BCS Geography Lecture – 03

বারিমণ্ডল, দুর্যোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ, নমুনা প্রশ্ন

 


বারিমণ্ডল


পৃথিবীর পৃষ্ঠে ভূত্বকের নিচু অংশগুলো জলে পরিপূর্ণ আছে এগুলোকে বারিমণ্ডল(Hydrosphere) বলে। পৃথিবীতে জলভাগের সীমানা৭০.৮% এবং স্থলভাগের সীমানা ২৯.২%। পৃথিবীতে পানি দুই রকম। যথা:

    • লবণাক্ত পানি: এর উৎস সমুদ্র ও হ্রদ (৯৭%)
    • মিঠাপানি: এর উৎস নদ-নদী, পুকুর, খাল-বিল ইত্যাদি (৩%)

  • বারিমণ্ডল নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে। যেমন:
    1. নদ-নদী, সাগর, মহাসাগর, উপসাগর, হ্রদ, হাওড়-বাওড়, বিল-ঝিল
    2. সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ
    3. সমুদ্রস্রোত
    4. জোয়ার-ভাটা

 মহাসাগর:উন্মুখ বিস্তীর্ণ জলরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। পৃথিবীতে ৫টি মহাসাগর আছে। যথা:

    • প্রশান্ত মহাসাগর: এটি সবচেয়ে বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর।এর গভীরতম স্থানফিলিপাইনের নিকট মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (গভীরতা ১১৩৩ মিটার) ।
    • আটলান্টিক মহাসাগর: দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
    • ভারত মহাসাগর
    • আর্কটিক মহাসাগর/উত্তর মহাসাগর
    • এন্টার্কটিক মহাসাগর/দক্ষিণ মহাসাগর: সবচেয়ে ছোট মহাসাগর।

 

সাগর: মহাসাগরের চেয়ে আয়তনে ছোট পানিরাশিকে সাগর (Sea) বলে।স্রোতহীন যে পানিতে ভাসমান আগাছা ও শৈবাল সঞ্চিত হয় তাকে শৈবাল সাগর বলে। এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।

  • বৃহত্তম সাগর: দক্ষিণ চীন সাগর
  • ক্ষুদ্রতম সাগর: বাল্টিক সাগর
  • ব্যস্ততম সাগর: ভূমধ্যসাগর

উপসাগর: তিন দিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত জলরাশিকে উপসাগর (Bay) বলে। প্রায় চারদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত জলরাশিকে (Gulf) উপসাগর বলে। সবচেয়ে বড় উপসাগর মেক্সিকো উপসাগর। বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal) একটি উপসাগর। এর গভীরতম খাদের নাম ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ (গভীরতা ১১৩০মিটার) ।


হ্রদ: চারদিকে সম্পূর্ণভাবে স্থল দ্বারা বেষ্টিত জলরাশিকে হ্রদ (Lake) বলে। এটি লবণাক্ত ও মিঠাপানি উভয়ই হতে পারে। পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ কাস্পিয়ান সাগর (মধ্য এশিয়া) এবং মিঠাপানির হ্রদ সুপিরিয়র (যুক্তরাষ্ট্র)। ইসরাঈল ও জর্ডানের মাঝখানে অবস্থিত একটি হ্রদের নাম মৃত সাগর(Dead Sea) । এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে ৩৯৩ মিটার নিচে অবস্থিত। অতিরিক্ত লবণাক্ততার ফলে এ সাগরে মানুষ ডোবে না।


হাওড় ও বাওড়:হাওড় হলো বিশাল গামলা আকৃতির জলাশয়। যেখানে অনেক পানি জমে। যা ভূআলোড়নের ফলে সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওড়: হাকালুকি হাওড় (মৌলভীবাজার)। অন্যদিকে, বাওড় হলো পুরাতন নদীর গতিপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্ট জলাশয়।


বিল ও ঝিল:পুরতান নদীর গতিপথের ধার ঘেঁষে বিল সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল: চলনবিল (পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ) ।ঝিল হলো নদীর পরিত্যক্ত খাত বা বিল অপেক্ষা গভীর জলাশয়। সাধারণত ঝিলকে অশ্বখুরাকৃতির হ্রদ হিসেবে নির্দেশ করা হয়।


নদ ও নদী:নদ ও নদী সাধারণত মিষ্টি জলের একটি প্রাকৃতিক জলধারা যা ঝরনাধারা, বরফগলিত স্রোত অথবা প্রাকৃতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্ট হয়ে প্রবাহ শেষে সাগরমহাসাগরহ্রদ বা অন্য কোনো নদী বা জলাশয়ে পতিত হয়।

  • নদ ও নদীর পার্থক্য: প্রচলিত তথ্য মতে, নদীর শাখা থাকে, নদের শাখা থাকে না।প্রকৃতপক্ষে নদ ও নদীর সঙ্গে শাখা থাকা না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই। এই দুয়ের মাঝে যা পার্থক্য আছে তা হলো ব্যাকরণগত।বাংলা, হিন্দি ও ফারসি ইত্যাদি ভাষার ক্ষেত্রে, পুরুষবাচক শব্দ সাধারণত অ-কারান্ত এবং নারীবাচক শব্দ আ-কারান্ত বা ই, ঈ-কারান্ত হয়। যেমন; পদ্মজ (অ-কারান্ত), পদ্মজা (আ-কারান্ত, নামের শেষে আ আছে), রজক (অ-কারান্ত) -রজকী (ঈ-কারান্ত, নামের শেষে ঈ আছে)।

তাই যে সকল নদীর নাম পুরুষবাচক অর্থাৎ অ-কারান্ত তারা নদ আর যে সকল নদীর নাম নারীবাচক অর্থাৎ আ-কারান্ত বা ঈ, ই-কারান্ত তারা নদী। যেমন: নীল নদ, কপোতাক্ষ নদ, আমাজন নদ ইত্যাদি। পদ্মা নদী, আড়িয়াল খাঁ নদী, সুরমা নদী, গোমতী নদী ইত্যাদি।

  • প্রধান নদী: এটি প্রাকৃতিক উৎস থেকে সৃষ্টি অর্থাৎ অন্য কোনো নদী থেকে সৃষ্ট হয়নি।
  • উপনদী: কোনো ক্ষুদ্র জলধারা, পর্বত বা হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রধান নদীর সাথে মিলিত হলে তাকে উপনদী বলে।
  • শাখানদী: কোনো বৃহৎ নদী থেকে কোনো জলধারা বের হয়ে অন্য কোনো সাগর বা হ্রদে পতিত হলে তাকে শাখা নদী বলে।
  • আন্তঃসীমান্ত নদী/অভিন্ন নদী: যে নদী এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করে তাকে আন্তঃসীমান্ত নদী/অভিন্ন নদী বলে।
  • উপত্যকা: যে খাদ বা নদীপথ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় সেই খাদকে উক্ত নদীর উপত্যকা বলে।
  • নদীগর্ভ: উপত্যকার তলদেশকে নদীগর্ভ বলে।
  • মোহনা: নদী যখন কোনো সাগর বা হ্রদে এসে মিলিত হয়, ঐ মিলিত হওয়ার স্থানকে মোহনা বলে।
  • নদীসঙ্গম: একাধিক নদীর মিলনস্থলকে নদীসঙ্গম বলে।
  • খাঁড়ি: নদীর অধিকবিস্তৃত মোহনাকে খাঁড়ি বলে।
  • অববাহিকা: নদীর উৎপত্তি স্থান থেকে যে বিস্তৃত অঞ্চল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে প্রবাহিত হয় সে অঞ্চলকে অববাহিকা (Basin) বলে।
  • দোয়াব: দুই নদীর মধ্যবর্তী উর্বর শস্যাঞ্চলকে দোয়াব বলে।

2.সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ: সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপকে ৫ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

  • মহীসোপান (Continental Shelf): মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশের নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে।এটি হালকা খাঁড়া ও অধিক প্রশস্ত হয়। মহীসোপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ২০০ মিটার। ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত। ১৯৮২ সালে সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেনশন অনুযায়ী উপকূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপানের সীমা হবে ভিত্তিরেখা হতে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল। মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে উপকূলীয় ঢাল(Coastal Slop) বলে।

 

  • মহীঢাল (Continental Slop): মহীসোপানের শেষসীমা থেকে ভূভাগ হঠাৎ খাঁড়াভাবে নেমে সমুদ্রের গভীর তলদেশের সঙ্গে মিশে যায়। এ ঢালু অংশকে মহীঢাল বলে। এটি একদম খাঁড়া ও কম প্রশস্ত হয়। মহীঢালের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ২০০ মিটার থেকে ৩,০০০ মিটার।

 

  • গভীর সমুদ্রের সমভূমি (Oceanic Plain): মহীঢাল শেষ হওয়ার পর থেকে সমুদ্র তলদেশে যে বিস্তৃত সমভূমি দেখা যায় তাকে গভীর সমুদ্রের সমভূমি বলে। এর গভীরতা ৫,০০০ মিটার। এ অঞ্চলটি সমভূমি নামে খ্যাত হলেও প্রকৃতপক্ষে তা বন্ধুর।

 

  • নিমজ্জিত শৈলশিলা (Oceanic Ridge): সমুদ্রতলদেশ থেকে আগ্নেয়গিরির লাভা উদগিরণের ফলে সমুদ্রগর্ভে শৈলশিরার ন্যায় ভূমিরূপ গঠিতহয়েছে। এগুলো নিমজ্জিত শৈলশিরা নামে পরিচিত। এর মধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরের শৈলশিরা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।

 

  • গভীর সমুদ্রখাত (Oceanic Trench):গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলে মাঝে মাঝে গভীর খাত দেখা যায়। এ সকল খাতকে গভীর সমুদ্রখাত বলে। এগুলো অধিক প্রশস্ত না হলেও খাঁড়া ঢালবিশিষ্ট। এর গভীরতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫,৪০০ মিটারের অধিক। প্রশান্ত মহাসাগরে এসব খাতের সংখ্যা বেশি। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘মারিয়ানা ট্রেঞ্চ’ পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত। আটলান্টিক মহাসাগরের ‘পোর্টোরিকো’ দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র খাত।

  1. সমুদ্রস্রোত: বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগে স্রোত তৈরি করে নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলে যায়। সমুদ্রস্রোত মূলতউষ্ণতার তারতম্য ও বায়ুপ্রবাহের কারণে হয়।বিভিন্ন কারণে সমুদ্রস্রোত হয়। যেমন:

→উষ্ণতার তারতম্য

→ বায়ুপ্রবাহ

→ লবণাক্ততার তারতম্য

→ বাষ্পীভবনের তারতম্য

→ গভীরতার তারতম্য

→ পৃথিবীর আবর্তন

→ স্থলভাগের অবস্থান

→ আহ্নিক গতি

→ মেরু অঞ্চলের বরফগলন।

সমুদ্রস্রোত প্রধাণত ২ প্রকার। যথা:

ক. উষ্ণস্রোত: নিরক্ষীয় বা বিষুবীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা বেশি হওয়ার কারণে পানি উষ্ণ ও হালকা হয়। ফলে, এখানে উষ্ণস্রোত দেখা যায়।

খ. শীতলস্রোত: মেরু অঞ্চলের তাপমাত্রা কম হওয়ার কারণে পানি শীতল ও ভারী হয়। ফলে, এখানে শীতলস্রোত দেখা যায়। শীতল স্রোতের গতিপথে জাহাজ চালানো বিপজ্জনক। কারণ এখানে বড় বড় হিমপ্রাচীর থাকে। মূলত, উষ্ণস্রোত ও শীতলস্রোতের মিলনস্থলে কুয়াশা ও ঝড় হয়। উল্লেখ্য, আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব-অক্ষাংশ বলে।


  1. জোয়ার-ভাটা

পৃথিবীর উপর চন্দ্রের আকর্ষণ ও মহাকর্ষ শক্তি জোয়ার-ভাটার (High Tide&Low Tide)মূল কারণ। দূরত্বের কারণে সূর্যের চেয়ে জোয়ার-ভাটার উপর চাঁদের আকর্ষণ বেশি হয়।সূর্য অপেক্ষা চন্দ্রের আকর্ষণ পৃথিবীর উপর দ্বিগুণ।উপকূলের কোনো স্থানে পরপর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান ১২ ঘন্টা। জোয়ার সৃষ্টির ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটার সৃষ্টি হয়। জোয়ার-ভাটার কারণ ২টি। যথা:

ক. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব

খ. পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি।

 

  • জোয়ার-ভাটা প্রধাণত ৪ প্রকার। যথা:

(ক) মুখ্য জোয়ার: পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের নিকটবর্তী হয় সে অংশে চাঁদের আকর্ষণে পানি ফুলে উঠে। একে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে।

 

(খ) গৌণ জোয়ার: চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয়তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।

 

(গ) তেজকটাল/ভরাকটাল: পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একপাশে একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এদের মিলিত আকর্ষণে যে জোয়ার হয় তাকে তেজকটাল বা ভরাকটাল বলে।

 

(ঘ) মরাকটাল: অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য একই সমকোণে অবস্থান করে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। চন্দ্রের আকর্ষণেযে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে তা কমে যায়। এ সময় জোয়ারের বেগ প্রবল হয় না। এই জোয়ারকে মরাকটাল বলে। প্রতি মাসে ২ বার ভরাকটাল ও মরাকটাল হয়।

 


দুর্যোগ


জীবন, সমাজ ও পরিবেশে সৃষ্ট অস্বাভাবিক অবস্থা যা মানুষের ক্ষতি সাধন করে তাকে দুর্যোগ(Disaster) বলে।এর ফলে বাহ্যিক ক্ষতিসাধন, জীবনহানি কিংবা পরিবেশগত ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়।দুর্যোগ প্রধানত ২ প্রকার। যথা:প্রাকৃতিক দুর্যোগ ওমানবসৃষ্ট দুর্যোগ।

 

  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ ৩ ভাবে সৃষ্টি হতে পারে। যথা:

(ক) বায়ুমণ্ডলীয় সৃষ্ট দুর্যোগ: বায়ুমণ্ডল তথা পৃথিবী থেকে উপরিভাগের আবহাওয়াজনিত পরিবর্তনের কারণে নিম্নোক্ত দুর্যোগসমূহ সৃষ্টি হয়। যেমন:

  • ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): Cyclone শব্দটি গ্রিক শব্দ। এর অর্থ কুণ্ডলী পাকানো সর্প। ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় (Tropical Cyclone). পৃথিবীর ৩০ উত্তর ও ৩০ দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়কে আমেরিকায় ‘হারিকেন’; দূরপ্রাচ্যে ‘টাইফুন’ এবং উপমহাদেশে ‘সাইক্লোন’ বলে। ঘূর্ণিঝড়ে সবসময় বাতাসের গতিবেগ থাকে ঘন্টায় ১১৮ কি.মি. এর বেশি।ঘূর্ণিঝড় নিম্নচাপ থেকে সৃষ্টি হয়ে শক্তিশালী নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। এর ফলে প্রবল বাতাস, ভারীবর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়।

 

  • জলোচ্ছ্বাস (Tidal Bore): ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল ঝড়ো বাতাস সমুদ্রপৃষ্ঠে আকস্মিক তরঙ্গ ও জলস্ফীতির সৃষ্টি করে যা জলোচ্ছ্বাস হিসেবে পরিচিত।এটি ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্টি হয়। জলোচ্ছ্বাস হলো ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক উপাদান। এর ফলে পানির স্বাভাবিক উচ্চতা থাকে ১৩ থেকে ১৫ মিটার।

 

  • ঝড় ও অতিবৃষ্টি (Strom& Downpour): ঝড় বায়ুমণ্ডলের একটি ভয়াবহ দুর্যোগ। এর ফলে তীব্র বাতাস সৃষ্টি, ভারী বৃষ্টিপাত, বজ্রবিদ্যুৎ উৎপন্ন এবং সমুদ্র ফুসে উঠে উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘেরসৃষ্টি করে। এই ঘনীভূত মেঘ থেকে ভারী বৃষ্টিপাত দেখা দেয়।

 

  • বজ্রঝড়ও বজ্রপাত (Thunderstorm&Thunderclap): বজ্রঝড় এক প্রকার ক্রান্তীয় ঝড়। বজ্রপাত বিদ্যুৎ চমকানো সহযোগে সংঘটিত ভারীবর্ষণ অথবা শিলাবৃষ্টি। গ্রীষ্মের উষ্ণ ও আর্দ্র দিনে উত্তপ্ত বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠতে থাকে এবং দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে গাঢ় কৃষ্ণবর্ণের বজ্রমেঘ উৎপন্ন করে। বাংলাদেশে এই ঝড়ের নাম ‘কালবৈশাখী’। কালবৈশাখী এক ধরনের বজ্রঝড়। এ ঝড়েশিলাবৃষ্টি হয়।

 

  • টর্নেডো (Tornado): Tornado শব্দটি স্প্যানিশ শব্দ। এর অর্থ ঘুরে আসা। টর্নেডো ঘূর্ণিঝড় অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী ছোট আকারের বজ্রঝড়। স্থলভাগে নিম্নচাপের ফলে এর উৎপত্তি হয়। এতে বাতাসে ঘূর্ণনের বেগ থাকে ঘন্টায় ৩০০ থেকে ৪৮০ কি.মি. পর্যন্ত।

 

  • খরা ও মহামারী (Drought & Epidemic):এটি সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ যা বিরূপ আবহাওয়ার ফলে হয়। এর ফলে প্রচণ্ড দাবদাহে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে।দীর্ঘকালীন শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতেরকারণে মূলত খরা ও মহামারী দেখা দেয়।

 

  • মরুকরণ (Desertification): শুষ্ক, শুষ্কপ্রায় এবং শুষ্ক আর্দ্রপ্রায় এলাকাতে ভূমি অবনয়নের (Land Degradation) বিস্তৃতি হলো মরুকরণ, যা মরু এলাকার বহির্মুখী প্রসারণ ঘটায়। জলবায়ুগত পার্থক্য ও মানুষের অবাধ বৃক্ষনিধন মরুকরণের অন্যতম কারণ।এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ যা খরার কারণে ঘটে থাকে।

 

  • শৈত্যপ্রবাহ (Cold Wave):শৈত্যপ্রবাহ কোনো স্থানের বায়ুর তাপমাত্রার নিম্নগামীতাকে নির্দেশ করে। বাতাসের তাপমাত্রা দ্রুততার সাথে নেমে যাওয়াকে শৈত্যপ্রবাহ বলে। এর ফলে কুয়াশার প্রকোপ বেড়ে যায় এবয় শস্য উৎপাদন ব্যাহত হয়।শীতপ্রধান অঞ্চল তথা ইউরোপে শৈত্যপ্রবাহ দেখা যায়।

 

  • হিমবাহ (Glacier): হিমবাহ হলো বরফের বিরাট চলমান স্তুপ বা নদী। সাধারণত পার্বত্য অঞ্চলে শীতকালে তুষার পড়ার হার গ্রীষ্মে গলনের হারের চেয়ে বেশি হলে পাহাড়ের উপরে তুষার জমতে শুরু করে এবং জমে শক্ত বরফে পরিণত হয়। এই বরফজমা এলাকাটিকে বরফক্ষেত্র (Icefield) বলে। যখন এই জমা বরফ নিজের ওজনের ভারে এবং মাধ্যাকর্ষণের টানে ধীরগতিতে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামতে শুরু করে, তখন তাকে হিমবাহ বলে।

(খ) ভূপৃষ্ঠের প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট দুর্যোগ:এ ধরনের দুর্যোগ স্থলভাগের আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের কারণে ঘটে থাকে। যেমন:

  • বন্যা (Flood): বন্যাপ্রচুর বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ঘটে থাকে। সাধারণত ভারী বৃষ্টিপাত, বরফ, তুষারগলা পানিঅথবা এদের মিলিত পানি নদীপ্রণালির ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেলে বন্যা সংঘটিত হয়।

 

  • নদীভাঙন (Riverbank Erosion):নদীর সমুদ্রে গিয়ে পড়ার সময় সাধারণত সমুদ্রের কাছাকাছি হলে তীব্র গতিপ্রাপ্ত হয়। তখন পানির তীব্র তোড়ে নদীর পাড় ভাঙতে থাকে। নদীর পানির স্রোতে নদীর পাড় ভাঙার এই অবস্থাকে নদীভাঙন বলে।এটি পুনঃসংঘটিত প্রাকৃতিক দূর্যোগ।

 

  • উপকূলীয় ভাঙন (Coastal Erosion):জোয়ার-ভাটা ও সামুদ্রিক তরঙ্গ ক্রিয়ার ফলে উপকূলীয় ভূমি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে উপকূলীয় ভাঙন দেখা দেয়।

 

  • মাটিক্ষয় (Soil Erosion): মাটিতে প্রবাহিত পানি, বাতাসের বেগ ও অভিকর্ষীয় টানের কারণে মাটি ক্ষয় হয়। মাটিক্ষয় মূলত পৃষ্ঠমৃত্তিকার ভৌত অপসারণ। ভূতাত্ত্বিক ক্ষয় একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা মানুষের প্রভাব ব্যতীত প্রাকৃতিক পরিবেশে ভূমির ক্ষয়সাধন করে। এটি একটি ধীর গতিসম্পন্ন ও গঠনমূলক প্রক্রিয়া।

 

  • ভূমিধস(Landslide):ভূমিধস বলতে পাহাড়-পর্বতের গা থেকে মাটির চাকা বা পাথরের খণ্ড বিরাট আকারে খসে নীচে পড়ার ঘটনাকে বোঝায়।এটি পাহাড় কর্তন, জুম চাষ ও পাহাড়ে বৃষ্টির পানি জমার ফলে ঘটে থাকে। পাহাড় কর্তন মূলত ভূমিধসের প্রধান কারণ।

 

  • লবণাক্ততা (Saltiness): লবণাক্ততা বলতে লবণ দ্বারা প্রভাবিত এক প্রকার মৃত্তিকা বা পানি বুঝায় যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত দ্রবণীয় লবণ, বিশেষ করে সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকে।বৈশ্বিক সমুদ্রের জলের গড় লবণাক্ততা প্রায় ৩.৫%। এর ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজন বেশি লবণাক্ততার শিকার হয়।

(গ) ভূ-অভ্যন্তরে সৃষ্ট দুর্যোগ:এ ধরনের দুর্যোগ পৃথিবীর অভ্যন্তরে অর্থাৎ মাটির নিচে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের কারণে ঘটে থাকে। যেমন:

  • ভূমিকম্প (Earthquake):ভূ-অভ্যন্তরে শিলায় পীড়নের জন্য যে শক্তির সঞ্চয় ঘটে, সেই শক্তির হঠাৎ মুক্তি ঘটলে ভূ-পৃষ্ঠ ক্ষণিকের জন্য কেঁপে ওঠে এবং ভূ-ত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়। এরূপ আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প বলে।পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখান থেকে ভূকম্প-তরঙ্গ উৎপন্ন হয়,তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলে। সাধারণত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৬ কি.মি. এর মধ্যে এই কেন্দ্র অবস্থান করে। তবে ৭০০ কি.মি. গভীরে গুরুমণ্ডল থেকেও ভূ-কম্পন উত্থিত হতে পারে।ভূমিকম্প পূর্বসতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়। কেন্দ্রের গভীরতার ভিত্তিতে ভূমিকম্পকে অগভীর কেন্দ্র (০ থেকে ৭০ কি.মি.), মাঝারি কেন্দ্র (৭০ থেকে ৩০০ কি.মি.) ও গভীর কেন্দ্র (৩০০ থেকে ৭০০ কি.মি.) সংজ্ঞায় অভিহিত করা হয়।

ভূমিকম্পের তরঙ্গ সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেল ভূকম্পন তীব্রতা/শক্তি পরিমাপের একটি গাণিতিক স্কেল। এ স্কেলে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত ভূমিকম্পের তীব্রতা ধরা হয়। ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী সি. এফ. রিখটার এটি আবিষ্কার করেন।১৮৯৭ সালে ভারতের শিলং মালভূমিতে ৮.৭ রিখটার স্কেল মাত্রায় সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প ঘটে। ২০১৫ সালে নেপালে ৭.৮ রিখটার স্কেল মাত্রায় ভূমিকম্প ঘটে।

ভূ-ত্বকীয়পাত (TectonicsPlate): ভূত্বকীয় পাত হলোএকটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যার দ্বারা পৃথিবীর অশ্বমণ্ডল অর্থাৎএকে অপরের দিকে চলাচল করতে সক্ষম কিছু পাতলা, অনমনীয় খণ্ডের সমন্বয়ে তৈরি ভূত্বক বা পৃথিবীর উপরিতলের বর্ণনা দেওয়া হয়। সর্বপ্রথম ১৯১২ সালে জার্মান আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব (Continental Drift) থেকেই এই ধারণাটির জন্ম হয়।

ভূত্বক গঠনের পাততত্ত্ব (Plate Tectonics) বিজ্ঞানের আধুনিকতম আবিষ্কার ও গবেষণার দৌলতে এটি বিজ্ঞানসম্মত একটি ঘটনা, যা পৃথিবীতে সংঘটিত ভূমিকম্পের জন্য দায়ী বলে ভূবিজ্ঞানীরা গ্রহণ করেছেন। বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্বটিকে ব্যবহার করে ভূমিকম্প ছাড়াও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ, পর্বত সৃষ্টি এবং মহাসাগর ও মহাদেশ সৃষ্টির ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন।

 

  • সুনামি (Tsunami):Tsunami শব্দটি জাপানি শব্দ। এর অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।সমুদ্র তলদেশে (২০-৩০ কি.মি. গভীরে) প্রচণ্ড মাত্রার ভূকম্পন, অগ্ন্যুৎপাত, টেকটনিক প্লেটের উত্থান-পতন কিংবা অন্য কোনো কারণে ভূ-আলোড়নের সৃষ্টি হলে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে যে প্রবল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তা সুনামি নামে পরিচিত। সুনামি উপকূলীয় শহর ও অন্যান্য লোকালয়ে আকস্মিক ও ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি করে।গভীর জলে সুনামি ঘন্টায় ১,০০০ কি.মি. গতির হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগর অংশে সুনামি হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক। ২০০৪ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ সুনামির গতি ছিল ঘণ্টায় ৭০০-৮০০ কি.মি.। ২০১১ সালে জাপানে ৯.০০ রিখটার স্কেল মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয় এবং এর ফলে উচ্চতর সুনামি আঘাত হানে। এর ফলে ৩টি পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হাইড্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে প্লান্টটি গরম হয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

 

  • আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত (Volcanic Eruption):ভূপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ বেশি হলে সেখানে গর্ত বা ফাটলের সৃষ্টি হয় এবং সেই ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন পদার্থ নির্গত হয় তাকে আগ্নেয়গিরি (Volcano) বলে। আগ্নেয়গিরির উদগিরিত পদার্থকে লাভা বলে। লাভার উর্ধ্বে উৎক্ষিপ্ত হওয়াকে (Eruption) অগ্ন্যুৎপাত বলে। বাংলাদেশে এই দুর্যোগ ঘটার সম্ভাবনা নেই।

 

  • আর্সেনিক দূষণ (Arsenic Polution): আর্সেনিকধূসর আভাযুক্ত সাদা রং বিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু। প্রকৃতিতে আর্সেনিক বিভিন্ন যৌগ আকারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।মানবদেহে যখন আর্সেনিকের মাত্রা অনেক বেড়ে যায় তখন সে অবস্থাকে আর্সেনিক বিষক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দীর্ঘসময় ধরে আর্সেনিকযুক্ত পানি খেলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব শরীরে দেখা যায়।আর্সেনিক দূষণ বা ভূ-গর্ভস্থ পানি দূষণ বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি মারাত্মক দুর্যোগ।আর্সেনিক বিষাক্ততার কারণে সৃষ্ট রোগাক্রান্ত অবস্থাকে আর্সেনিকোসিস (Arsenicosis) বলে।

 

  • এল নিনো ও লা নিনো: ‘এল নিনো ও লা নিনো’ শব্দ দুটি স্প্যানিশ শব্দ। এল নিনো অর্থ বালক এবং লা নিনো অর্থ বালিকা। এটি জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে সম্পৃক্ত। এল নিনোর প্রভাবে সাগরে উষ্ণ পানির স্রোত প্রবাহিত হয় এবং লা নিনোরপ্রভাবে পানির উষ্ণতা কমে আসে। লা নিনো’র কারণে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়।

 

  • মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:মানুষের অজ্ঞতা, আধিপত্য বিস্তার, পারস্পরিক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি কারণে প্রাকৃতির পরিবেশের ভারসাম্যহানি ঘটে। মানুষ তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। একে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে। মানবসৃষ্ট যে দুর্যোগ বর্তমানে সবার চিন্তা ও গবেষণার বিষয়, তা হচ্ছে গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়া।মানুষ কর্তৃক নিম্নোক্ত কাজের কারণে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ঘটে থাকে। যেমন:

→ শিল্পায়ন

→ অপরিকল্পিত নগরায়ন

→ বনাঞ্চল নিধন

→ যুদ্ধ ও রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার

→ পরিবেশ দূষণ

→ গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়া

→ অবকাঠামোগত বিপর্যয়


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management) একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান। দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য গৃহীত বিভিন্ন কৌশল বা পদেক্ষেপকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রথমে ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ করতে হবে। অর্থাৎ যে সকল এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ তা চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাকে দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি বলে।

দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে Community Level থেকে ব্যবস্থাগ্রহণ করা সবচেয়ে ফলপ্রসূ। দুর্যোগের পরপরই সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। অতীতে সাড়াদানকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো। দুর্যোগে সম্পদ ও পরিবেশের যে ক্ষতিসাধন ঘটে তা পুনর্নিমাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে।

 

  • দুর্যোগ মোকাবিলায় ৪ ‍টি পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন:
  1. দুর্যোগ পূর্বকালীন ব্যবস্থা (Preparation)
  2. দুর্যোগকালীন ব্যবস্থা (Adaption)
  3. দুর্যোগ পরবর্তী ব্যবস্থা (Mitigation)
  4. দুর্যোগের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা (Development)

 


বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ


বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বদ্বীপ ও অন্যান্য ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এ দেশে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ দুর্যোগের ঝুঁকি তুলানামূলক কম। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেঘূর্ণিঝড়,বন্যা, নদীভাঙন, ভূমিধস, আর্সেনিক দূষণ বা ভূগর্ভস্থ পানি দূষণ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

ঘূর্ণিঝড়: বাংলাদেশে প্রাক-বর্ষা মৌসুম (এপ্রিল-মে-জুন) এবং বর্ষা-পরবর্তী মৌসুম (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বর) মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। গ্রীষ্মকালে এপ্রিল-মে মাসে বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া উত্তর-পশ্চিম অভিমুখী প্রচণ্ড ঝড়ের স্থানীয় নাম ‘কালবৈশাখী’। এ ঝড় সাধারণত শেষ বিকেলে বা সন্ধ্যার পরে সংঘটিত হয়। কালবৈশাখী ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় ৪০-৬০ কি.মি.।


বাংলাদেশে ইতিহাসেঘটে যাওয়া কতিপয় ঘূর্ণিঝড় হলো:


 

  • ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ২২২ কি.মি.। জলোচ্ছ্বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১০.৬ মিটার। সরকারি হিসাব মোতাবেক এ ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের প্রাণহাণি ঘটেছিল।

  • ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়কেও প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় নামে চিহ্নিত করা হয়। এতে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এই ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী ‘অপারেশন মান্না’ নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে। এ সময় বাংলাদেশে আসা মার্কিন টাস্কফোর্সের নাম ছিল ‘অপারেশন সি-এঞ্জেল’।

  • ১৫ নভেম্বর ২০০৭ সালে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম ছিল ‘সিডর’। সিডর সিংহলি শব্দ। এর অর্থ চোখ। এতে প্রায় ছয় সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এ সময় মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত টাস্কফোর্সের নাম ছিল ‘অপারেশন সি-এঞ্জেল-২’।

  • এছাড়াও, ২০০৮ সালের নার্গিস ও রেশমি, ২০০৯ সালের বিজলি ও আইলা, ২০১৩ সালের মহাসেন, ২০১৫ সালের কোমেন, ২০১৬ সালের রোয়ানু এবং ২০১৭ সালের মোরা ঘূর্ণিঝড়সমূহ বাংলাদেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য।

বন্যা: প্রতি বছর মৌসুমী ঋতুতে বাংলাদেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূভাগ বন্যায় প্লাবিত হয়। সাধারণত মে মাস থেকেই এদেশে বন্যা শুরু হয় এবং নভেম্বর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বন্যা বাংলাদেশে একটি পুনঃপুনঃ সংঘটিত ঘটনা। ১৭৮৭ সাল থেকে ১৮৩০ সাল পর্যন্ত সংঘটিত পুনরাবৃত্ত বন্যায় ব্রহ্মপুত্র নদের পুরোনো গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যায়। বাংলাদেশের সংঘটিত বন্যাকে তিনটি শেণিতে বিভক্ত করা যায়। যেমন:

(ক) মৌসুমী বন্যা

(খ) আকস্মিক বন্যা

(গ) জোয়ারসৃষ্ট বন্যা

বাংলাদেশে ইতিহাসে ঘটে যাওয়া কতিপয় প্রলয়ংকারী বন্যার মধ্যে ১৯৭৪ সাল, ১৯৮৭ সাল, ১৯৮৮ সাল ও ১৯৯৮ সালের বন্যাউল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এ বন্যায় রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এলাকা প্লাবিত হয়।


নদীভাঙন:বাংলাদেশের পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর তীরে ব্যাপক ভাঙন সংঘটিত হয়। বন্যা মৌসুমে দেশের প্রধান নদী পাড়ের ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করে। বাংলাদেশের সর্বমোট প্লাবনভূমির প্রায় ৫% ভূমি প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের কবলে পড়ছে। এটি বাংলাদেশের একটি স্থানীয় ও পুনঃসংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।


ভূমিধস: ভূমিধস বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় একটি সাধারণ ঘটনা। বিশেষত পার্বত্য জেলা তথা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস দেখা দেয়। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উভয় কারণে ভূমিধস হয়ে থাকে। খাঁড়া পাহাড়ি ঢালে ঝুম চাষ, বৃষ্টির পানি জমা, পাহাড় কর্তন প্রভৃতি ভূমিধস সংঘটনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


আর্সেনিক দূষণ: আর্সেনিক দূষণ বা ভূগর্ভস্থ পানি দূষণবর্তমানে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক দুর্যোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান অনুযায়ী প্রতিলিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০১ মিলিগ্রাম। বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত প্রতিলিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম অর্থাৎ ০.০৫ মিলিগ্রামের বেশি আর্সেনিক থাকলে সে পানি পান করা কিংবা রান্নার কাজে ব্যবহার করা যাবে না। পার্বত্য অঞ্চল বাদে বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলার পানিতে কম-বেশি আর্সেনিক বিদ্যমান। বাংলাদেশের সবচেয়ে আর্সেনিক আক্রান্ত জেলা চাঁদপুর।

 


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক, পরিবেশগত ও মনুষ্যসৃষ্ট আপদসমূহের ক্ষেত্রে জনগণের, বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিতদের ঝুঁকি, মানবিক ও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং বড় মাপের দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম ও কার্যকর জরুরি সাড়াপ্রদান পদ্ধতি প্রস্তুত রাখা।

দুর্যোগের কারণে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসসহ দুর্যোগ উত্তরকালে জাতীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশে সরকারের মূল লক্ষ্য।

সরকারের প্রধান কার্যাবলী হলো: দুর্যোগপ্রবণ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি প্রণয়ন; গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মপরিকল্পনা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা; সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকান্ডের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা; দুর্যোগ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য ভান্ডার গড়ে তোলা ইত্যাদি।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত আইন, নীতিমালা ও প্রয়োজনীয়পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ:

  • ১৯৭১ সালে ‘বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর’ গঠিত হয়। এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

  • ১৯৭২ সালে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়’ গঠিত হয়। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল’ রয়েছে। এর প্রধান হলো প্রধানমন্ত্রী। এই কাউন্সিলের অধীনে কিছু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি রয়েছে। এইসব কমিটির প্রধান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

  • ১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র’ এ বোর্ডের আওতাধীন।

  • ১৯৮০ সালে ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগে বাংলাদেশের একমাত্র পূর্বাভাস কেন্দ্র Space Research and Remote Sensing Organisation (SPARRSO) গঠিত হয়। এর নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এটি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত। SPARRSO গত ১০০ বছরে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের জলবায়ুগত দিক পর্যালোচনা করে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ সম্পর্কে পূর্বাভাসের জন্য টাইয়ান (Tyan) নামে একটি মডেল প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে ঘূর্ণিঝড় ভূপৃষ্ঠে আঘাত হানার ২৪ ঘন্টা পূর্বে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।

  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৯৩ সালে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সংস্থার প্রধানের পদবি মহাপরিচালক।

  • ২০১২ সালে দুর্যোগ প্রতিরোধে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন’ প্রণীত হয়।

  • ১৯ জানুয়ারি ২০১৫ সালে ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ গ্রহীত হয়।

  • ঘূর্ণিঝড়ের প্রচণ্ডতাকে প্রশমনের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি এর যৌথ উদ্যোগে Cyclone Preparedness Programme (CPP) নামে একটি কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

  • ১৯৮৭ ও ১৯৮৮ সালে দেশে ভয়াবহ বন্যা সংঘটিত হওয়ার পর ১৯৮৯ সালে বহুমাত্রিক বন্যা সমীক্ষা কার্যক্রম অর্থাৎ Flood Action Plan (FAP) গ্রহণ করা হয়; যা ছিল UNDP পরিচালিত Flood Policy Study এর ধারাবাহিক একটি সমীক্ষা। বিগত ১০০ বছরের তুলনায় ১৯৮৮ সালের বন্যার মাত্রা অধিকতর হওয়ায় FAP কার্যক্রম দাতাদের ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়।

  • ১৯৫৪ সালে বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগ চট্টগ্রাম শহরে বাংলাদেশের একমাত্র ভূমিকম্প রেকর্ড কেন্দ্র বা ভূমিকম্প মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করে।

  • ১৯৮৩ সালে ‘মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি Geographical Information Systems (GIS) পদ্ধতি ব্যবহার করে পার্বত্য এলাকার ভূমিধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে। বান্দরবনে অবস্থিত ‘মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও জল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র’ এ প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন।

  • সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাসমূহ হলো: অক্সফাম, কেয়ার বাংলাদেশ, প্রশিকা, ডিজ্যাস্টার ফোরাম, বিডিপিসি (বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি কেন্দ্র) ইত্যাদি।

  • বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বেতার ও টেলিভিশনে নদীবন্দরের জন্য১ থেকে ৪ নম্বর এবং সমুদ্রবন্দরের জন্য১ থেকে ১১ নম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সংকেত প্রচার করা হয়। নিম্নে সংকেত নম্বর ও এর অর্থসমূহ উল্লেখ করা হলো:

দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত-১ : দূর সমুদ্রে প্রবাহিত বাতাস ঝড়ে পরিণত হতে পারে।


দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত-২ : দূর সমুদ্রে ঝড় উঠেছে।


স্থানীয় সতর্ক সংকেত-৩ : বন্দরে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা আছে।


স্থানীয় সতর্ক সংকেত-৪ : বন্দরে ঝড় আঘাত হানার সম্ভাবনা আছে।


বিপদ সংকেত – ৫ : ছোট বা মাঝারি ঝড়ের কারণে বন্দরে তীব্র আবহাওয়া বিরাজ করবে। এ ঝড় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরের     দক্ষিণ উপকূল এবং মংলা বন্দরের পূর্ব উপকূল দিয়ে অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।


বিপদ সংকেত – ৬ : ছোট বা মাঝারি ঝড়ের কারণে বন্দরে তীব্র আবহাওয়া বিরাজ করবে। এ ঝড় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরে     উত্তর উপকূল এবং মংলা বন্দরের পশ্চিম উপকূল দিয়ে অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।


মহাবিপদ সংকেত – ৭ : বন্দরের উপর দিয়ে ছোট বা মাঝারি গতিসম্পন্ন ঝড়ের কারণে ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করবে।


মহাবিপদ সংকেত – ৮ : বন্দরের উপর দিয়ে ছোট বা মাঝারি গতিসম্পন্ন ঝড়ের কারণে তীব্র ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করবে। এ ঝড় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরের দক্ষিণ উপকূল এবং মংলা বন্দরের পূর্ব উপকূল দিয়ে অতিক্রম করার  আশঙ্কা রয়েছে।


মহাবিপদ সংকেত – ৯ : বন্দরের উপর দিয়ে প্রবল গতিসম্পন্ন ঝড়ের কারণে তীব্র ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করবে। এ ঝড় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরের উত্তর উপকূল এবং মংলা বন্দরের পশ্চিম উপকূল দিয়ে অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।


মহাবিপদ সংকেত – ১০ : বন্দরের উপর বা নিকট দিয়ে অতিক্রমকারী তীব্র গতিসম্পন্ন ঝড়ের কারণে বন্দরে তীব্র ঝড়ো   আবহাওয়া বিরাজ করবে।


মহাবিপদ সংকেত – ১১ : আবহাওয়া সতর্ক কেন্দ্রের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এ অবস্থায় প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে                                         উদ্যত।


নমুনা প্রশ্ন


১. বঙ্গোপসাগরের গভীরতম স্থান ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে’র গভীরতা কত – 

ক) ১১,০৩৩ মিটার

খ) ১০,০৩৩ মিটার

গ) ৮,৮৫০ মিটার

ঘ) ১১,০৩০ মিটার

উত্তরঃ ঘ


২. সবচেয়ে ব্যস্ততম সাগর কোনটি?

ক) বাল্টিক সাগর

খ) দক্ষিণ চীন সাগর

গ) কাস্পিয়ান সাগর

ঘ) ভূমধ্যসাগর

উত্তরঃ ঘ


৩. চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সমকোণে অবস্থান করলে যে জোয়ার হয় তাকে বলে- 

ক) মরা কটাল

খ) মুখ্য জোয়ার

গ) তেজ কটাল

ঘ) গৌণ জোয়ার

উত্তরঃ ক


৪. সংক্ষিপ্ত পথে চলতে গেলে নাবিককে অনুসরণ করতে হয় – 

ক) বায়ুপ্রবাহ

খ) সমুদ্রস্রোত

গ) স্থলভাগের অবস্থান

ঘ) পৃথিবীর আবর্তন

উত্তরঃ খ


৫. সমুদ্রে উষ্ণস্রোত ও শীতলস্রোতের মিলনস্থলে কী ঘটে?

ক) পানিপ্রবাহ থেমে যায়

খ) কুয়াশা ও ঝড় হয়

গ) সমুদ্রের পানিস্তর বেড়ে যায়

ঘ) পানি বরফে পরিণত হয়

উত্তরঃ খ


৬. তিনদিকে স্থলবেষ্টিত বিশাল পানিরাশিকে বলে – 

ক) মহাসাগর

খ) হ্রদ

গ) উপসাগর

ঘ) সাগর

উত্তরঃ গ


৭. জোয়ার সৃষ্টির কত ঘণ্টা পরে ভাটার সৃষ্টি হয়?

ক) ৬ ঘণ্টা

খ) ১২ ঘণ্টা

গ) ৬ ঘণ্টা ১৩ মি.

ঘ) ১১ ঘণ্টা

উত্তরঃ গ


৮. সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ কোনটি?

ক) গভীরতার তারতম্য

খ) উষ্ণতার তারতম্য

গ) লবণাক্ততার তারতম্য

ঘ) বাষ্পীভবনের তারতম্য

উত্তরঃ খ


৯. যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্রান্ড ক্যানিয়ন’ একটি – 

ক) গিরিপথ

খ) জলপ্রপাত

গ) গিরিখাত

ঘ) মালভূমি

উত্তরঃ গ


১০. দুই নদীর মধ্যবর্তী উর্বর অঞ্চলকে বলে – 

ক) মোহনা

খ) দোআব

গ) সাভানা

ঘ) মহীঢাল

উত্তরঃ খ


১১. বাংলাদেশের একমাত্র ‘ভূমিকম্প রেকর্ড কেন্দ্র’ কোন জেলায় অবস্থিত?

ক) বান্দরবন

খ) সিলেট

গ) রাঙামাটি

ঘ) চট্টগ্রাম

উত্তরঃ ঘ


১২. ‘দুর্যোগ প্রশমন’ বলতে কী বোঝায়?

ক) দুর্যোগপূর্ব ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ

খ) দুর্যোগপরবর্তী সাড়াদান

গ) দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি

ঘ) দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা

উত্তরঃ গ


১৩. ‘বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র’ সংস্থাটি কিসের অধীনে?

ক) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

খ) পানি উন্নয়ন বোর্ড

গ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো

ঘ) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

উত্তরঃ খ


১৪. ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন’ প্রণীত হয় কত সালে?

ক) ২০০১

খ) ২০১৫

গ) ২০১২

ঘ) ২০০৪

উত্তরঃ গ


১৫. ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ একটি – 

ক) গার্হস্থ্যবিদ্যা

খ) ব্যবহারিকবিদ্যা

গ) আবহবিদ্যা

ঘ) বাস্তুবিদ্যা

উত্তরঃ খ


১৬. ‘টাইফুন’ কোন ভাষার শব্দ?

ক) স্প্যানিশ

খ) গ্রিক

গ) আরবি

ঘ) চীনা

উত্তরঃ গ


১৭. ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় – 

ক) ১১০ কি. মি.

খ) ২২২ কি. মি.

গ) ১১৮ কি. মি.

গ) ৩২০ কি. মি.

উত্তরঃ গ


১৮. বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ংকারী বন্যা হয় – 

ক) ১৯৭০ সালে

খ) ১৯৯৮ সালে

গ) ১৯৮৮ সালে

ঘ) ১৯৯১ সালে

উত্তরঃ গ


১৯. পুনঃসঙ্ঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোনটি?

ক) ভূমিধ্বস

খ) বৃষ্টিপাত

গ) মাটিক্ষয়

ঘ) নদীভাঙন

উত্তরঃ ঘ


২০. ভূমিধ্বস সঙ্ঘটিত হয় না কোনটির কারণে?

ক) পাহাড় কর্তন

খ) অভিকর্ষীয় টান

গ) বৃষ্টির পানি জমা

ঘ) পাহাড়ে জুম চাষ

উত্তরঃ খ


২১. বায়ুমণ্ডলীয় দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত নয় – 

ক) খরা

খ) ঝড়

গ) বন্যা

ঘ) বজ্র

উত্তরঃ গ


২২. আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম কী?

ক) উইলি উইলি

খ) টাইফুন

গ) জোয়ান

ঘ) হ্যারিকেন

উত্তরঃ ঘ


২৩. বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় হয় – 

ক) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে

খ) এপ্রিল-মে মাসে

গ) নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে

ঘ) জুন-জুলাই মাসে

উত্তরঃ খ


২৪. SPARRSO কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে?

ক) প্রতিরক্ষা

খ) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

গ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ

ঘ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

উত্তরঃ ক


২৫. বর্তমানে বাংলাদেশের জন্যে সবচেয়ে মারাত্মক দুর্যোগ – 

ক) খরা ও মহামারী

খ) বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস

গ) ভূ-গর্ভস্থ পানি দূষণ

ঘ) মাটিক্ষয় ও ভূমিধ্বস

উত্তরঃ গ


২৬. বাংলাদেশে কোন দুর্যোগ ঘটার সম্ভাবনা নেই?

ক) ভূমিকম্প

খ) টর্নেডো

গ) সুনামি

ঘ) অগ্ন্যুৎপাত

উত্তরঃ ঘ


২৭. কত সালে ঘূণিঝড় সিডর উপকূলে আঘাত হানে?

ক) ২০০৬ সালে

খ) ২০০৭ সালে

গ) ২০০৮ সালে

ঘ) ২০০৯ সালে

উত্তরঃ খ


২৮. বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সর্বোচ্চ কত নম্বর পর্যন্ত সতর্কসংকেত প্রচার করা হয়?

ক) ৪ নং

খ) ১০ নং

গ) ১১ নং

ঘ) ১২ নং

উত্তরঃ গ


২৯. ‘দূর্যেোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর’ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

ক) ১৯৯২ সালে

খ) ১৯৯৩ সালে

গ) ১৯৯৪ সালে

ঘ) ১৯৯১ সালে

উত্তরঃ খ


৩০. SPARRSO কোথায় অবস্থতি?

ক) মোহাম্মদপুর

খ)  সেগুনবাগিচা

গ) শেরেবাংলা নগর

ঘ) আগারগাঁও

উত্তরঃ ঘ


গ্রন্থপঞ্জি:


১. রওশন আরা বেগম, আব্দুল হাই শিকদার প্রমুখ, ‘মাধ্যমিক সামাজিক বিজ্ঞান’ (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, মার্চ ১৯৯৬)

২. মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী, শওকত আরা বেগম প্রমুখ ‘বাংলাদেশে ও বিশ্বপরিচয়’ (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, অক্টোবর ২০১৩)

৩. সেলিনা শাহজাহান, ড. শেখ মো. রেজাউল করিম প্রমুখ, ‘ভূগোল ও পরিবেশ’ (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, অক্টোবর ২০১২)

৪. কে. আশরাফুল আলম, ‘বৈশ্বিক পরিবেশের প্রাকৃতিক ভূগোল (পারফেক্ট পাবলিকেশন্স, ঢাকা, ২০১৪)

৫. সংকলিত, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাপিডিয়া (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত, প্রকাশকাল: জুন ২০১১)

৬. রফিক আহমেদ, ‘আবহাওয়া ও জলবায়ুবিজ্ঞান’ (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৯৭)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *