BCS Geography Lecture – 01

বায়ুমণ্ডল, আবহাওয়া ও জলবায়ু, পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন, শিলা ও খনিজ, ভূমরিূপ, ভূপৃষ্ঠরে পরর্বিতন, নমুনা প্রশ্ন

 


বায়ুমণ্ডল


পৃথিবীর চারদিকে বেষ্টন করে বায়ুর যে আস্তরণ আছে তাকে বায়ুমন্ডল (Atmosphere) বলে। এর গড় গভীরতা ১০,০০০ (দশ হাজার) কি.মি.। বায়ুমন্ডলের ৯৭% স্তর ভূপৃষ্ঠের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বায়ুমন্ডলের ভূপৃষ্ঠের সাথে লেপ্টে থাকে মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে।

উপাদান ও রাসায়নিক গঠন অনুযায়ী বায়ুমন্ডলের ২টি স্তর। যথা:

  1. Homosphere (সমমন্ডল): এই স্তর প্রাণীদের বসবাসযোগ্য এবং এখানে বাতাসে বিভিন্ন উপাদান সমানভাবে থাকে।
  2. Heterosphere (বিষমমন্ডল):এ স্তরে বাতাসে বিভিন্ন উপাদান সমানভাবে থাকে না। এটি সমমণ্ডলের বিপরীত।

উষ্ণতা ও বায়ুচাপের তারতম্য অনুযায়ী বায়ুমন্ডলের ৬টি স্তর। যথা:

  1. Troposphere (ট্রপোমন্ডল)
  2. Stratosphere (স্ট্রাটোমন্ডল)
  3. Mesosphere (মেসোমন্ডল)
  4. Thermosphere (থার্মোমন্ডল)
  5. Exosphere (এক্সোমন্ডল)
  6. Magnetosphere (ম্যাগনিটোমন্ডল)

(মনে রাখার কৌশল: ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে মেসো থাকে একলা মনে।)

  1. Troposphere (ট্রপোমণ্ডল):এটি ভূপৃষ্ঠের নিকটবর্তী বায়ুমণ্ডলের প্রথম স্তর। এর গড় গভীরতা ভূপৃষ্ঠ থেকে ১২.৮৭ কি.মি. পর্যন্ত। আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রতিক্রিয়ার (ঝড়, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি) অধিকাংশ এ স্তরে ঘটে। একে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলে।
  2. Stratosphere (স্ট্রাটোমন্ডল): ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের ১২.৮৭ কি.মি. হতে ৫০ কি.মি. পর্যন্ত এ স্তর বিস্তৃত। এখানে বায়ুর ঘনত্ব, তাপ ও চাপ কম। এ স্তরে বিমান চলাচল করে। এর গড় গভীরতা ট্রপোমন্ডল থেকে ৫০ কি. মি. উপর পর্যন্ত। একে শান্তমন্ডল বলে।

এ স্তরের উপরিভাগে ওজোনস্তর/ওজোনমণ্ডল। ওজোন একটি গ্যাসের স্তর। এর রং গাঢ় নীল। এটি স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের ১২ থেকে ১৬ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত। অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬৫ কি.মি. উপরিভাগে ওজোন স্তর বিদ্যমান। এ স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে উত্থিত শব্দ প্রতিফলিত হয়। ওজোনস্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে এবং প্রাণীকূলকে মারাত্মক সব রোগব্যাধি থেকে রক্ষা করে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ফলে চোখে ছানি পড়া, ত্বক ক্যান্সার প্রভৃতি রোগ দেখা দেয়।

  1. Mesosphere (মেসোমন্ডল): এখান থেকে যত উপরে যাওয়া হবে ততই তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। এর উর্ধ্বসীমার তাপমাত্রা 1500 ফারেনহাইট। এই স্তরে মহাকাশ থেকে আসা উল্কাপিন্ড পুড়ে ছাই হয়ে যায় অর্থাৎ ধ্বংস হয়।
  2. Thermosphere (থার্মোমন্ডল): এই স্তরে মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora) দেখা যায়। Aurora মূলত বায়ুমন্ডলের উচ্চতর স্তরে বৈদ্যুতিক বিচ্যুতির কারণে হয়। এর উপরিভাগে আয়নমন্ডল অবস্থিত যেখানে বেতারতরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে। এই স্তরে স্যাটেলাইটে থাকে। বেতারতরঙ্গের গতিবেগ প্রায় আলোর গতিবেগের সমান।
  3. Exosphere (এক্সোমন্ডল): এই স্তরে উল্কা ও মহাজাগতিক রশ্মি পাওয়া যায়। এই স্তরে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস রয়েছে যা দাহ্য পদার্থ। বেলুনে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। হাইড্রোজেন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না। অক্সিজেন নিজে জ্বলে না কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে।
  4. Magnetosphere (ম্যাগনিটোমন্ডল): এটি বায়ুমণ্ডলের তড়িৎ চুম্বকীয় স্তর। এই স্তরে ইলেক্ট্রন ও প্রোটনের সন্ধান পাওয়া যায়। এক্সোমণ্ডল ও ম্যাগনিটোমন্ডল এ দুটি স্তরকে Fountain Layer বলা হয়। কারণ এখানে অণু-পরমাণুগুলো সর্বদা উপরের দিকে ধাবিত হয়।

 

বায়ুর উপাদান:বায়ু হলো বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ। এর উপাদানকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

  1. মুখ্য উপাদান:

 নাইট্রোজেন (78.01%)

 অক্সিজেন (20.71%)

 আর্গন (0.80%)

 ওজোন (0.0001%)

 কার্বন-ডাই-অক্সাইড (0.03%)

 হাইড্রোজেন (0.00005%)

 মিথেন (0.00002%)

 হিলিয়াম (0.0005%)

 নিয়ন (0.0018%)

 ক্রিপটন (0.00012%)

 জেনন (0.00009%)

 নাইট্রাস অক্সাইড (0.00005%)

  1. জলীয় বাষ্প(0.41%)
  2. ধূলিকণা বা Aerosol (0.4399%)

 


আবহাওয়া ও জলবায়ু


কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, উষ্ণতা, আর্দ্রতা, মেঘ, বৃষ্টি, জলীয়-বাষ্প, বায়ুপ্রবাহ ও তুষারপাত ইত্যাদির দৈনন্দিন অবস্থাকে সে স্থানের আবহাওয়া (Weather) বলে।সাধারণত কোনো স্থানের ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু (Climate) বলে।

*     পৃথিবীতে জলবায়ু অঞ্চল ৪টি। যথা:

  1. উষ্ণ (মরুভূমি অঞ্চল)
  2. নাতিশীতোষ্ণ
  3. মেরুদেশীয় (সাইবেরিয়া ও আলাস্কা অঞ্চল)
  4. পার্বত্যঅঞ্চল
  • জলবায়ু ২ ধরনের। যথা:

১।    সমভাবাপন্ন: সমুদ্র নিকটবর্তী এলাকার জলবাযু। এখানে তাপমাত্রার পার্থক্য কম-বেশি হয় না।
২।    চরমভাবাপন্ন:সমুদ্র দূরবর্তী এলাকার জলবায়ু। এখানে তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে। এর অপর নাম মহাদেশীয় জলবায়ু।

আবহাওয়া ও জলবায়ুর ৫টি উপাদান আছে। যথা:

  1. বায়ুর তাপ
  2. বায়ুর চাপ
  3. বায়ু প্রবাহ
  4. বায়ুর আর্দ্রতা
  5. পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত।

আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ: নিম্নোক্ত নিয়ামকসমূহ আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নির্ধারণ করে। যেমন:

  1. অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ
  2. সমুদ্রস্রোত
  3. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  4. বনভূমির অবস্থান
  5. ভূমির বন্ধুরতা (বায়ুপ্রবাহ বাধা পায়)
  6. ভূমির ঢাল (বায়ুপ্রবাহ বাধা পায়)
  7. পর্বতের অবস্থান (বায়ুপ্রবাহ বাধা পায়)
  8. মৃত্তিকার গঠন
  9. ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা (উপরের দিকে গেলে বায়ুর চাপ ও তাপ কমে)

বায়ুর তাপ: বায়ুমন্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% সূর্য থেকে আসে। বায়ুমন্ডল ৩টি প্রক্রিয়ায় উত্তপ্ত হয়। যথা:

  1. পরিবহন: এটি মূলত কঠিন পদার্থে হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়।
  2. পরিচলন: এটি মূলত তরল পদার্থে হয়ে থাকে।এর মাধ্যমে বায়ুর ঘূর্ণন প্রক্রিয়া, পানি ও তাপের বিনিময় হয়।
  3. বিকিরণ: এটি মূলত শূন্য মাধ্যমে হয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে তাপ পৃথিবীতে আসে এবং পৃথিবী তাপ হারিয়ে শীতল হয়।সূর্য আমাদের বিকিরণ মাধ্যমে তাপ দেয়।

বায়ুর চাপ: বায়ু তার ভরের জন্য চতুর্দিকে যে চাপ দেয় তাকে বায়ুচাপ বলে। বায়ুচাপ ৩টি নিয়ামকের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ বায়ুচাপ ৩টি কারণে হয়ে থাকে। যথা:

  1. 1. উচ্চতা:সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে উঠা যায় বায়ুর চাপ তত কমে।
  2. উষ্ণতা:তাপে বায়ু প্রসারিত ও হালকা হয় ফলে বায়ু চাপ কমে। অর্থাৎ তাপ বাড়লে চাপ কমে, তাপ কমলে চাপ বাড়ে।
  3. জলীয় বাষ্প: এটি মূলত বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ। জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু শুষ্ক বায়ু অপেক্ষা হালকা। বায়ু আর্দ্র হলে চাপ কমে। শুষ্ক ও ঠান্ডা হলে চাপ বাড়ে।

বায়ুর স্বাভাবিক চাপ:

সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ ৭৬ সে.মি.।

ভূপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ ১০ নিউটন।

স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের উপর বাযুর চাপ ১৪.৫/১৫ পাউন্ড।

ভূগর্ভস্থ পানি লিফট পাম্পের সাহায্যে সর্ব্বোচ্চ ১০ মিটার নিচ থেকে উঠানো যায়।

সাধারণ পাম্প পানিকে ৩৪ ফুটের অধিক উচ্চতায় উঠাতে পারে না।

  • নিম্নচাপ: বায়ুচাপের হ্রাস পাওয়াকে নিম্নচাপ বলে। এর ফলে বাতাসে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এটা সর্বদা সাগর/মহাসাগরে হয়ে থাকে। হঠাৎবায়ুর চাপ কমে গেলে বায়ুপ্রবাহ বেড়ে যায়। বাতাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার। এই যন্ত্রে পারদ ব্যবহার করা হয়। পারদ একমাত্র তরল ধাতু যা সবচেয়ে ভারী। ব্যারোমিটারে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা হ্রাস পেলে ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যায়।
  • বায়ুপ্রবাহ: সূর্যতাপ ও বায়ুচাপের পার্থক্যের জন্য বায়ু এক স্থান থেকে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।বায়ু সাধারণত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।

 

  • বায়ুপ্রবাহের কারণ ২টি। যথা:

১. সূর্যতাপ

২. বায়ুচাপ

বায়ু উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। এই প্রবাহের সময় ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধের ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধের বামদিকে বেঁকে যায়।

 উচ্চচাপ বলয়: ২৫-৩০ অক্ষাংশের মধ্যে।

→ নিম্নচাপ বলয়: ৬০-৭০ অক্ষাংশের মধ্যে।

  • বায়ুপ্রবাহের ৪টি প্রকার। যথা:

১.  নিয়ত বায়ু

২.  সাময়িক বায়ু

৩.  অনিয়মিত বায়ু

৪.  স্থানীয় বায়ু

  • নিয়ত বায়ু: এই বায়ু সারা বছর একই দিকে অর্থাৎ উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। এই নিয়তবায়ু আবার ৩ প্রকার। যথা:

     

অয়ন বায়ু: এর অপর নাম বাণিজ্য বায়ু। এ বায়ু পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়।

প্রত্যয়ন বায়ু: এর অপর নাম পশ্চিমা বায়ু। এ বায়ু পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয়। উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরের ৪০থেকে ৪৭ দক্ষিণ অক্ষাংশে পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সবচেয়ে বেশি। তাই এই অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশা বলে। এর অপর নাম প্রবল পশ্চিমা বায়ু।

মেরুবায়ু: উত্তর (সুমেরু) থেকে দক্ষিণে সুমেরু বায়ুপ্রবাহিত হয় এবং দক্ষিণ (কুমেরু) থেকে উত্তরে কুমেরু বায়ু প্রবাহিত হয়।

 

  • সাময়িক বায়ু: নির্দিষ্ট কোনো সময় ও ঋতুতে জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্যের জন্য যে বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হয় তাকে সাময়িক বায়ু বলে। এই বায়ু অল্প সময়ের জন্য প্রবাহিত হয়। সাময়িক বায়ু ৩ প্রকার। যথা:

মৌসুমী বায়ু: ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ুর দিক পরিবর্তন হয়। এই বায়ু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেখা যায়। গ্রীষ্মকালে এই বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়। বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে এ বায়ু প্রবাহিত হয়। শীতকালে মহাদেশীয় বায়ু অর্থাৎ পার্বত্য অঞ্চল থেকে আসা বায়ু প্রবাহিত হয়।

→ স্থলবায়ু: এ বায়ু স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। এটি রাতে প্রবাহিত হয়। মধ্যরাতে এর গতিবেগ বেশি থাকে।

→ সমুদ্রবায়ু: এ বায়ু সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এটি দিনে প্রবাহিত হয়। বিকেলে/অপরাহ্ণে এর গতিবেগ বেশি থাকে।

 

অনিয়মিত বায়ু: কোনো স্থানে অধিক উত্তাপের জন্য নিম্নচাপের সৃষ্টি হলে কিংবা অধিক শৈত্যপ্রবাহের জন্য উচ্চচাপের সৃষ্টি হলে যে বায়ু প্রবাহ হয় সেটিই অনিয়মিত বায়ু। এ বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। অনিয়মিত বায়ুর মধ্যে ‘টর্নেডো’ স্থলভাগে সৃষ্টি হয়।টর্নেডো স্প্যানিশ শব্দ। এটা এমন এক ধরনের ঘূর্ণিঝড় যা সীমিত স্থানে হয়। এর গতিবেগ ঘন্টায় ৪০০ কি.মি. পর্যন্ত হতে পারে। জলভাগে সৃষ্ট ঘুর্ণিঝড়ের মধ্যে:

 সাইক্লোন (ভারত মহাসাগরে সৃষ্টি হয়)

 টাইফুন (প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হয়)

 হারিকেন (আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্টি হয়)

 

  • স্থানীয় বায়ু : স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ও তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে স্থানীয় বায়ু বলে। অঞ্চলভেদেএর বিভিন্ন নাম রয়েছে। যেমন:

সাহারা ও আরব মরুভূমিতে ‘সাইমুম’

যুক্তরাষ্ট্রের রকি পর্বতমালায়‘চিনুক’

মিশরীয় অঞ্চলে‘খামসিন’

উপমহাদেশে ‘লু’

আফ্রিকা ও ইতালিতে‘সিরক্কো’

দক্ষিণ আমেরিকায় ‘পাম্পেরু’

 

  • বায়ুর আদ্রর্তা: বায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকে আর্দ্রতা বলে। আর্দ্রতার পরিমাণও জলীয়বাষ্প একই কথা। বাতাসে তাপমাত্রা হ্রাস পেলে আর্দ্রতা বাড়ে; তাপমাত্রা বাড়লে আর্দ্রতা কমে। আর্দ্রতা দুই প্রকার। যথা:

      ১. পরম আর্দ্রতা: বায়ুতে জলীয় বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে পরম আর্দ্রতা বলে।

      ২. আপেক্ষিক আর্দ্রতা: কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয় বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ এবং একই আয়তনের বায়ুকে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্পের প্রয়োজন; এ দুটির অনুপাতকেআপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে।

আর্দ্র বা ভেজা বায়ুতে বায়ুর চাপ কমে। শুষ্ক বা ঠান্ডা বায়ুতে বায়ুর চাপ বাড়ে।

শীতকালে বায়ুর আর্দ্রতা কম থাকে বলে বাতাস শুষ্ক থাকে তাই ঠোঁট ও গায়ের চামড়া ফেটে যায়।

বর্ষাকালে বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে এবং শীতকালে জলীয় বাষ্প কম থাকে ফলে বাতাস ভেজা কাপড় হতে জলীয় বাষ্প শোষণ করে তাই শীতকালে ভেজা কাপড় তাড়াতাড়ি শুকায়।

 

  • পানিচক্র:পানি প্রবাহের সার্বিক অবস্থাকে পানিচক্র বলে। পানিচক্রের ৪টি অবস্থা। যথা:
  1. বাষ্পীভবন: সমুদ্র জলীয় বাষ্পের উৎস। সূর্য-ই বাষ্পীভবনের কারণ।
  2. ঘনীভবন: বায়ু যত উষ্ণ হয় জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা তত বেশি হয়। বায়ু শীতল হতে থাকলে জলীয় বাষ্পের কিছু অংশ পানিতে পরিণত হয়। বায়ু যে উষ্ণতায় জলীয়বাষ্পরূপে ঘনীভূত হয় তাকে শিশিরাঙ্ক বলে। পানি ০সেলসিয়াস আকার ধারণ করলে তখন তুষারপাত হয়। অন্যথায় শিশির ও কুয়াশায় পরিণত হয়।
  3. বারিপাত:সকল বারিপাত জলীয় বাষ্পের উপর নির্ভরশীল। বারিপাত বলতে ৪টি জিনিসকে বুঝায়। যথা: শিশির (Dew), তুহিন (Frost), কুয়াশা (Fog), তুষার (Snow)। ঘন কুয়াশাকে কুজ্ঝটিকা বলে।
  4. পানিপ্রবাহ:ভূ-পৃষ্ঠে পানির মূলত ৪টি প্রবাহ। যথা: পৃষ্ঠপ্রবাহ, অন্তঃপ্রবাহ (মাটির নিচ দিয়ে প্রবাহ), চুয়ানো ও পরিস্রাবণ (ছাকন পদ্ধতি) ।

 

  • বৃষ্টিপাত: বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪ ধরনের। যথা:
  1. পরিচলন বৃষ্টি: এটি নিরক্ষীয় অঞ্চল তথা পৃথিবীর কেন্দ্রভাগে হয়ে থাকে।
  2. শৈলৎক্ষেপণ বৃষ্টি: এটি পার্বত্য অঞ্চলে হয়ে থাকে।
  3. ঘূর্ণি বৃষ্টি: শীতকালে এটি ইউরোপে হয়ে থাকে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে হয়।
  4. বায়ুপ্রাচীর-জনিত বৃষ্টি: এটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে হয়ে থাকে।

 


পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন


পৃথিবী প্রথম উত্তপ্ত গ্যাসীয় পিন্ড ছিল। ধীরে ধীরে পৃথিবী শীতল হয়ে কঠিন পদার্থগুলো নিচে ঘনীভূত হয়ে চারটি স্তরে বিভক্ত হয়। যেমন:

  1. ভূত্বক (Earth’s Crust)
  2. অশ্বমন্ডল (Lithosphere)
  3. গুরুমন্ডল (Barysphere)
  4. কেন্দ্রমন্ডল (Centrosphere)

 

ভূত্বক: ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে শিলার যে কঠিন বহি-আবরণ দেখা যায় তাকে ভূত্বক বলে। এর পুরত্ব গড়ে ২০ কিলোমিটার।ভূপৃষ্ঠ থেকে গর্ত করে নিচের দিকে গেলে চাপ ও তাপ উভয়ই বাড়বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে উঠলে চাপ ও তাপ কমবে।ভূত্বক দুই শ্রেণির। যথা:

ক. মহাদেশীয় ভূত্বক: ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ থেকে এর পুরত্ব৩৫ কি. মি. প্রায়। এটি সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে গঠিত।

      খ. সমুদ্র তলদেশীয় ভূত্বক:সমুদ্র তলদেশ থেকে এর পুরত্ব ৫ কি.মি. প্রায়। এটি সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে গঠিত।

      → ভূত্বকের উপাদান: অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম।

      → ভূত্বকের প্রধান উপাদানঅক্সিজেন (৪২.৭%)

      → পৃথিবী তৈরির প্রধান উপাদানসিলিকন (২৭.৭%)

(ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ধাতু অ্যালুমিনিয়াম(৮.১%)

 

অশ্বমন্ডল:ভূত্বকের নিচে এবং গুরুমন্ডলের উপরে ১০০ কি.মি. বিস্তৃত যে কঠিন শিলার আস্তরণ আছে তাকে অশ্বমন্ডল বলে। এর অপর নাম শিলামন্ডল। এটি তৈরির উপাদানসিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al)। সংক্ষেপে: SiAl (সিয়াল)

 

গুরুমন্ডল: অশ্বমন্ডলের নিচে ও কেন্দ্রমণ্ডলের উপরে৩০৫৮ কি. মি. পর্যন্ত বিস্তৃত মন্ডলকে গুরুমন্ডল বলে। এটি মূলত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত।এটি তৈরির প্রধান উপাদানসিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Ma)। সংক্ষেপে: SiMa (সিমা)

 

কেন্দ্রমন্ডল: গুরুমন্ডল থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রভাগ পর্যন্ত যে স্তর তাকে কেন্দ্রমন্ডল বলে।এ স্তরের তাপমাত্রা ৩০০০ থেকে ৫০০০ সেলসিয়াস পর্যন্ত। এটি তৈরির উপাদান নিকেল (Ni) ও লোহা (Fe)। সংক্ষেপে: NiFe (নিফে)

 


শিলা ও খনিজ


ভূত্বক যে সব উপাদান দিয়ে তৈরি তার সাধারণ নাম শিলা। এটি মূলত একাধিক খনিজের সমন্বয়।কতগুলো মৌলিক পদার্থ প্রাকৃতিক উপায়ে মিলিত হয়ে যে যৌগিক পদার্থের সৃষ্টি করে তাকে খনিজ বলে। পৃথিবীর বিচিত্র ভূমিরূপ প্রক্রিয়া শিলা ও খনিজের ধরন দ্বারা প্রভাবিত হয়।

  • শিলা ও খনিজের পার্থক্য:

শিলা:

  1. বিভিন্ন রং
  2. একাধিক খনিজের সমন্বয়
  3. সুলভ/সহজেই পাওয়া যায়
  4. রাসায়নিক সংকেত নেই
  5. প্রাকৃতিক নাও হতে পারে
  6. অসমসত্ত্ব (উপাদানগুলো একইভাবে সাজানো নয়)
  7. কঠিন ও হালকা নরম
  8. উদাহরণ: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, কোয়ার্টজাইট, চুনাপাথর ইত্যাদি।

খনিজ: 

  1. খনিজ একটি নির্দিষ্ট রং
  2. এক বা একাধিক মৌলিক পদার্থের সমন্বয়
  3. দুর্লভ/কম পাওয়া যায়
  4. রাসায়নিক সংকেত আছে
  5. প্রাকৃতিক
  6. সমসত্ত্ব (উপাদানগুলো একইভাবে সাজানো)
  7. কঠিন ও স্বচ্ছ
  8. উদাহরণ: মাইকা, কোয়ার্টাজ, স্বর্ণ, লোহা, ক্যালসাইট ইত্যাদি।

শিলা প্রধানত তিন প্রকার। যথা:

  1. আগ্নেয় শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা

 

  1. আগ্নেয় শিলা: এ শিলা উত্তপ্ত গলিত অবস্থা থেকে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে কঠিন হয়েছে। এ শিলায় জীবাশ্ম নেই। একে প্রাথমিক শিলাও বলা হয়। এটি অস্তরীভূত শিলা। যেমন: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, শেল, ল্যাকোলিথ ইত্যাদি।

 

  1. পাললিক শিলা: এই শিলা পলি দ্বারা গঠিত হয়ে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়। এ শিলায় জীবাশ্ম আছে। জীবাশ্ম মূলত বিভিন্ন প্রাণী ও বৃক্ষের ধ্বংসাবশেষ যা যুগ যুগ ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। একে স্তরীভূত শিলা বলা হয়। এই শিলায় ভাঁজ আছে। যেমন: কয়লা, চুনাপাথর, নুড়িপাথর, বেলেপাথর, জিপসাম, চক, লবণ ইত্যাদি।

 

  1. রূপান্তরিত শিলা: এই শিলায় স্তরে স্তরে ভাঁজ থাকে। চাপ, তাপ ও রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এই শিলায় গঠিত হয়। এটি মূলত আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত হয়। যেমন: গ্রাফাইট, মার্বেল, নিস, স্লেট, কোয়ার্টজাইট, ক্যালসাইট ইত্যাদি।
  • গ্রাফাইট: কয়লা থেকে সৃষ্ট
  • নিস: গ্রানাইট থেকে সৃষ্ট
  • স্লেট: শেল থেকে সৃষ্ট
  • কোয়ার্টজাইট: কোয়ার্টজ ও বেলেপাথর থেকে সৃষ্ট
  • মার্বেল ও ক্যালসাইট: চুনাপাথর থেকে সৃষ্ট

  • খনিজ: কতগুলো মৌলিক পদার্থ প্রাকৃতিক উপায়ে মিলিত হয়ে যে যৌগিক পদার্থের সৃষ্টি করে তাকে খনিজ বলে। খনিজ দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে গঠিত।কিছু কিছু খনিজএকটি মাত্র মৌলিক পদার্থ দিয়েও গঠিত হতে পারে। যেমন: সোনা, রূপা, তামা, হীরা, পারদ, গন্ধক, টেলক প্রভৃতি এক মৌল দিয়ে গঠিত খনিজ।

→ হীরা সবচেয়ে কঠিন পদার্থ/খনিজ।

→ টেলক সবচেয়ে নরম পদার্থ/খনিজ।

 


ভূমিরূপ


ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন আকৃতি বা গঠনের উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ মূলত ৪ শ্রেণির। যথা:

১. সমভূমি (Plain)

২.  মরুভূমি (Desert)

৩.  মালভূমি (Plateau)

৪.  পার্বত্যভূমি (Mountain)

 

পার্বত্যভূমি: সাধারণত ৬০০-১০০০ মিটার হালকা ঢালবিশিষ্ট ভূমিরূপকে পাহাড় বলে। কিন্তু ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু খাড়া ঢালবিশিষ্ট ভূমিকে পর্বত বলে। ৬০০ মিটার এর কম উচ্চতাসম্পন্ন ভূমিরূপকে টিলা বলে। সিলেট, নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জেটিলা দেখতে পাওয়া যায়। দুই পর্বতের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ ও অনুচ্চ পথকে গিরিপথ বলে। পর্বত ৪ ধরনের। যথা:

 

  1. ভঙ্গিল পর্বত:কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে। যেমন:এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, রাশিয়ার ইউরাল, উত্তর আমেরিকার রকি ও দক্ষিণ আমেরিকারআন্দিজ পর্বতমালা।
  2. আগ্নেয় পর্বত:আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্গরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়। যেমন: সেন্ট হেলেনা (যুক্তরাষ্ট্র), ফুজিয়ামা (জাপান), ভিসুভিয়াস (ইতালি), কিলিমাঞ্জারো (কেনিয়া) ও পিনাটুবো (ফিলিপাইন) প্রর্ভতি পর্বত।
  3. ক্ষয়জাত পর্বত/চ্যুতি-স্তূপ পর্বত: এটি ভূ-আলোড়নের সময় ভূ-অভ্যন্তরে শিলার ফাটলের ফলে ভূত্বকের উপরের দিকে উঁচু হয়ে সৃষ্টি হয়। যেমন: ব্ল্যাক ফরেস্ট (জার্মানি), লবণ (পাকিস্তান), বিন্ধ্যা ও সাতপুরা (ভারত) প্রভৃতি পর্বত।
  4. ল্যাকোলিথ পর্বত/গম্ভুজ পর্বত: ভূ-অভ্যন্তরের আগ্নেয়গিরির লাভা উৎগরিত না হওয়ায়র কারণে ভূপৃষ্ঠে যে উঁচু উঁচু ঢিবির তৈরি হয় তাকে ল্যাকোলিথ বা গম্ভুজ পর্বত বলে। এর কোনো শৃঙ্গ নেই। যেমন: যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি পর্বত।

 

মালভূমি: পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু বিস্তৃর্ণ সমতল ভূমিকে মালভূমি বলে। এটা ৩ ধরনের। যথা:

      ১পর্বত-মধ্যবর্তী মালভূমি:এটি দুই পর্বতের মধ্যবর্তী বিস্তৃর্ণ সমতল ভূমি। যেমন:পামির (এশিয়া), মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, বলিভিয়া ও তিব্বতের মালভূমি।

২.  পাদদেশীয় মালভূমি:এটি উচ্চপবর্ত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সৃষ্টি হয়। যেমন: যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো, দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগনিয়া মালভূমি।

      ৩. মহাদেশীয় মালভূমি: এটি সাগর ও নিম্নভূমি পরিবেষ্টিত উচ্চভূমি, যার সাথে পর্বতের কোনো সংযোগ নেই।

 

  • মরুভূমি: সমুদ্র থেকে দূরবর্তী পাহাড়ঘেরা স্থান, যেখানে সামুদ্রিক আর্দ্রতা ও মেঘ পৌঁছাতে পারে না এবং বিষুবরেখার নিকটবর্তী অঞ্চলে মরুভূমি দেখা যায়। ইউরোপ মহাদেশে কোনো মরুভূমি নেই।ক্যাকটাস ও উট যথাক্রমে মরুভূমির বৃক্ষ ও প্রাণী। মরুভূমি ২ ধরনের। যথা:

১.  শীতল মরুভূমি:উত্তর মেরুর আর্কটিক, দক্ষিণ মেরুর এন্টার্কটিক, ভারতেরলাদাখ প্রভৃতি মরুভূমি।

২.  উষ্ণমরুভূমি: সাহারা (উত্তর আফ্রিকা), কালাহারি (দক্ষিণ আফ্রিকা), আরব (মধ্যপ্রাচ্য), গোবি (মঙ্গোলিয়া), থর (ভারত ও পাকিস্তান), তাকমালাকান (চীন), পাতাগুনিয়ান (দক্ষিণ আমেরিকা), গ্রেট ভিক্টোরিয়া (অস্ট্রেলিয়া), দস্ত-ই-লূত (ইরান) প্রভৃতি মরুভূমি।

 

সমভূমি: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচু মৃদু ঢালবিশিষ্ট সুবিস্তৃত ভূমিকে সমভূমি বলে। এটি ২ ধরনের। যথা:

      ১. ক্ষয়জাত: এটি মাটি ক্ষয় হয়ে হয়ে সৃষ্টি হয়। যেমন: সাইবেরিয়ার সমভূমি, বাংলাদেশের মধুপুর ও ভাওয়াল, বরেন্দ্রভূমি (সোপান অঞ্চল) ইত্যাদি। এ ধরনের সমভূমি হলো:

    ক. পাদদেশীয় সমভূমি: রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল

    খ. স্রোতজ সমভূমি: খুলনা ও পটুয়াখালি অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিছু অঞ্চল।

২. সঞ্চয়জাত:এটি পলি সঞ্চিত হতে হতে সৃষ্টি হয়। এগুলো মূলত নদীবিধৌত অববাহিকা।এ ধরনের সমভূমি চার প্রকার। যথা:

ক.প্লাবন সমভূমি: ধলেশ্বরী ও যমুনার প্লাবন ভূমি।

খ.বদ্বীপ সমভূমি: গঙ্গার বদ্বীপ অঞ্চল।

    গ.উপকূলীয় সমভূমি: চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল।

ঘ.হিমবাহ সমভূমি: কানাডার প্রেইরি অঞ্চল ও মধ্য ইউরোপের সমভূমি।

 


ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন


যে কার্যাবলির কারণে প্রাকৃতিকভাবে ভূমিরূপের পরিবর্তন হয় তাকে ভূপ্রক্রিয়া বলে। এই প্রক্রিয়া তিনভাবে হয়ে থাকে। যথা:

  • আকস্মিক পরিবর্তন: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূকম্পন, পৃথিবীর অভ্যন্তরের সংকোচন, ভূগর্ভের তাপ ও অন্যান্য প্রচণ্ড শক্তির ফলে ভূপৃষ্ঠে হঠাৎ যে পরিবর্তন সাধিত হয় তাকে আকস্মিক পরিবর্তন বলে। এটি প্রধাণত ভূমিকম্প, সুনামি ও আগ্নেয়গিরিরি ফলে সৃষ্টি হয়।
  • ভূমিকম্প ও সুনামি:ভূ-অভ্যন্তরস্থ শিলারাশিতে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক অবমুক্তির কারণে সৃষ্ট স্পন্দন থেকে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ভূপৃষ্ঠের নিচে ৫ কি. মি. থেকে ১১২৬ কি. মি. পর্যন্ত ভূমিকম্প (Earthquake) হতে পারে। ভূকম্পন যদি সমুদ্রের তলদেশে হয়ে বিশাল ঢেউ এর সৃষ্টি করে তাকে সুনামিবলে। সুনামি প্রশান্ত মহাসাগরে বেশি হয়। ভূমিকম্প প্রশান্ত মহাসাগরের বহিঃসীমানা বরাবর ঘটে। প্রধানত জাপান, চিলি, ফিলিপাইন, আলাস্কায় ভূমিকম্প বেশি হয়।ভূমিকম্প প্রধাণত৩ ধরনের। যথা: অগভীর (সবচেয়ে বেশি হয়), মাঝারি ও গভীর।

 

আগ্নেয়গিরি: ভূপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ বেশি হলে সেখানে গর্ত বা ফাটলের সৃষ্টি হয় এবং সেই ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন পদার্থ নির্গত হয় তাকে আগ্নেয়গিরি (Volcano) বলে।

উদগিরিত পদার্থকে লাভা বলে।

লাভার উর্ধ্বে উৎক্ষিপ্ত হওয়াকে (Eruption) অগ্ন্যুৎপাত বলে।

আগ্নেয়গিরির উদগিরণ মুখকে জ্বালামুখ বলে।

উদগিরণ শেষে জ্বালামুখ ধ্বসে পড়ে যে গর্তের সৃষ্টি হয় তাকে ক্যালডেরা বলে।

লাভা ঠান্ডা হয়ে যে দ্বীপের সৃষ্টি হয় তাকে আগ্নেয় দ্বীপ বলে। যেমন: হাওয়াই দীপপুঞ্জ (যুক্তরাষ্ট্র)

এই লাভা যখন ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে গলিত অবস্থায় থাকে তাকে ম্যাগমা বলে।

সব আগ্নেয়গিরি মহাদেশ ও সমুদ্রসীমানা বরাবর অবস্থিত। এই সীমানাকে আগ্নেয় মেখলা বলে।

আগ্নেয়গিরির উৎক্ষিপ্ত পদার্থে হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, হাইড্রোক্লরিক এসিড, জলীয়বাষ্প ইত্যাদি গ্যাস থাকে। সবচেয়ে বেশি জলীয়বাষ্প থাকে। স্ট্রম্বোলি আগ্নেয়গিরিকে ভূমধ্যসাগরের আলোকস্তম্ভ বলা হয়। আগ্নেয়গিরি ৩ ধরনের হয়ে থাকে। যেমন:

 

  1. জীবন্ত বা সক্রিয় আগ্নেয়গিরি: যে আগ্নেয়গিরি থেকে মাঝে মাঝে বা সবসময় অগ্ন্যুৎপাত হয় তাকে জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলে। এটি আবার২ ধরনের। যথা:

ক. অবিরাম আগ্নেয়গিরি: যে আগ্নেয়গিরি থেকে সবসময়অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।যেমন: লাসেনপিক (যুক্তরাষ্ট্র, ক্যালিফোর্নিয়া)

খ. সবিরাম আগ্নেয়গিরি:যে আগ্নেয়গিরি থেকে মাঝে মাঝেঅগ্ন্যুৎপাত ঘটে। যেমন:ভিসুভিয়াস (ইতালি)।

 

  1. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি: যে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বহুদিন যাবৎ বন্ধ আছে, তবে যে কোনো সময় অগ্ন্যুৎপাত ঘটতে পারে। যেমন: ফুজিয়ামা (জাপান)। কোহি সুলতান (ইরান), হেকলা (আইসল্যান্ড)

 

  1. মৃতআগ্নেয়গিরি: যে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বহুদিন যাবৎ বন্ধ আছে এবং ভবিষ্যতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটার সম্ভাবনা নেই। যেমন: কোহিসুলতান (ইরান), হ্যাকলা (আইসল্যান্ড)।

 

√ আগ্নেয়গিরির ফলে ৪ ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়। যথা:

ক. আগ্নেয়দ্বীপ (যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ)

খ. আগ্নেয় হ্রদ (যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার মাউন্ট আতাকমা হ্রদ)

গ. আগ্নেয় সমভূমি (উত্তর আমেরিকার স্লেক নদীর লাভা সমভূমি)

ঘ. আগ্নেয় মালভূমি (ভারতের দাক্ষিণাত্যের কৃষ্ণমৃত্তিকাময় মালভূমি)

 

  • ধীর পরিবর্তন: বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে বিশাল এলাকা জুড়ে ধীরে ধীরে যে পরিবর্তন সংঘটিত হয় তাকে ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তনবলে। মূলত এই ধীর পরিবর্তনের কারণে ভূপৃষ্ঠে ক্ষয়জাত ও সঞ্চয়জাত পরিবর্তন ঘটে। নিম্নে ধীর পরিবর্তনের কারণগুলো বর্ণিত হলো:

√ বায়ুপ্রবাহ:বাতাসের কারণে তথা বায়ুপ্রবাহে ভূমিক্ষয় হয়।

 

√ বৃষ্টিপাত: বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি অঞ্চলের বেশি ভূমিক্ষয় ঘটে।

 

√ হিমবাহ: এটি এক প্রকার চলন্ত বরফের স্তুপ। একে বরফের নদী বলে। এর ফলে ভূমিক্ষয় ঘটে। ভারতের কারাকোরাম পর্বতের ‘গ্লেট বালটোরা’ সবচেয়ে বড় হিমাবাহ। এর দৈর্ঘ্য ৫৮ কিলোমিটার।

 

√ নদীর কারণে সৃষ্ট পরিবর্তন: নদী প্রবাহের কারণে প্রকৃতিতে মূলত দুই ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়। যেমন:

১) ক্ষয়জাত

২) সঞ্চয়জাত

১) নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ: নদীর গতি ও পানিপ্রবাহের কারণে এ ধরনের ভূমিক্ষয় ঘটে। নদীর গতিপথ ৩ ধরনের। যথা:

  • ক. ঊর্ধ্বগতি: পর্বতের যে স্থান থেকে নদীর উৎপত্তি হয়েছে সেখান থেকে সমভূমিতে পৌঁছানো পর্যন্ত অংশকে নদীর ঊর্ধ্বগতি বলে। এ ঊর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ার কারণে নদী বড় বড় শিলাখণ্ড বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। এর ফলে নিম্নক্ষয় বেশি হয় এবং ‘V’ আকৃতির উপত্যকা তৈরি হয়।
  • খ. মধ্যগতি: পার্বত্য অঞ্চল পার হয়ে নদী যখন সমভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন এর প্রবাহকে মধ্যগতি বলে। এর ফলে পার্শ্বক্ষয় বেশি হয় এবং ‘U’ আকৃতির উপত্যকা তৈরি হয়।
  • গ. নিম্নগতি:নদীর জীবনচক্রের শেষ পর্যায় হলো নিম্নগতি। এ অবস্থায় স্রোত একেবারে কমে যায়। এর ফলে নিম্নক্ষয়বন্ধ হয় ও পার্শ্বক্ষয় অল্প পরিমাণে হয়। নদীর উপত্যকা খুব চওড়া ও অগভীর হয়। স্রোতের বেগ কমে যাওয়ায় পানিবাহিত বালুকণা, কাদা প্রর্ভতি নদীগর্ভে ও মোহনায় সঞ্চিত হয়।
  • গিরিখাত ও ক্যানিয়ন: ঊর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর প্রবল স্রোত খাড়া পর্বতগাত্র বেয়ে নিচে প্রবাহিত হওয়ার সময় দুই পর্বতের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ যে নদীপথ তৈরি হয় তাকে গিরিখাত (Gorge) বলে। সিন্ধু নদীর গিরিখাত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ গিরিখাত। গভীর ও দীর্ঘতম গিরিখাতকে ক্যানিয়ন (Canyon) বলে। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো নদীর গ্রান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীর গিরিখাত।
  • জলপ্রপাত: ঊর্ধ্বগতি অবস্থায় কঠিন ও নরম শিলার উপর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহের সময় নরম শিলা ক্ষয়ে ভূগর্ভস্থ গর্তের সৃষ্টি হয় এবং সেখানে উঁচু ও কঠিন শিলাস্তর থেকে খাড়াভাবে পানির পতনকে জলপ্রপাত (Waterfall) বলে। উত্তর আমেরিকার সেন্ট লরেন্স নদীরনায়াগ্রা জলপ্রপাত পৃথিবীর বৃহত্তম জলপ্রপাত।

 

     ২) নদীর সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ: নদীর গতি ও পানিপ্রবাহের কারণে এ ধরনের ভূমিসঞ্চয় ঘটে। যেমন:

  • পলল কোণ ও পলল পাখা: পার্বত্য অঞ্চল থেকে হঠাৎ কোনো নদী যখন সমভূমিতে পতিত হয় তখন শিলাচূর্ণ, পলিমাটি প্রভৃতি পাহাড়ের পাদদেশে সমভূমিতে সঞ্চিত হয়ে ত্রিকোণ ও হাতপাখার ন্যায় ভূখণ্ডের সৃষ্টি হয়। এরূপ ভূমিকে পলল কোণ ও পলল পাখা বলে। হিমালয়ের পাদদেশে গঙ্গার বিভিন্ন উপনদীর গতিপথে এরূপ ভূখণ্ড দেখতে পাওয়া যায়।
  • পাদদেশীয় পলল সমভূমি: অনেক সময় পাহাড়ি নদী পাদদেশে পলি সঞ্চয় করতে করতে একটা বিশাল সমভূমি গড়ে তোলে, এরূপ ভূমিকে পাদদেশীয় পলন সমভূমি বলে। বাংলাদেশের তিস্তা, আত্রাই, করতোয়া নদী সংলগ্ন রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থানে পলল সমভূমি দেখতে পাওয়া যায়।
  • প্লাবন সমভূমি: প্লাবন বা বন্যার শেষে নদীর দুপাশের ভূমিতে খুব পুরু স্তরের কাদা ও পলি জমতে জমতে যে বিস্তৃত ভূখণ্ডের সৃষ্টি হয় তাকে প্লাবন সমভূমি বলে। বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র জেলাই পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা প্রভৃতি নদীবিধৌত প্লাবন সমভূমি। এ ধরণের সমভূমিতে অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ, বালুচর ও প্রাকৃতিক বাধ প্রর্ভতি সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ দেখা যায়।
  • বদ্বীপ সমভূমি:মোহনার কাছাকাছি নদীর স্রোতের বেগ কমে গেলে নদীরতলদেশে বালু ও কাদা সঞ্চিত হয়। ঐ সমস্ত বালু ও কাদা নদীর মুখে জমে নদীমুখ প্রায় বন্ধ হয়ে ধীরে ধীরে এর স্তর সাগরের পানির উচ্চতার উপরে উঠে যায়। তখন নদী বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে সাগরে পতিত হওয়ার সময় ত্রিকোণাকার এক নতুন সমতলভূমি তৈরি হয়। এটা বাংলা ‘ব’ বর্ণের মতো দেখায় বলে একে ব-দ্বীপ সমভূমি বলে। এই ভূমি গ্রিক বর্ণ ডেলটা’র মতো দেখতে তাই এর ইংরেজি নাম Delta হয়েছে। হুগলী থেকে পূর্ব দিকে মেঘনার সীমানা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলা দেশের সমস্ত দক্ষিণাংশ গঙ্গা ও পদ্মা নদীর বিখ্যাত ব-দ্বীপ অঞ্চল।

 

→ ব্যারিয়ার রীফ:এটি উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘ ও সরু পলিস্তরযুক্ত প্রবালদ্বীপ, যা মূল ভূখন্ড থেকে জলাভূমি দ্বারা বিচ্ছিন্ন ওনিমজ্জিত থাকে, একেব্যারিয়ার রীফ বলে।

→ বালিয়াড়ি ও বারখান:বাতাসের সাথে বালুকণা প্রবাহিত হয়ে যে বালুর ঢিবি সৃষ্টি হয় তাকে বালিয়াড়ি বলে। এর আকৃতি অর্ধচন্দ্রাকৃতির ন্যায় বাঁকা হলে তাকে বারখান বলে।

→ প্রস্রবণ বা ঝরনা: ভূ-অভ্যন্তরে সঞ্চিত পানি ভূপৃষ্ঠের কোনো ছিদ্র দিয়ে নির্গত হলে তাকে প্রস্রবণ বা ঝরনা বলে।

 

ধীর ও আকস্মিক পরিবর্তন:

ভূ-আলোড়ন: এর ফলে ভূপৃষ্ঠে ধীর ও আকস্মিক উভয় পরিবর্তন ঘটে। এটি মূলত তাপ ও চাপের কারণে ভূগর্ভস্থ পরিবর্তন। ভূ-অভ্যন্তরীণ অথবা বাহ্যিক প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক অথবা ধীর পরিবর্তনকে ভূগাঠনিক ঝামেলা বা ভূ-আলোড়ন বলে।

 


নমুনা প্রশ্ন


১. বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তর কোনটি?

ক) ট্রপোমণ্ডল

খ) থর্মোমণ্ডল

গ) সমমণ্ডল

ঘ) এক্সোমণ্ডল

উত্তরঃ ঘ


২. ওজোন গ্যাস বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে বিদ্যমান?

ক) ট্রপোমণ্ডল

খ) স্ট্রাটোমণ্ডল

গ) মেসোমণ্ডল

ঘ) তাপমণ্ডল

উত্তরঃ খ


৩. হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য আছে বায়ুমণ্ডল কোন স্তরে?

ক) ম্যাগনিটোমণ্ডল

খ) থার্মোমণ্ডল

গ) আয়নমণ্ডল

ঘ) মেসোমণ্ডল

উত্তরঃ ক


৪. ওজোনস্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে কত মাইল উপরে?

ক) ৫০ মাইল

খ) ৬৫ মাইল

গ) ৮০ মাইল

ঘ) ১৬ মাইল

উত্তরঃ খ


৫. বায়ুর যে উপাদান জীবন ধারণের জন্যে অতি প্রয়োজনীয় –  

ক) অক্সিজেন

খ) ওজোন

গ) জলীয় বাষ্প

ঘ) নাইট্রোজেন

উত্তরঃ ক


৬. বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের উপাদান কত?

ক) ০.৮০%

খ) ০.৪১%

গ) ০.০৩%

ঘ) ২০.৭১%

উত্তরঃ খ


৭. আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক নয় কোনটি?

ক) পর্বতের অবস্থান

খ) বায়ুপ্রবাহ

গ) সমুদ্রস্রোত

ঘ) বারিপাত

উত্তরঃ ঘ


৮. সমুদ্র নিকটবর্তী এলাকার জলবায়ুকে বলে – 

ক) মহাদেশীয় জলবায়ু

খ) সমভাবাপন্ন জলবায়ু

গ) চরমভাবাপন্ন জলবায়ু

ঘ) মেরুদেশীয় জলবায়ু

উত্তরঃ খ


৯. পৃথিবী তাপ হারিয়ে শীতল হয় কোন প্রক্রিয়ায়?

ক) পরিবহন

খ) বিকিরণ

গ) পরিচলন

ঘ) পরিক্রমন

উত্তরঃ খ


১০. পৃথিবীতে কতটি চাপবলয় আছে?

ক) সাতটি

খ) পাঁচটি

গ) চারটি

ঘ) দুইটি

উত্তরঃ ক


১১. বায়ুর চাপ সম্পর্কে কোন তথ্যটি অসত্য?

ক) তাপ কমলে বায়ুর চাপ কমে

খ) তাপ কমলে বায়ুর চাপ বাড়ে

গ) বায়ু আর্দ্র হলে বায়ুর চাপ কমে

ঘ) শুষ্ক ও ঠাণ্ডা হলে বায়ুর চাপ বাড়ে

উত্তরঃ ক


১২. বায়ুর চাপ কমে গেলে বায়ুপ্রবাহ – 

ক) স্বাভাবিক থাকে

খ) বেড়ে যায়

গ) কমে যায়

ঘ) বন্ধ হয়ে যায়

উত্তরঃ খ


১৩. স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি বর্গইঞ্চিতে মানুষের উপর বায়ুর চাপ – 

ক) ১০ নিউটন

খ) ১৫ পাউন্ড

গ) ৭৬ সেন্টিমিটার

ঘ) ১০ মিটার

উত্তরঃ খ


১৪. বায়ুর আর্দ্রতা বলতে বায়ুতে কীসের উপস্থিতিকে বুঝায়?

ক) তাপমাত্রা

খ) গ্যাসীয় পদার্থ

গ) জলীয় বাষ্প

ঘ) ধূলিকণা

উত্তরঃ গ


১৫. শীতকালে ভেজা কাপড় তাড়াতাড়ি শুকায়, কারণ – 

ক) বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকে

খ) বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে

গ) বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে

ঘ) বাতাসে তাপমাত্রা কম থাকে

উত্তরঃ গ


১৬. কোনটি ব্যতিক্রম?

ক) কুয়াশা

খ) শিশির

গ) তুষার

ঘ) বৃষ্টি

উত্তরঃ ঘ


১৭. জমাট হিমকণাকে কী বলে?

ক) শিশির

খ) তুহিন

গ) কুজ্ঝটিকা

ঘ) তুষার

উত্তরঃ খ


১৮. গ্রীষ্মকালে মৌসুমী বায়ু কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয়?

ক) দক্ষিণ-পশ্চিম

খ) উত্তর-পূর্ব

গ) পূর্ব-পশ্চিম

ঘ) উত্তর-দক্ষিণ

উত্তরঃ ক


১৯. আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়কে বলে –  

ক) সাইক্লোন

খ) টাইফুন

গ) হারিকেন

ঘ) টর্নেডো

উত্তরঃ গ


২০. সকল প্রকার বারিপাত কীসের উপর নির্ভরশীল?

ক) সমুদ্রস্রোত

খ) জলীয় বাষ্প

গ) পানিপ্রবাহ

ঘ) সূর্য

উত্তরঃ খ


২১. ‘গর্জনশীল চল্লিশা’ কোন বায়ুর অন্তর্ভূক্ত?

ক) অয়ন বায়ু

খ) মেরু বায়ু

গ) প্রত্যয়ন বায়ু

ঘ) মৌসুমী বায়ু

উত্তরঃ গ


২২. শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় – 

ক) মহাদেশীয় বায়ু

খ) মৌসুমী বায়ু

গ) অনিয়মিত বায়ু

ঘ) স্থানীয় বায়ু

উত্তরঃ ক


২৩. ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয় বায়ুর নাম কী?

ক) সাইমুম

খ) চিনুক

গ) খামসিন

ঘ) লু

উত্তরঃ ঘ


২৪. জলীয় বাষ্পের প্রধান উৎস কোনটি?

ক) বায়ুমণ্ডল

খ) সূর্য

গ) সমুদ্র

ঘ) মেঘ

উত্তরঃ গ


২৫. বায়ু সে উষ্ণতায় ঘনীভূত হয় তাকে কী বলে?

ক) ঘনীভবন

খ) শিশিরাঙ্ক

গ) বাষ্পীভবন

ঘ) ঊর্ধ্বপাতন

উত্তরঃ খ


২৬. মহাদেশীয় ভূত্বকের প্রধান উপাদান কী কী?

ক) সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম

খ) সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম

গ) আয়রন ও নিকেল

ঘ) সিলিকন ও পটাশিয়াম

উত্তরঃ খ


২৭. পৃথিবীতে যে মৌলিক পদার্থ বেশি বিদ্যমান – 

ক) নাইট্রোজেন

খ) সিলিকা

গ) অ্যালুমিনিয়াম

ঘ) অক্সিজেন

উত্তরঃ ঘ


২৮. কোন শিলার মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়?

ক) আগ্নেয় শিলা

খ) পাললিক শিলা

গ) রূপান্তরিত শিলা

ঘ) অস্তরীভূত শিলা

উত্তরঃ খ


২৯. সবচেয়ে নরম খনিজ পদার্থ কোনটি?

ক) হীরা

খ) বোরজেন

গ) টেলক

ঘ) গন্ধক

উত্তরঃ গ


৩০. ‘গ্রাফাইট’ তৈরি হয় – 

ক) চুনাপাথর থেকে

খ) কয়লা থেকে

গ) গ্রানাইট থেকে

ঘ) কোয়ার্টজ থেকে

উত্তরঃ খ


৩১. কোনটি ল্যাকোলিথ পর্বত?

ক) লবণ (পাকিস্তান)

খ) হেনরি (যুক্তরাষ্ট্র)

গ) কিলিমাঞ্জারো (আফ্রিকা)

ঘ) ফুজিয়ামা (জাপান)

উত্তরঃ খ


৩২. কানাডার প্রেইরি অঞ্চল কোন সমভূমির অন্তর্ভূক্ত?

ক) ক্ষয়জাত সমভূমি

খ) প্লাবন সমভূমি

গ) হিমবাহ সমভূমি

ঘ) উপকূলীয় সমভূমি

উত্তরঃ গ


৩৩. আগ্নেয়গিরির উদগরিত পদার্থকে কী বলে?

ক) ম্যাগমা

খ) লাভা

গ) অগ্ন্যুৎপাত

ঘ) ক্যালডেরা

উত্তরঃ খ


৩৪. কোন আগ্নেয়গিরিকে ভূমধ্যসাগরের আলোকস্তম্ভ বলা হয়?

ক) ভিসুভিয়াস

খ) লাসেনপিক

গ) স্ট্রম্বোলি

ঘ) কোটোপ্যাক্সি

উত্তরঃ গ


৩৫. যে প্রক্রিয়া ভূপৃষ্ঠে ধীর ও আকস্মিক উভয় পরিবর্তন আনে তাকে বলে – 

ক) অগ্ন্যুৎপাত

খ) ভূমিকম্প

গ) ভূ-আলোড়ন

ঘ) নগ্নীভবন

উত্তরঃ গ


গ্রন্থপঞ্জি


১. রওশন আরা বেগম, আব্দুল হাই শিকদার প্রমুখ, ‘মাধ্যমিক সামাজিক বিজ্ঞান’ (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, মার্চ ১৯৯৬)

২. মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী, শওকত আরা বেগম প্রমুখ ‘বাংলাদেশে ও বিশ্বপরিচয়’ (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, অক্টোবর ২০১৩)

৩. সেলিনা শাহজাহান, ড. শেখ মো. রেজাউল করিম প্রমুখ,‘ভূগোল ও পরিবেশ’(জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, অক্টোবর ২০১২)

৪. কে. আশরাফুল আলম, ‘বৈশ্বিক পরিবেশের প্রাকৃতিক ভূগোল (পারফেক্ট পাবলিকেশন্স, ঢাকা, ২০১৪)

৫. রফিক আহমেদ, ‘আবহাওয়া ও জলবায়ুবিজ্ঞান’ (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৯৭)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *