণপাবনপাহাড়
বংশীবংসীবাঁশি
দুগ্ধদুদ্ধদুধ
ঘটিকঘড়িআঘড়ি
অদ্যঅজ্জআজ

৪. দেশি শব্দ: বাংলাদেশের আদিম অধিবাসিদের (কোল, মুন্ডা, চণ্ডাল , হাঁড়ি) ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এ সব শব্দকে দেশি শব্দ নামে অভিহিত করা হয়। এ শব্দের মূল নির্ধারণ করা কঠিন তবে কোন ভাষা থেকে এসেছে তা জানা যায়। যেমন –

  • কুড়ি (বিশ) – কোলভাষা,
  • পেট (উদর) – তামিল ভাষা,
  • চুলা (উনুন) – মুন্ডারি ভাষা। এ রূপ কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপুর, ডাগর, ডোবা, খেয়া, খোঁচা, ঢাল, নেড়া, ছানা, চুলা ইত্যাদি।

আরও কিছু উদাহরণ দেওয়া হল।

ডাব, ডাগর, ডাহা, ডোবা, ডিঙ্গা
খড়, খেয়া, খাঁদা, খোঁচা, ঝিঙ্গা।

ঢাল, ঢোল, ঢেউ, ডাল, ঢেঁকি
নেড়া, ভিড়, খুকি, মই, মেকি।

কুলা, চুলা, ছানা, ঝোল, খোড়া
আলু, চাল, ডাঁশ, লাঠি, ঢোঁড়া।

কুড়ি, মুড়ি, ঝাঁটা, পাঁঠা, ডালা
ঝুল, পেট, বোবা, ডাঁটো, কালা।

৫. বিদেশি শব্দ: রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশে আগত বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বহু শব্দ বাংলায় এসে স্থান করে নিয়েছে; এ সব শব্দকে বলা হয় বিদেশি শব্দ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিদেশি শব্দগুলোর মধ্যে ফারসি, আরবি, ইংরেজি, তুর্কি, পতুর্গিজ, ফরাসি ইত্যাদি প্রধান। এছাড়াও কিছু শব্দ নিচে দেওয়া হলো।

ফারসি শব্দ:

আজকাল, বাদশা, চশমা, কাগজ
ময়দা, জন্তু, জানোয়ার, হাঙ্গামা

গুলিস্তান, পোশাক, কারখানা, হরেকরকম, কারসাজি
পির, চর্বি, মোরগ, গোশত, সাগরেদ

সিপাহি, পালোয়ান, লাগাম, সবুজ, পশম, তোশক, হিন্দু, সরকার
জিন্দা, বদমাশ, মেথর, জবানবন্দি।

আরবি শব্দ:

ইনসান, আল্লাহ, ইমান, ওযু, গোসল, তওবা, তসবি, হজ, জাহাজ
তুফান, হয়রান, শহিদ, জান্নাত, জাহান্নাম

উকিল, আজব, জরিপ, মজবুত, কেচ্ছা, মামলা
কায়দা, কানুন, নবাব, মোক্তার, মুনসেফ, উজির

তামাম, খবর, আদালত, হাজির
হাকিম, দাখিল, দলিল, মেজাজ, খারাপ, খারিজ

কিতাব, দোয়াত, কলম, তারিখ, রায়
মেহনত, শরবত, মজলিস, আলবত, হাজত।

পর্তুগিজ শব্দ:

কেরানি, আয়া, আতা, আচার
ইস্পাত, ইস্ত্রি, কাতান, কামিজ

গির্জা, কামরা, কেদারা, গরাদ
নিলাম, পাচার, পেয়ারা, পেরেক

বোম্বেটে, ফিরিঙ্গি, পিস্তল, ফিতা, বারান্দা
আলমারি, বাসন, গামলা, চাবি, বোমা, বেহালা

বর্গা, মাস্তুল, মিস্ত্রি, যিশু, মাইরি
বালতি, সাবান, তোয়ালে, সাগু, সালসা, কপি, পেঁপে।

তুর্কি শব্দ:

মোগল, বাহাদুর, লাশ
উর্দি, কোতকা, দারোগা, কঞ্চি, তালাশ

কাঁচি, চাবুক, চকমক, ঝকমক
চিক, বাবুর্চি, খান, খোকা, কোরমা

কুর্নিশ, উর্দু, দাদা, নানা, ঠাকুর, বাবা, সওগাত
কুলি, চাকর, বাস, তোপ, কাবু।

হিন্দি শব্দ: কাহিনি, ঝামেলা, পাঠান, পাটোয়ারি, কাছারি, টহল, ছিনতাই, চাচা, বাচ্চা, চানাচুর, চাটনি, জিলাপি, পানি, চাটাই, জায়গা, ভরসা, ঠিকানা, ঢিলা, পানসে, আচ্ছা, খেলনা, ছালুন, সুজি, বেটা।

ফরাসি শব্দ: কার্তুজ, কুপন, ডিপো, ইংরেজ, রেস্তোরাঁ, বুর্জোয়া, ক্যাফে, গ্যারেজ, রেনেসাঁ, আঁতাত, ওলন্দাজ, দিনেমার, মসিঁেয়, মাদাম, কোলাজ (এক ধরনের শিল্পকর্ম), চকলেট।

ইংরেজি শব্দ: আফিম, বোতল, বাক্স, গেলাস, হাসপাতাল, লন্ঠন, লাট, গারদ, সান্ত্রি, ইংরেজি, অফিস, স্কুল, গেরিলা, কাপ্তান, আরদালি, শেমিজ, গেঞ্জি, ম্যালেরিয়া, প্যান্ডেল, বাইবেল, সাইকেল, সার্কেল, প্লেন, মাইক, ফটো, বাস, বোতাম, বোতল।

উর্দু শব্দ: আব্বু, কলিজা, বদলা, হল্লা, ঘাগরা, চুঙ্গি, ছিলিম।

জার্মানি শব্দ: কিন্ডার-গার্টেন, নাৎসি।

মালয়ি শব্দ: কাকাতুয়া, আলতো, কিরিচ (ছোরা), আইলা।

ইতালীয় শব্দ: ম্যাজেন্টা, মাফিয়া, অপেরা, পিয়ানো।

স্প্যানিশ শব্দ: কুইনাইন।

গ্রিক শব্দ: দাম, সুড়ঙ্গ, সেমাই, ইউনানি।

বর্মি শব্দ: লুঙ্গি, ফুঙ্গি।

তিব্বতি শব্দ: লামা।

রুশীয় শব্দ: বলশেভিক, কমরেড, সোভিয়েত, স্পুটনিক।

দক্ষিণ আফ্রিকান শব্দ: জেব্রা, জিরাফ।

অস্ট্রেলীয় শব্দ: বুমেরাং, ক্যাঙ্গারু।

এস্কিমো শব্দ: ইগলু।

ওলন্দাজি শব্দ: ইস্কাপন, টেক্কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন, ইস্ক্রুপ।

চীনা শব্দ: চা, চিনি, লিচু, লুচি, সাম্পান।

জাপানি শব্দ: রিকসা, হাসনাহেনা, সুনামি।

সিংহলি শব্দ: সিডর, বেরিবেরি।

ভারতীয় ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:

গুজরাটি শব্দ: খদ্দর, হরতাল, খাদি, চরকা

পাঞ্জাবি শব্দ: চাহিদা, শিখ/খালসা

তামিল/তেলুগু শব্দ: চুরুট, পেট

মারাঠি শব্দ: বর্গি, চামচা, ঠগ

সাঁওতালি শব্দ: হাঁড়িয়া, টিলা, কাঙাল, কামড়

মৈথিলি: ভেল, মুঝ, তুম

 

মিশ্র শব্দ: কোনো কোনো সময় দেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে, এগুলোকে মিশ্র বা সঙ্কর শব্দ বলে। এগুলো নতুন কোনো শব্দ নয় বরং শব্দবন্ধ। যেমন –


আরবি + ফারসি : কেতাদুরস্ত, খয়ের খাঁ, তাজমহল, হারামজাদা

আরবি + ইংরেজি : উকিল-ব্যারিস্টার

আরবি + চিনা : কাবাব-চিনি


ফারসি + আরবি :  আবহাওয়া, কুচকাওয়াজ, খোশমেজাজ, গরম-মশলা, জবর-দখল, দহরম-মহরম,

নিমক-হারাম, নেকনজর, চৌ-হদ্দি

ফারসি + ইংরেজি : কাগজ-পেন্সিল


ইংরেজি + সংস্কৃত : হেডপণ্ডিত, খ্রিষ্টাব্দ, রেলপথ, ভোটকেন্দ্র

আরবি + সংস্কৃত : হিসাবরক্ষক, আইনসম্মত

ফারসি + সংস্কৃত : কাগজপত্র, পর্দাপ্রথা, আরামপ্রিয়


ইংরেজি + ফারসি : হেডমৌলভি, ডাক্তারখানা, জেলখানা, সিলমোহর

ইংরেজি + আরবি : অফিস-আদালত, ডাক্তার-সাহেব


সংস্কৃত + আরবি : ধনদৌলত, নৌবহর, ভোগদখল, হাসিতামাশা

সংস্কৃত + ফারসি : জন্তুজানোয়ার, লজ্জাশরম, যোগসাজস


সংস্কৃত + বাংলা : শ্বেতপাথর

ইংরেজি + বাংলা : পকেটমার, মাস্টারমশাই, স্কুলঘর, হাফহাতা, ফুলমোজা

পর্তুগিজ + বাংলা : খানাডোবা, চাবিকাঠি

ফারসি + বাংলা : দরাজহাত


বাংলা + ফারসি : হাট-বাজার, রাজা-বাদশা

বাংলা + আরবি : কালি-কলম, রাজা-উজির

বাংলা + সংস্কৃত : কাজকর্ম, রাশভারী, পাহাড়-পর্বত

বাংলা + পর্তুগিজ : ছুতোরমিস্ত্রি


দ্বিরুক্ত শব্দ

দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ এক বার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।

যেমন – ‘আমার জ্বর জ্বর লাগছে।’ অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

দ্বিরুক্ত শব্দ তিন প্রকার। যথা –

(১) শব্দের দ্বিরুক্তি

(২) পদের দ্বিরুক্তি

(৩) অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।

(১) শব্দের দ্বিরুক্তি:

একই শব্দ দুবার উক্তকে শব্দের দ্বিরুক্তি বলে।

  • একই শব্দ দুবার ব্যবহার করা হয় এবং শব্দ দুটি অবিকৃত থাকে। যথা : ভালো ভালো ফল, ফোঁটা ফোঁটা পানি, বড় বড় বই ইত্যাদি।
  • একই শব্দের সঙ্গে সামর্থক আর একটি শব্দ যোগ করে ব্যবহৃত হয়। যথা : ধন-দৌলত, খেলা-ধুলা, লালন-পালন, বলা-কওয়া, খোঁজ-খবর ইত্যাদি।
  • দ্বিরুক্ত শব্দের দ্বিতীয় শব্দটির আংশিক পরিবর্তন হয়। যেমন : মিট-মিট, ফিট-ফিট, বকা-ঝকা, তোড়া-জোড়া, গল্প-সল্প, রকম-সকম ইত্যাদি।
  • সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দ যোগে। যেমন : লেন-দেন, দেনা-পাওনা, টাকা-পয়সা, ধনী-গরিব, আসা-যাওয়া ইত্যাদি।

(২) পদের দ্বিরুক্তি:

একই পদ দুবার উক্তকে পদের দ্বিরুক্তি বলে।

  • দুটো পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটো ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে। যেমন : ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে। দেশে দেশে ধন্য করতে লাগল। মনে মনে আমিও এ কথাই ভেবেছি। ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেলাম।
  • দ্বিতীয় পদের আংশিক ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে কিন্তু পদের বিভক্তি অবিকৃত থাকে। যেমন : চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে। দলে বলে সবাই ছুটে এলো।

দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ

বিশেষ্য পদের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:

১. আধিক্য বোঝাতে: রশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান।

২. সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি। তার কবি কবি ভাব গেল না।

৩. পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছে। তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

৪. ক্রিয়া বিশেষণ: ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে চায়।

৫. অনুরূপ কিছু বোঝাতে: তার সঙ্গী সাথী কেউ নেই।

৬. আগ্রহ বোঝাতে: ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।

বিশেষণ পদের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:

১. আধিক্য বোঝাতে: ভালো ভালো আম নিয়ে এসো। ছোট ছোট ডাল কেটে ফেলে।

২. তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতে: গরম গরম জিলাপি, নরম নরম হাত।

৩. সামান্যতা বোঝাতে: উড়– উড়– ভাব, কালো কালো চেহারা।

সর্বনাম পদের ব্যবহার:

বহু বচন বা আধিক্য বোঝাতে: সে সে লোক গেল কোথায়? কে কে এল? কেউ কেউ বলে।

ক্রিয়াবাচক পদের ব্যবহার:

১. বিশেষণ রূপে: এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা। তোমার নেই নেই ভাব গেল না।

২. স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কাল হয়ে এল।

৩. ক্রিয়া বিশেষণ: দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কী ভাবে?

৪. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

অব্যয় পদের ব্যবহার:

১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি কী করেছ?

২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।

৪. বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।

৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

 

(৩) অনুকার দ্বিরুক্তি:

কোনো কিছুর স্বাভাবিক ধ্বনি বা কাল্পনিক ধ্বনির অনুকরণে গঠিত শব্দের দুবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক বা অনুকার দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব ও আধিক্য বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়। যেমন:

১. মানুষের ধ্বনির অনুকার: ভেউ ভেউ, ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।

২. জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ, মিউ মিউ, কুহু কুহু, কা কা ইত্যাদি।

৩. বস্তুর ধ্বনির অনুকার : ঘচাঘচ, মড় মড়, ঝম ঝম, হু হু ইত্যাদি।

৪. অনুভূতিজাত কাল্পনিক : ঝিকিমিকি, ঠা ঠা, কুট কুট, মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি, ঝিম ঝিম ইত্যাদি।

অনুকার দ্বিরুক্তি গঠন:

১. একই শব্দের অবিকৃত প্রয়োগ: ধব ধব, ঝন ঝন, পট পট।

২. প্রথম শব্দটির শেষে ‘আ’ যোগ করে: গপাগপ, টপাটপ, পটাপট।

৩. দ্বিতীয় শব্দটির শেষে ‘ই’ যোগ করে: ধরাধরি, ঝমঝমি, ঝনঝনি।

৪. যুগ্মরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ: কিচির মিচির, টাপুর টুপুর, হাপুস হুপুস।

৫. আনি-প্রত্যয় যোগে বিশেষ্য দ্বিরুক্তি: ছটফটানি, বকবকানি।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:

১. বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।

২. বিশেষণ: ‘নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।’

৩. ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।

৪. ক্রিয়া বিশেষণ: ‘চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।’

যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত শব্দের গঠন:

একই শব্দ ঈষৎ পরিবর্তন করে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের রীতিকে বলে যুগ্মরীতি। যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত গঠনের কয়েকটি নিয়ম রয়েছে। যেমন:

১. শব্দের আদি স্বরের পরিবর্তন করে: চুপচাপ, মিটমাট, জারিজুরি।

২. শব্দের অন্ত্যস্বরের পরিবর্তন করে: মারামারি, হাতাহাতি, সরাসরি, জেদাজেদি।

৩. দ্বিতীয় বার ব্যবহারের সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তনে: ছটফট, নিশপিশ, ভাতটাত।

৪. সমার্থক বা একার্থক সহচর শব্দ যোগে: চালচলন, রীতিনীতি, বনজঙ্গল, ভয়ডর।

৫. ভিন্নার্থক শব্দ যোগে: ডালভাত, তালাচাবি, পাথঘাট, অলিগলি।

৬. বিপরীতার্থক শব্দ যোগে: ছোট-বড়, আসা-যাওয়া, জন্ম-মৃত্যু, আদান-প্রদান।

বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:

  • ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
  • ভুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা)
  • থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
  • লোকটা হাড়ে হড়ে শয়তান। (আধিক্য)

 

সংখ্যাবাচক শব্দ

সংখ্যা মানে গণনা বা গণনা দ্বারা লব্ধ ধারণা। সংখ্যা গণনার মূল একক ‘এক’ এবং গাণিতিক প্রতীক ‘অঙ্ক’। যেমন – এক টাকা, দশ টাকা। এক টাকাকে এক এক করে দশ বার নিলে হয় দশ টাকা। উল্লেখ্য, ‘তিন টাকা’ বলতে এক টাকার তিনটি একক বা এককের সমষ্টি বোঝায়। আমাদের একক হল ‘এক’। সুতরাং এক + এক + এক = তিন। এভাবে আমরা এক থেকে একশ পর্যন্ত গণনা করতে পারি। এক থেকে একশ পর্যন্ত এভাবে গণনার পদ্ধতিকে বলা হয় ‘দশ গুণোত্তর’ পদ্ধতি।

সংখ্যাবাচক শব্দ চার প্রকার:

১. অঙ্কবাচক বা সংখ্যাবাচক

২. পরিমাণবাচক বা গণনাবাচক

৩. ক্রমবাচক বা পূরণবাচক

৪. তারিখবাচক

১. অঙ্কবাচক: যে সব চিহ্ন অঙ্ক বা সংখ্যা প্রকাশে সমষ্টিগত ধারণা দেয় তাদেরকে অঙ্কবাচক শব্দ বলে। যেমন – ১, ২, ৩, ৮, ১০, ২৫, ৫০, ১০০, ৫০০, ১০০০ ইত্যাদি অঙ্কবাচক শব্দ।

২. পরিমাণ বা গণনাবাচক: একাধিক বার একই একক গণনা করলে যে সমষ্টি পাওয়া যায় তাকে পরিমাণ বা গণনাবাচক শব্দ বলে। যেমন – সপ্তাহ বলতে আমরা সাত দিনের সমষ্টি বুঝিয়ে থাকি। সপ্ত (সাত) অহ (দিন) = সপ্তাহ। এখানে দিন একটি একক। সুতরাং সাতটি দিন বা সাতটি একক মিলে হয়েছে সপ্তাহ। এ রূপ – হালি, ডজন, পক্ষ, মাস, বছর, দশক, শতাব্দী, যুগ ইত্যাদি।

পূর্ণসংখ্যার ন্যূনতা:চৌথা/সিকি/পোয়া, তেহাই, অর্ধ/আধা, এক তৃতীয়াংশ, এক অষ্টমাংশ, এক পঞ্চমাংশ, তিন চতুথাংশ ইত্যাদি দ্বারা পূর্ণসংখ্যার ন্যূনতা বুঝায়। এক এককের (৩/৪) কে পরবর্তী সংখ্যার পৌনে বলা হয়। যেমন – পৌনে তিন = (২ এর ৩/৪), পৌনে পাঁচ = (৪ এর ৩/৪) ইত্যাদি। পৌনে অর্থ পোয়া অংশ বা এক চতুর্থাশ (১/৪) কম।

পূর্ণসংখ্যার আধিক্য: সোয়া, সাড়ে, ১ এর ১/২ = দেড়, ২ এর ১/২ = আড়াই, নয় গুণ = নং, ত্রিশ গুণ = ত্রিশং, বিশ গুণ = বিশং ইত্যাদি দ্বারা পূর্ণসংখ্যার আধিক্য বুঝায়।

৩. ক্রমবাচক সংখ্যা: একই সারি, দল বা শ্রেণিতে অবস্থিত কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সংখ্যার ক্রম বা পর্যায় বোঝাতে ক্রম বা পুরণবাচক সংখ্যা ব্যবহৃত হয়। যেমন –

দ্বিতীয় লোকটিকে ডাক। এখানে গণনায় এক জনের পরের লোকটিকে বোঝানো হয়েছে। দ্বিতীয় লোকটির আগের লোকটিকে বলা হয় ‘প্রথম’ এবং প্রথম লোকটির পরের লোকটিকে বলা হয় দ্বিতীয়। যেমন –

তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম, দশম, একাদশ, ষোড়শ, ঊনবিংশ, বিংশ, ত্রিংশ, চত্বারিংশ, ত্রিচত্বারিংশ, পঞ্চাশতম, ষষ্ঠিতম, সপ্ততিতম, অশীতিতম, নবতিতম, নবনবতিতম, শততম,সার্ধশত, সহস্রতম ইত্যাদি। উল্লেখ্য, ‘পয়লা ডাক’ তারিখবাচক শব্দ নয়, ক্রমবাচক শব্দ। কারণ ‘পয়লা ডাক’ ডাকা হয় নিলামে। প্রমিত বাংলায় বিংশ পর্যন্ত ক্রমবাচক বিশেষণের ব্যবহার রয়েছে।

৪. তারিখবাচক শব্দ: বাংলা মাসের তারিখ বোঝাতে যে সংখ্যাবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয় তাকে তারিখবাচক শব্দ বলে। যেমন – পহেলা বৈশাখ, বাইশে শ্রাবণ, এগারই কার্তিক ইত্যাদি। তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ (পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা) হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি শব্দ বাংলার নিজস্ব ভঙ্গিতে গঠিত। তারিখবাচক শব্দের ৫-১৮ শেষে ‘ই’ প্রত্যয় এবং ১৯-৩২ শেষে ‘এ’ প্রত্যয় বসে।

নিচে বাংলা অঙ্কবাচক, গণনাবাচক, পূরণবাচক ও তারিখবাচক সংখ্যাগুলো দেওয়া হল:

অঙ্ক
বাচক
গণনা
বাচক
পূরণ
বাচক
তারিখ
বাচক
একপ্রথমপহেলা
দুইদ্বিতীয়দোসরা
তিনতৃতীয়তেসরা
চারচতুর্থচৌঠা
পাঁচপঞ্চমপাঁচই
ছয়ষষ্ঠছউই
সাতসপ্তমসাতই
আটঅষ্টমআটই
নয়নবমনউই
১০দশদশমদশই
১১এগারএকাদশএগরই
১২বারদ্বাদশবারই
১৩তেরত্রয়োদশতেরই
১৪চৌদ্দচতুর্দশচোদ্দই
১৫পনেরপঞ্চদশপনেরই
১৯উনিশঊনবিংশউনিশে
২০বিশ/কুড়িবিংশবিশে
২১একুশএকবিংশএকুশে
২২বাইশদ্বাবিংশবাইশে
২৫পঁচিশপঞ্চবিংশপঁচিশে
২৯ঊনত্রিশঊনত্রিংশঊনত্রিশে
৩০ত্রিশত্রিংশত্রিশে
৩১একত্রিশএকত্রিংশএকত্রিশে
৩২বত্রিশদ্বাত্রিংশবত্রিশে

নমুনা প্রশ্ন

 


১. ‘মহাশয়’ শব্দটি গঠিত হয়েছে-

ক) সমাসের মাধ্যমে

খ) সন্ধির মাধ্যমে

গ) উপসর্গের মাধ্যমে

ঘ) প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে

উত্তরঃ খ


২. ‘মনুষ্য’ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?

ক) প্রত্যয়ের মাধ্যমে

খ) সন্ধির মাধ্যমে

গ) সমাসের মাধ্যমে

ঘ) উপসর্গের মাধ্যমে

উত্তরঃ ক


৩. ‘সমাজ > সামাজিক’ কীভাবে শব্দটি গঠিত হয়েছে?

ক) প্রত্যয় যোগে

খ) সমাস যোগে

গ) পদ পরিবর্তনের মাধ্যমে

ঘ) সন্ধিযোগে

উত্তরঃ গ


৪. ‘জানালা’ শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?

ক) ফারসি

খ) পর্তুগিজ

গ) আরবি

ঘ) হিন্দি

উত্তরঃ খ


৫. ‘তেলাপোকা’ কোন জাতীয় শব্দ?

ক) সংস্কৃত

খ) দেশি

গ) ফারসি

ঘ) খাঁটি বাংলা

উত্তরঃ ঘ


৬. কোনটি খাঁটি বাংলা শব্দ?

ক) দেওর

খ) কুলা

গ) গঞ্জ

ঘ) ডাব

উত্তরঃ ক


৭. কোনটি ওলন্দাজ ভাষার শব্দ?

ক) চাবি

খ) তুরুপ

গ) বদমাস

ঘ) খদ্দর

উত্তরঃ খ


৮. কোনটি দেশি শব্দ?

ক) গৃহিণী

খ) চামার

গ) ডাব

ঘ) ভবন

উত্তরঃ গ


৯. ‘বালিশ’ শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?

ক) পাঞ্জাবি

খ) ফারসি

গ) পর্তুগিজ

ঘ) তুর্কি

উত্তরঃ খ


১০. ‘বেগম’ শব্দটি কোন ভাষা হতে অগত?

ক) আরবি

খ) তুর্কি

গ) হিন্দি

ঘ) পাঞ্জাবি

উত্তরঃ খ


১১. কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?

ক) কার্তুজ

খ) আমদানি

গ) আলমারি

ঘ) ডিপো

উত্তরঃ গ


১২. ‘হারিকিরি’- শব্দটি কোন ভাষার?

ক) জাপানি

খ) পাঞ্জাবি

গ) ইংরেজি

ঘ) ফরাসি

উত্তরঃ ক


১৩. ‘রফতানি’ শব্দটি বাংলায় এসেছে কোন ভাষা থেকে?

ক) ফারসি

খ) ফরসি

গ) আরবি

ঘ) পর্তুগিজ

উত্তরঃ ক


১৪. ‘তরমুজ’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আসছে?

ক) ফারসি

খ) আরবি

গ) তুর্কি

ঘ) বাংলা

উত্তরঃ ক


১৫. ‘চশমা’ কোন ভাষা হতে আগত শব্দ?

ক) তুর্কি

খ) জাপানি

গ) হিন্দি

ঘ) ফারসি

উত্তরঃ ঘ


১৬. ‘নবাব’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?

ক) ফার্সি

খ) হিন্দি

গ) আরবি

ঘ) জাপানি

উত্তরঃ গ


১৭. রূঢ়ি শব্দ কোনটি?

ক) দৌহিত্র

খ) তৈল

গ) রাজপুত

ঘ) মধুর

উত্তরঃ খ


১৮. ‘দারোগা দরগার কফি ক্যাফে’ এ বাক্যটিতে আছে যথাক্রমে –

ক) তুর্কি-ফরাসি-ইংরেজি-ফারসি

খ) তুর্কি-ফারসি-ইংরেজি-ফরাসি

গ) পর্তুগিজ-ফারসি-ফরাসি-ইংরেজি

ঘ) ফারসি-তুর্কি-ফরাসি-ইংরেজি

উত্তরঃ খ


১৯. ‘চৌ-হদ্দি’ শব্দটি কোন ভাষার শব্দ মিলে হয়েছে?

ক) বাংলা + ফারসি

খ) সংস্কৃত + ফারসি

গ) ফারসি + আরবি

ঘ) সংস্কৃত + আরবি

উত্তরঃ গ


২০. ‘কিন্ডার গার্টেন’ শব্দটি কোন ভাষার?

ক) ইংরেজি

খ) জাপানি

গ) জার্মানি

ঘ) ফরাসি

উত্তরঃ গ


২১. কোনটি মিশ্র শব্দ?

ক) কৃষ্টি-সৃষ্টি

খ) হাট-বাজার

গ) হালাল-হারাম

ঘ) নামায-রোযি

উত্তরঃ খ


২২. ‘ম্যালেরিয়া’ শব্দটি কোন ভাষায়?

ক) মেক্সিকান

খ) ইতালি

গ) ইংরেজি

ঘ) পর্তুগিজ

উত্তরঃ গ


২৩. কোনটি ইংরেজি শব্দ?

ক) তারিখ

খ) লুঙ্গি

গ) বোতল

ঘ) ডিপো

উত্তরঃ গ


২৪. গরাদ-গারদ-লুণ্ঠন-লন্ঠন শব্দগুলো কোন ভাষার?

ক) পর্তুগিজ-ইংরেজি-সংস্কৃত-ইংরেজি

খ) পর্তুগিজ-ইংরেজি-সংস্কৃত-বাংলা

গ) পর্তুগিজ-ইংরেজি-সংস্কৃত-ফারসি

ঘ) পর্তুগিজ-ইংরেজি-সংস্কৃত-ফরাসি

উত্তরঃ ক


২৫. ‘কাপ্তান’ শব্দটি কোন ভাষার?

ক) জাপানি

খ) ফরাসি

গ) ইংরেজি

ঘ) ফারসি

উত্তরঃ গ


২৬. ‘হরতাল’ শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?

ক) ওলন্দাজ

খ) হিন্দি

গ) গুজরাটি

ঘ) তুর্কি

উত্তরঃ গ


২৭. কোনটি দেশি শব্দ নয়?

ক) কুলা

খ) পেট

গ) ঢেঁকি

ঘ) হাত

উত্তরঃ ঘ


২৮. ‘প্যাগোডা’ কোন ভাষার শব্দ?

ক) পর্তুগিজ

খ) বর্মি

গ) চীনা

ঘ) ইতালি

উত্তরঃ ক


২৯. ‘গিন্নী’ কোন শ্রেণির শব্দ?

ক) খাঁটি বাংলা

খ) তৎসম

গ) দেশি

ঘ) অর্ধ তৎসম

উত্তরঃ ঘ


৩০. কোনটি মিশ্র শব্দ নয়?

ক) চাবিকাঠি

খ) পকেটমার

গ) হাসনাহেনা

ঘ) সিলমোহর

উত্তরঃ গ


৩১. কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?

ক) গবেষণা

খ) মহাযাত্রা

গ) বাঙালি

ঘ) বাবুয়ানা

উত্তরঃ খ


৩২. ‘কালিকলম’ শব্দটি কোন শব্দদ্বয়ের মিশ্রণে হয়েছে?

ক) বাংলা-আরবি

খ) সংস্কৃত-আরবি

গ) বাংলা-ফারসি

ঘ) আরবি-ফারসি

উত্তরঃ ক


৩৩. কোনটি মৌলিক শব্দ?

ক) গোলাপ

খ) নীলাকাশ

গ) তৈল

ঘ) মধুর

উত্তরঃ ক


৩৪. প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?

ক) সুশ্রী

খ) জেলে

গ) মহাত্মা

ঘ) সফল

উত্তরঃ খ


৩৫. যেসব শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন, তাকে বলে – 

ক) রূঢ়ি শব্দ

খ) যোগরূঢ় শব্দ

গ) যৌগিক শব্দ

ঘ) মৌলিক শব্দ

উত্তরঃ গ


৩৬. ‘জলধি’ কোন শ্রেণির শব্দ?

ক) যৌগিক

খ) রূঢ়

গ) যোগরূঢ়

ঘ) রূঢ়ি

উত্তরঃ গ


৩৭. কোনটি রূঢ় শব্দ?

ক) কর্তব্য

খ) হস্তী

গ) পঙ্কজ

ঘ) মহাযাত্রা

উত্তরঃ খ


৩৮. কোনটি যৌগিক শব্দ?

ক) মিতালি

খ) পাঞ্জাবি

গ) বাবুয়ানা

ঘ) ক + গ

উত্তরঃ ঘ


৩৯. দাপ্তরিক কোন শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আসছে?

ক) আইন

খ) এজেন্ট

গ) দাখিল

ঘ) মুচলেকা

উত্তরঃ খ


৪০. কোনটি সাধিত শব্দ নয়?

ক) গরমিল

খ) চাঁদমুখ

গ) লাল

ঘ) চোরা

উত্তরঃ গ


৪১. অনার্যদের সৃষ্ট শব্দগুলো কী শব্দ?

ক) তৎসম

খ) দেশি

গ) বিদেশি

ঘ) তদ্ভব

উত্তরঃ খ


৪২. ফিরিঙ্গি ও বুর্জোয়া কোন ভাষার শব্দ?

ক) পর্তুগিজ ও ফরাসি

খ) পর্তুগিজ ও ফারসি

গ) ফরাসি ও ইংরেজি

ঘ) তুর্কি ও পর্তুগিজ

উত্তরঃ ক


৪৩. কোনটি যুগ্মরীতির দ্বিরুক্ত শব্দ নয়?

ক) ডাল ভাত

খ) কুহুকুহু

গ) অলিগলি

ঘ) মিটমাট

উত্তরঃ খ


৪৪. কোনটি পদাত্মক দ্বিরুক্তি?

ক) ভালো ভালো

খ) মিটমাট

গ) লেনদেন

ঘ) মনে মনে

উত্তরঃ ঘ


৪৫. ভিন্নার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বিরুক্তি কোনটি?

ক) তালাচাবি

খ) ছোট-বড়

গ) চুপচাপ

ঘ) সরাসরি

উত্তরঃ ক


৪৬. যুগ্মরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি কোনটি?

ক) মিটির মিটির

খ) টাপুর টুপুর

গ) অলিগলি

ঘ) ক+খ

উত্তরঃ খ


৪৭. ‘নাবিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়’ বাক্যটিতে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ কোন পদ?

ক) বিশেষ্য

খ) বিশেষণ

গ) ক্রিয়া

ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ

উত্তরঃ খ


৪৮. ভিন্নার্থক শব্দ যোগে যুগ্মরীতির দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?

ক) জন্ম-মৃত্যু

খ) অলিগলি

গ) ভাতটাত

ঘ) চালচলন

উত্তরঃ খ


৪৯. কোনটি মানুষের ধ্বনির অনুকার?

ক) মিন মিন

খ) ভেউ ভেউ

গ) হু হু

ঘ) ঘেউ ঘেউ

উত্তরঃ খ


৫০. ‘বৃষ্টি পড়ে টাটুর টুপুর’ এ বাক্যে দ্বিরুক্তি কী প্রকাশ করছে?

ক) পৌনঃপুনিকতা

খ) অনুভূতি

গ) বিশেষণ

ঘ) ধ্বনিব্যঞ্জনা

উত্তরঃ ঘ


৫১. ছি! ছি! তুমি এমন কাজ করেছ? এখানে, ছি! ছি! কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

ক) পৌঃপুনিকতা

খ) বিরক্তি

গ) অনুভূতি

ঘ) ভাবের গভীরতা

উত্তরঃ ঘ


৫২. নিচের কোনটি সমার্থক দ্বিরুক্তি?

ক) রাত-দিন

খ) ধন-দৌলত

গ) ফিট-ফাট

ঘ) লেন-দেন

উত্তরঃ খ


৫৩. কোন দ্বিরুক্তিটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ?

ক) শীত শীত

খ) পড়ো পড়ো

গ) শন শন

ঘ) হাতে হাতে

উত্তরঃ গ


৫৪. কোনটি পূর্ণসংখ্যার ন্যূনতা?

ক) ২১/২

খ) ১১/৪

গ) ২১/২

ঘ) ২৩/৪

উত্তরঃ ঘ


৫৫. ‘চৌথা’ কোন বাচক শব্দ?

ক) অঙ্কবাচক

খ) গণনাবাচক

গ) তারিখবাচক

ঘ) পূরণবাচক

উত্তরঃ খ


৫৬. ‘পয়লা ডাক’ এখানে ‘পয়লা’ কোন জাতীয় সংখ্যা?

ক) তারিখবাচক

খ) পূরণবাচক

গ) অঙ্কবাচক

ঘ) সমষ্টিবাচক

উত্তরঃ খ


৫৭. কোনটি পূর্ণ সংখ্যার আধিক্য নয়?

ক) 〖১ 〗⁡〖১/৪〗

খ) 〖২ 〗⁡〖১/২〗

গ) 〖৪ 〗⁡〖৩/৪〗

ঘ)〖 ৩ 〗⁡〖১/২〗

উত্তরঃ গ


৫৮. ‘তেহাই’ কী প্রকাশ করে?

ক) পূর্ণসংখ্যার ন্যূনতা

খ) পূর্ণসংখ্যার আধিক্য

গ) পূর্ণসংখ্যার সমতা

ঘ) পূর্ণসংখ্যা

উত্তরঃ ক


৫৯. নিম্নের কোনটি গণনাবাচক সংখ্যা?

ক) বিংশ

খ) সপ্তাহ

গ) উনিশে

ঘ) চৌঠা

উত্তরঃ খ


৬০. ‘ডজন’ কী বাচক সংখ্যা?

ক) অঙ্কবাচক

খ) সংখ্যাবাচক

গ) পরিমাণবাচক

ঘ) ক্রমবাচক

উত্তরঃ গ


তথ্যসূত্র:

১. রফিকুল ইসলাম, পবিত্র সরকার ও মাহবুবুল হক, প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ (বাংলা একাডেমি, জানুয়ারি ২০১৪)
২. রফিকুল ইসলাম ও পবিত্র সরকার, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, প্রথম খণ্ড (বাংলা একাডেমি, ডিসেম্বর ২০১১)
৩. মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩)
৪. নির্মল দাশ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও তার ক্রমবিকাশ (বিশ্বভারতী ২০০০)
৫. কাজী দীন মুহম্মদ ও সুকুমার সেন, অভিনব ব্যাকরণ (ঢাকা ১৯৪৮)
৬. মুহম্মদ আবদুল হাই, ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)
৭. ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষাশিক্ষা : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০০৪)
৮. ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান, ভাষাবিধি : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও প্রবন্ধ রচনা (আদিল ব্রাদার্স, জানুয়ারি ২০০৯)
৯. ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (অগ্নি পাবলিকেশন্স, এপ্রিল ২০০৪)
১০. ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী, ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (বাংলা একাডেমি, স্বরবর্ণ অংশ: ডিসেম্বর১৯৭৪ ও ব্যঞ্জনবর্ণ অংশ: জুন ১৯৮৪)
১১. স্বরোচিষ সরকার, বাংলাদেশের কোষগ্রন্থ ও শব্দসন্ধান (বাংলা একাডেমি, মে ২০১০)
১২. সুব্রত বড়ুয়া, বাংলা পরিভাষার সন্ধানে (বাংলা একাডেমি, মে ২০১৪)
১৩. জালাল ফিরোজ, পার্লামেন্টারি শব্দকোষ (বাংলা একাডেমি, জুন ১৯৯৮)
১৪. নীলিমা ইব্রাহিম, বশীর আল হেলাল ও অন্যান্য, প্রশাসনিক পরিভাষা (বাংলা একাডেমি, ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫)
১৫. মোহাম্মদ হারুন রশিদ, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি ফারসি উর্দু শব্দের অভিধান (বাংলা একাডেমি, মে ২০১৫)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *